চারঘাটশিরোনাম

চারঘাটে শ্রমিক দিয়ে চলছে অবৈধ পুকুর খনন

 

মো: সজিব ইসলাম,চারঘাট: অবৈধ ভাবে পুকুর খনন বন্ধে নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনের নোটিশ টাঙানো, মেশিন অকেজো করা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল জরিমানা চলছে। তারপরেও রাজশাহীর চারঘাটে থামছে না কৃষি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন। যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে পুকুর খনন সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এবার তারা শ্রমিক দিয়ে পুকুর খনন শুরু করেছেন।
জানা যায়, চারঘাটে পুকুর কাটার সাথে সংশ্লিষ্টদের জেল-জরিমানা ছাড়াও অকেজো করা হচ্ছে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এস্কেভেটর মেশিন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোড়ে মোড়ে টাঙানো হয়েছে অবৈধ পুকুর কাটা বন্ধের নোটিশ। মাইকিং করা হয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়নে। এত কিছুর পরও থামানো যাচ্ছে না পুকুর খনন।বর্তমানে বেশির ভাগ পুকুর খনন হচ্ছে শুধু মাছ চাষের জন্য নয়, মাটি বিক্রির জন্যও। অবৈধভাবে ট্রাক্টরে মাটি সরবরাহ বন্ধ হলে এলাকায় অর্ধেক পুকুর খনন কমে যাবে এবং রক্ষা পাবে গ্রামীণ রাস্তা। অহরহ ঘটা দুর্ঘটনাও বন্ধ হবে বলে ধারণা সচেতনমহলের।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের বালুদিয়াড় গ্রামের আজিজুলের মোড়ে পলাশ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি তিন ফসলি জমি নষ্ট করে শ্রমিক দিয়ে পুকুর খনন করছেন। খননকাজ চলা এই জমির চারপাশেও গম, সরিষা ও আম বাগানসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু সবকিছু উপক্ষিত করে প্রায় ৪০ জন শ্রমিক দিয়ে পুকুর খননের মহা উৎসব চলছে। মাঝে মাঝে রাতেও চলছে খনন।
পুকুর খননের বিষয়ে পলাশ আহমেদ বলেন, শ্রমিক দিয়ে জমির মাটি কেটে রাস্তার পাশের গর্ত ভরাট করছেন তিনি। এজন্য অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন নি। গর্ত ভরাট করতে এত শ্রমিক ও টাক্ট্ররে মাটি বহনের প্রয়োজন কেন জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
একই ইউনিয়নের বালুদিয়াড় কারিগরি কলেজের পাশে গাছ ও ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করছেন লিয়াকত আলী নামের এক ব্যাক্তি। তিনিও শ্রমিক দিয়ে পুকুর খনন করছেন। এছাড়াও উপজেলার সকল ইউনিয়নেই বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের ছত্রছায়ায় ভেকু এবং শ্রমিক দিয়ে চলছে পুকুর খনন। কোনো আইনই থামাতে পারছেনা এসব পুকুর খননকারীদের।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনজুর রহমান বলেন, ‘কৃষি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন সম্পূর্ণ অবৈধ। যেসব স্থানে পুকুর খননের খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান চালাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা। তারপরও পুকুর খনন বন্ধে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।’
এ বিষয়ে চারঘাটে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে আমাদের অভিযান সব সময়ই চলমান আছে। এরপরও যদি আইন অমান্য করে কেউ পুকুর খনন করে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে’। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close