নওগাঁশিরোনাম-২

নওগাঁয় অপহরনের আড়াই মাসেও উদ্ধার হয়নি পরিক্ষার্থী

মো.আককাস আলী, নওগাঁ: নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রথম বার্ষিক পরিক্ষা দেয়ার জন্য বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ থেকে নবম শ্রেনীর পরিক্ষার্থীকে প্রকাশ্য-দিবালোকে অপহরন করে নিয়ে যাওয়ার পর আড়াই মাস পেড়িয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অপহরনের শিকার শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো অপহরনকারীদের পক্ষনিয়ে অপহরনের শিকার (নাবালিকা) নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েকে অপহরনকারীর সাথে বিয়ে মেনে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীর পরিবারকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপহরনের শিকার (নাবালিকা) শিক্ষার্থীর পরিবার। একদিকে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তার ভূমিকা,অপরদিকে অপহরনকারীর সহযোগীরা ঘটনার পরের দিন মিষ্টি বিতরন করে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করায় দূ-চিন্তা ও আতঙ্কের মধ্যেদিয়ে দূর্বীসহ জীবন-যাপন করছেন অপহরনের শিকার শিক্ষার্থীর মৎস্যজীবি পিতা সহ দরিদ্র পরিবারটি।
অপহরনের শিকার পরিক্ষার্থীর পিতা নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের তেজপাইন গ্রামের সুরেশ চন্দ্র মন্ডল ও মাতা শ্রীমতি মলিনা রানী মন্ডল জানান, আমার নাবালিকা মেয়ে কুমারী লাবনী মন্ডল (১৪) পাশ্ববর্তী রসুলপুর উচ্চ-বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতেন। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে একই গ্রামের মৃত বৈদ্যনাথ হাওলাদারের কলেজ পড়–য়া লম্পট ছেলে মোহন চন্দ্র হাওলাদার (২২) ও তার সহযোগীরা বিভিন্নভাবে প্রেমের প্রস্তাব সহ অশ্লিল মন্তব্যকরায় এক পর্যায়ে মেয়েটি সম্পূনভার্বে ভেঙ্গে পড়েন এবং ঘটনাটি এসে বাড়িতে জানালে, আমরা প্রাথমিকভাবে ছেলেটি ও তার পরিবারে লোকজনকে জানিয়ে এমন আচরন করতে নিষেধ করি।
এরপর মোহন চন্দ্র হাওলাদার ও তার সহযোগীরা আরো বেপরোয়া হয়ে আমার মেয়েকে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসাকালে ফের হুমকি-ধামকি দিতে থাকলে আমার মেয়েটি বেশকিছুদিন বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ রাখেন। গত (২৭ নভেম্বর) বুধবার বার্ষিক পরিক্ষার প্রথমদিন সকালে পরিক্ষা দেয়ার জন্য আমার মেয়ে কুমারী লাবনী মন্ডল ও তার সহপাঠি কুমারী পাপিয়া মন্ডল, কুমারী হাসি মন্ডল একসাথে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বটতলি নামক স্থানে পৌছালে, এসময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থল থেকে সজল প্রমানিক (২২), সবুজ হাওলাদার (২৩) ও টুটুল হাওলাদার (১৭) এর সহযোগীতায় পাকুরিয়া গ্রামের জৈনক বিপ্লব হোসেন নামের এক যুবকের মোটর-বাইকে লাবনী মন্ডলকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় মোহন চন্দ্র হাওলাদার।
এরপর নিরুপায় হয়ে আমরা বাবা ও মা সহ প্রতিবেশী স্বজনরা দিনভর অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে ঘটনার দিনগত সন্ধায় মহাদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি এবং ঐ সময়ই নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই ফরিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেন।
