চারঘাটশিরোনাম

এবার মাদক দিয়ে পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিককে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবার মাদক দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এক সাংবাদিককে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীতে।এ পরিকল্পনার শিকার সাংবাদিক মিজানুর রহমান।

তিনি রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক সানশাইন , অনলাইন নিউজপোর্টাল সাহেববাজার২৪.কমের চারঘাট প্রতিনিধি ও দৈনিক যুগান্তরের চারঘাট উপজেলা প্রতিনিধি।তিনি উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক বলেও জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাম্মেল হক। চারঘাট উপজেলার মীরগঞ্জ গ্রামের  মনসুর রহমানের ছেলে সাংবাদিক মিজানুর রহমান।

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে মিজানুর রহমান নামের ওই সাংবাদিককে তুলে নিয়ে গিয়ে ফেনসিডিল ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার এই অভিযোগ জেলার চারঘাট থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

সাংবাদিকরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে সাংবাদিক মিজানুরকে। পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক ও মামলা ‘বাণিজ্য’, তল্লাশির নামে হয়রানি এবং লুটপাটসহ বিভিন্ন অনিয়মের খবর প্রকাশ করায় তার ওপর নেমে এলো এই হয়রানির খড়গ। পুলিশের এমন কাণ্ডে চরম ক্ষোভ এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজশাহীর সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, গত ২৮ জানুয়ারি ‘তল্লাশির নামে লুটপাট!’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তর এবং সানশাইনে একটি সংবাদ পরিবেশন করেন সাংবাদিক মিজান। এতে চারঘাটা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে নিজ থানা এলাকার বাইরে গিয়ে তল্লাশির নামে নগদ টাকা ও সোনার গয়না লুটপাটের অভিযোগ প্রকাশ পায়। বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ ভানুকর এলাকার গরু ব্যবসায়ী আখতার হোসেনের বাড়িতে ওই অভিযান চালানো হয়। আর এ অভিযানে অংশ নেন চারঘাট থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) উৎপল কুমার, এসআই শরিফুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ ও তরিকুল ইসলাম।

সংবাদটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া এসআই উৎপলকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করেন। আর অন্য তিন এসআই শরিফুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ ও তরিকুল ইসলাম বর্তমানে চারঘাট থানায় কর্মরত আছেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই সাংবাদিক মিজানুরকে ফাঁসানোর জন্য উঠেপড়ে লেগে ছিলেন।

চারঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাম্মেল হক রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি থানায় গিয়েছিলেন,তিনি জানান, পুলিশ মামলা দেওয়ার আয়োজন করছে। কিন্তু মিজানুর মাদকের সঙ্গে জড়িত নন। পুলিশ তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়েছে। এ নিয়ে জরুরী সভা করে তারা তাদের করণীয় ঠিক করবেন।

 

পুলিশ বলছে, বুধবার বিকালে চারঘাট পৌরসভার সামনে দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন মিজানুর রহমান। এ সময় তার গতিরোধ করে তল্লাশি করা হলে মোটরসাইকেলে রাখা একটি ব্যাগে ২২ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এছাড়া তার পকেটে মেলে ৭০ পিস ইয়াবা। তাই মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম সাংবাদিক মিজানুরকে ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিজানুরকে আটক করে থানায় নেওয়ার পর আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। আমি থানায় এলে মিজানুর বলেছেন, তিনি পরিস্থিতির স্বীকার। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। কিন্তু অনেক মানুষের সামনে থেকেই পুলিশ মিজানুরকে আটক করেছে। কেউ বলছেন না যে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।’

সাংবাদিক মিজানুর সম্প্রতি পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘উনি তো মাঝে মাঝেই পুলিশের বিরুদ্ধে লেখেন। মাদক নিয়ে লেখেন। তার অনেক রিপোর্ট আমাদের সহায়ক হয়। কিন্তু কখনও কখনও তিনি ‘উল্টাপাল্টা’ লেখেন। কয়েকদিন আগেও তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে লিখেছেন।’

থানায় আটক থাকা অবস্থায় সাংবাদিক মিজানুর রহমান তার সহকর্মীদের জানিয়েছেন, বিকালে এসআই শরিফুল ইসলাম কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার পথরোধ করেন। এরপর তাকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় নেয়ার পর পুলিশ তাকে একটি ব্যাগ দেখিয়ে বলেন, এই ব্যাগে তার কাছে ২২ বোতল ফেনসিডিল ও ৭০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে চারঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাম্মেল হক,রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী শাহেদ , উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকেরা বলেন,কতিপয় পুলিশ সদস্য নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে কণ্ঠরোধ করতে চাইছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সাংবাদিক মিজানুরকে মাদকদ্রব্য দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।  জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি সাংবাদিক মিজানুরের মুক্তি দাবি করছি।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

 

 

Close