বাগমারাশিরোনাম

বাগমারায় বিশেষ দিন ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উঠেনা জাতীয় পতাকা

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, সরকারী প্রতিষ্ঠান হলেও এখানে উঠানো হয় না জাতীয় পতাকা। স্বাধীন দেশে সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরী করেও মানছেন না সরকারী নিয়ম। এ যেন অনিয়মই নিয়মে পরিনত হয়েছে।
দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে কেবল জাতীয় দিবস গুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অন্যদিন গুলোতে আর উঠানো হয় না জাতীয় পতাকা। দীর্ঘ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন দেশ ও লাল সবুজের পতাকা। সেই স্বাধীনতার প্রতি এতোটুকু
সম্মান দেখাতেও ভলে গেছে সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্ত-কর্মচারীরা। জনবল সংকট না থাকলেও এ যেন তারই একটা উদাহরণ হিসেবে দেখা দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ স্বাধীনতার যুদ্ধে লাখো শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা পরিচয় টুকুও যেন মুছে দেয়ার চেষ্টা। সরকারী প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই কাজই হচ্ছে না এই স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে। সরকার স্বাস্থ্য সেবায় নিশ্চিতে বদ্ধ পরিকর। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়গ করে চলেছেন। অথচ সেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় পতাকাই উত্তোলন করা হয় না।
উপজেলা পরিষদ সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, থানা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ভবনে প্রতিনিয়ত উত্তোলন হয়ে থাকে জাতীয় পতাকা। সেখানে উপজেলা পরিষদের বাহিরে থেকে কেন স্বাধীনতাকে অবমাননা করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই বলেন সরকারী এই প্রতিষ্ঠানে কেন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না। এখানে কি কেউ থাকে না। যারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবে। এ রকম একটি সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিনের পর দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে না তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন তারা। একটি পতাকা একটি দেশ, একটি পরিচয়। সেই জায়গা থেকে হলেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা প্রয়োজন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার গোলাম রাব্বানীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা কেবল জাতীয় দিবসগুলোতেই জাতীয় উত্তোলন করে থাকি। সরকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরেও অন্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় কেন প্রতিদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমার জানানেই যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ বলেন, সরকারী প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে না এ রকম কোন নিয়ম আমার জানা নেই। শুধু জাতীয় দিবস নয় প্রতি দিনই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। স্বাধীন দেশ এবং লাল সবুজের পতাকার জন্য লাখো বাঙ্গালী দিয়েছেন আত্মহুতি। সে কথা আমাদের অস্বীকার করার উপায় নেই। কেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না সেটা খতিয়ে দেখা হবে।বরেন্দ্র বার্তা/সরা/অপস

Close