ছবি ঘরজাতীয়শিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ রফিকউদ্দিন আহমদ

সংগ্রহ : অর্ণব পাল সন্তু

ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ রফিকউদ্দিন আহমদের একটি স্টুডিও ফটোগ্রাফ, তিনি তখন মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র।
পূর্বকথাঃ ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি।
শহরজুড়ে গুজব—রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আগামীকাল ছাত্ররা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে জড়ো হবেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। আর সবার ন্যায় রফিক উদ্দিনের ভগ্নিপতি মোবারক আলী খানও নিশ্চিত -ভীষণ কিছু একটা ঘটবে। রফিকের বাবা আবদুল লতিফ তখন ঢাকায় মুদ্রণব্যবসার সঙ্গে জড়িয়েছেন নিজেকে। আর রফিকের ভগ্নিপতি মোবারক আলী হাজি ওসমান গনি রোডে শুরু করেছেন বই বাঁধাইয়ের কারখানা। রফিক ইতিমধ্যে দেবেন্দ্র কলেজের পাঠ অসম্পূর্ণ রেখে ভর্তি হয়েছেন জগন্নাথ কলেজে। পড়ালেখার পাশাপাশি বাবার প্রেসের কাজ দেখাশোনা করছেন। সে রাতে তিনি গিয়েছেন ভগ্নিপতির কারখানায়। সংশয়ে, শঙ্কায় মোবারক আলী মিছিল-মিটিংয়ে যেতে নিষেধ করলেন রফিককে। মাঝরাতে রফিক ফিরে গেলেন নিজেদের প্রেসে।
কিন্তু এত বড় একটা আন্দোলন থেকে কি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন রফিক? না! তাই তিনি ভগ্নিপতির অগোচরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উপস্থিত হলেন। ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রয়াসে ১৪৪ ধারা ভাঙলেন। ফাল্গুনের অপরাহ্নে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হওয়ার পর তিনি অবস্থান নিলেন মেডিকেল কলেজ হোস্টেল ব্যারাকের সামনের রাস্তায়। পুলিশ লাঠিপেটা করল, নিক্ষেপ করল টিয়ার গ্যাসের শেল, মিছিল ছত্রভঙ্গ করার জন্য একপর্যায়ে বর্ষণ করা হলো তপ্ত, তিক্ত গুলি। সেই গুলিতে রফিক উদ্দিন আহমদের মাথার খুলি বিচূর্ণ হলো, সাথে সাথে হারালেন প্রাণ। মেডিকেল হোস্টেলের ১৭ নম্বর রুমের পূর্বদিকে তার লাশ পড়ে ছিল। ছয় সাত জন ধরাধরি করে তার লাশ এনাটমি হলের পেছনের বারান্দায় এনে রাখেন।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে রফিকই প্রথম গুলিবিদ্ধ হন। তিনিই ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহিত, ছবির উৎস : শহীদ রফিক স্মৃতি পাঠাগার, মানিকগঞ্জ।)

Close