নওগাঁশিরোনাম-২

‘জন আকাঙ্খার বাংলাদেশ’ দলে যোগ দিলেন নওগাঁর জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সাবেক চার নেতা

 

কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বেরিয়ে আসা দলটির সংস্কারপন্থীদের নিয়ে গঠিত ‘জন আকাঙ্খার বাংলাদেশ’ নামে নতুন দলে যোগ দিয়েছেন নওগাঁর জাতায় পার্টি (জাপা) ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক চার নেতা। গতকাল শুক্রবার নওগাঁর শহরের একটি অভিজাত হোটেলে দলটির এক মতবিনিময় সভায় তাঁরা এই দলে যোগ দেন।
এ সভায় জন আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুল দিয়ে দলে যোগ দেন জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডাভোকেট আতিকুর রহমান, জামায়াতের সাবেক জেলা আমীর এরফান আলী, সাবেক জেলা জামায়াত সেক্রেটারি আইনুল হক এবং নওগাঁ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও সাবেক জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক।
জন আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ দলের নওগাঁ জেলা সমন্বয়ক হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক জামায়াত নেতা জন আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ দলের সমন্বয়ক এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জন আকক্সক্ষার বাংলাদেশ দলের প্রধান সমন্বয়ক মুজিবুর রহমান মঞ্জু। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দলটির কেন্দ্রীয় সংগঠক শাহ আব্দুর রহমান, আনোয়ার সাদাত, মীর্জা সিদ্দিকুল ইসলাম প্রমুখ।
সভায় সাবেক জন প্রশাসন সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্য তৈরী করতে পারলে পরিবর্তন সহজতর হবে। যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী তাঁদের পরিহার করতে হবে। দেশের সকলের কন্ঠে আজ এক বক্তব্য তা হল ‘আমরা পরিবর্তন চাই’। কিন্তু এই পরিবর্তনের দায়িত্ব নিয়ে কেউ এগিয়ে আসছে না। আজকে প্রতিনিয়ত মানবিক মর্যাদা ও সুবিচার ক্ষুন্ন হচ্ছে। সেই দিক বিবেচনায় একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জন আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ’ নামে নতুন এই দল গঠন করা হয়েছে। মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে না গিয়ে ধর্ম-বর্ণের উর্ধ্বে উঠে মানুষের অধিকারকে প্রাধান্য দেওয়াই হচ্ছে এই দলের মূল নীতি।’
দলটির প্রধান সমন্বয়ক জামায়ত থেকে বহিস্কৃত নেতা মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘যাঁরা স্বাধীনতা এনেছিলেন তাঁরা ক্ষমতায় এসে জনগণের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। যাঁরা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে তাঁরা নতুন করে দেশ গঠন ও দেশের নেতৃত্ব নিতে চায়। যাঁরা এই দেশ চায়নি তারা যখন দেশের নেতৃত্ব চায় তখন তাদের প্রতিপক্ষ এটাকেই তাদের প্রধান ত্রুটি হিসেবে তাঁদের ঘায়েল করছে। গত কয়েক যুগ ধরে দেশের মানুষ দুই পক্ষের এই সংঘাত মূখর রাজনীতি নিয়ে বিরক্ত। এই হতাশা ও বিরক্তির অবসান করতেই নতুন রাজনীতি আজ অপরিহার্য্য।’
এই সভায় নওগাঁর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত লোকজনকে দেখা গেছে।
এ দিকে এ সভায় পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলটির নেতাকর্মী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০ টার কিছুক্ষণ পর শহরের ইডেন হোটেল মিলনাতয়নে সভা শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে পুলিশের একটি দল হোটেল মিলনায়তনের গেট বন্ধ করে দেয়। পুলিশের পাঁচটি প্রিজন ভ্যান পুরো হোটেল ভবন ঘিরে ফেলে এবং পুলিশ অনুষ্ঠানের মাইকের সংযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে অনুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের কপি দেখালে পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়।
দলটির নেতা এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের এই আচরণে আমরা ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও মর্মাহত। বাংলাদেশের আইনে সভা সমাবেশ করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আমরা সভা করার বিষয়টি আগেই অবহিত করেছি। পুলিশের দায়িত্ব সভার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু তারা তা না করে উল্টো এসেছে সভা বন্ধ করতে ও গ্রেপ্তার করতে।’
এ বিষয়ে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন রাশিদুল হক বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি নিয়ে এক ধরণের ভুল বোঝাবুঝির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। প্রথমে তথ্য আসে ওই সভায় সরকার বিরোধী কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। কিন্তু পরে বিস্তারিত জানার পর সেখান থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়া হয়।’ বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close