এব্যাপারে (১৭ ফেব্রæয়ারী) সোমবার পর্যন্ত এখনো আমার মেয়ে উদ্ধার হয়নি জানিয়ে পরিক্ষার্থীর মাতা শ্রীমতি মলিনা রানী মন্ডল অভিযোগ করে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি কিছুই চাই না, শুধু আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জানিয়ে এসময় শ্রীমতি মলিনা রানী মন্ডল আরো বলেন, আড়াই মাস পেড়িয়ে গেলেও আমার মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কয়েকদিন আগে একবার আমাদের বাড়িতে এসে অপহরনকারীদের পক্ষনিয়ে উল্টো আমাদেরকেই বলেন যে আমরা যদি অপহরনকারী যুবককে জামাই হিসাবে মেনে নেই তবেই আমাদের মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে জানিয়ে বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এমন কথা বলায় এবং ঘটনার সাথে এখন পর্যন্ত জড়ীত কাউকে আটক না করার কারনে দূ-চিন্তা ও আতঙ্কের মধ্যেদিয়ে দূর্বীসহ জীবন-যাপন করছি আমরা।
এসময় গ্রামের অপর একনারী ও তদন্তকারীর এমন আচরনের ঘটনাটি জানিয়ে বলেন, আমরা যদি নাবালিকা কোন মেয়েকে বিয়ে দিতে লাগি তাহলেই ফাঁড়ি পুলিশ এসে সেই বিয়ে বন্ধ করেন এমনটা আমি পুলিশকে জানিয়ে শুধু বলেছি যে, আপনারাই ত এসে বিয়ে বন্ধ করেদেন এবং বলেন, মেয়ের বয়স ১৮ নিচে হলে কোনভাবে বিয়ে দেয়া যাবেনা এমন কথা বলায় সেই সময় পুলিশ রেগে ওঠেন বলেও জানানো হয়।
এঘটনায় স্থানিয় ইউপি সদস্য বিপুল কুমার হাজরাও তদন্তকারী কর্মকর্তা নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই ফরিদ এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার ভূমিকা রহস্যময় হওয়ায় স্থানিয় জনমনে ব্যাপক প্রশ্নর সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, অপহরনের শিকার ছাত্রীতে উদ্ধার না করে তিনি নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে দেয়া বা অপহরনকারীকে জামাই মেনে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক । এছাড়া অপহরন ঘটনার সাথে জরীতরা প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়ালেও তাদের আটক করা বা অপহরনের শিকার ছাত্রীকে উদ্ধারে তেমন ভূমিকা পালন করছেন না বলেও জানিয়েছেন।
লাবনীর পিতা পিতা সহ স্বজনরা বলেন, ঘটনার দিন রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যাওয়ার পরের দিন মূল অপহরনকারী মোহন চন্দ্র হাওলাদার এর সহযোগীরা তাদের বন্দু ও প্রতিবেশীদের মিষ্টি খাওয়ানো সহ আনন্দ উল্লাস করার পর থেকে এখন পর্যন্ত গ্রামে প্রকাশ্যেই ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন।এজন্য একদিকে মেয়েটিকে না পেয়ে ও অপরদিকে অপহরনকারীদের অত্যাচারে আমরা দিশেহারা ও অজানা আতংকের মধ্যেদিয়ে জীবন-যাপন করছি জানিয়ে বলেন, সহযোগীদের আটক পূর্বক জিজ্ঞাসাবাদ করলেই নাবালিকা মেয়েটিকে দ্রæত উদ্ধার করা সম্ভব হবে এমনটাই জানিয়ে এব্যাপারে মহাদেবপুর থানার ওসি সহ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মহোদয় সাহেব এর আশুদৃষ্টি কামনা করেছেন করেছেন অসহায় পরিবার সহ স্থানিয়রা।
এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই ফরিদ অপহরনের শিকার শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিয়ে মেনে নিতে বা অপহরনকারীকে জামাই হিসাবে মেনে নেওয়ার জন্য কোন প্রকার চাপ দেওয়া হয়নি জানিয়ে বলেন, মূলত ভিকটিমকে উদ্ধার করার পরিকল্পানা স্বরুপ তাদের সাথে এমন কথাবার্তা বলা হয়েছিলো।
ঘটনাটি বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, যতদ্রæত সম্ভব অপহরনের শিকার শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা সহ জরীতদের গ্রেফতার করার জন্য ইতি মধ্যেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close