বাগমারাশিরোনাম-২

বাগমারায় বন্ধুর স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী দাবী, এলাকায় চাঞ্চল্য

আব্দুল মতিন, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌর মহল্লায় বন্ধুর স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী দাবী করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে দুই স্বামীই এখন পুলিশের দারস্থ হয়েছে। তারা দুজনেই ওই নারীকে তাদের স্ত্রী বলে দাবী করে ফিরে পেতে চাইছে। তবে ওই নারী এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় দুই স্বামীই তার সুস্থ্যতার অপেক্ষায় রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার দানগাছী মহল্লায়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, দানগাছী মহল্লার মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে শাহীন পেশায় একজন মাইক্রো ড্রাইভার। শাহীনের ঘরে রয়েছে সুন্দরী স্ত্রী। ড্রাইভারী পেশার সুবাদে শাহীন দূর দূরান্তে গেলে তার স্ত্রীর প্রতি কুনজর পড়ে একই মহল্লার মৃত হামেদের ছেলে সুমনের। সুমন পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। সুমন এর আগে পর পর তিনটি বিয়ে করলেও দুইটির সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বর্তমানে তার ঘরে রয়েছে একটি স্ত্রী। এই স্ত্রী থাকার পরও সুমন প্রতিবেশি ড্রাইভার ও তার বিশ্বস্থ বন্ধু শাহীনেস্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। গত ১ মার্চ শাহীন মধ্যরাতে বাড়ি ফিরে এসে ডাকাডাকি করে স্ত্রীর কোন সাড়াশব্দ পায় না। এ সময় প্রতিবেশি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে রাতভর স্ত্রীকে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়। বউয়ের সন্ধান পেতে বাগমারা থানায় অভিযোগ করে শাহীন। এরপর পুলিশ তার স্ত্রীর মোবাইল ট্র্যাক করে মেকার সুমনের বাড়ির দোতলায় শনাক্ত করে। এ সময় পুলিশের সহযোগিতায় বউকে অচেতন অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্বামী শাহীনের হাতে তুলে দেয়া হয়। ওই দিনই শাহীন তার অচেতন বউকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। বউয়ের শয্যা পাশে থেকে স্বামী শাহীন তার চিকিৎসা চালাতে থাকে। বর্তমানে ওই নারী চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এক পর্যায়ে সুমন গত ২৪ ফ্রেব্রুয়ারী তারিখে শাহীনের বউকে রেজিষ্ট্রি কাবিননামা মূলে বিবাহ করেছে মর্মে একটি কাবিননামা নিয়ে স্ত্রী দাবী করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে হাজির হয়। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান জানান, এই ঘটনাটি নিস্পত্তি করার জন্য ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়েছে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close