শিরোনাম-২স্বাস্থ্য বার্তা

করোনা ভাইরাস : হটলাইন ও যা যা জানা জরুরী

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: চীনের উহান থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিশ্বের শতাধিক দেশে ছড়িছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। শনিবার (৭ মার্চ) ইতালি ফেরত দুইজনসহ মোট তিনজন বাংলাদেশির শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।
শরীরে করোনার লক্ষণ উপলব্ধি করার পর ওই রোগীরা নিজ থেকেই আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এরপরই তাদের নমূনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হয় তারা করোনায় আক্রান্ত।
এদিকে গতকাল (শনিবার) সংবাদ সম্মেলনে সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, যারা আক্রান্ত দেশ থেকে ভ্রমণ করে এসেছেন এবং যাদের মধ্যে করোনার লক্ষণ-জ্বর, কাশি, গলাব্যথা বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ রয়েছে, তারা আমাদের হটলাইনে যোগাযোগ করবেন।
হটলাইন নম্বরগুলো হলো: ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১।
যদি কারও মধ্যে শ্বাসকষ্ট থাকে তাহলে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘হাসপাতালে যাবেন এবং আমাদের সাথে হটলাইনেও যোগাযোগ করবেন। আপনারা যেসব হাসপাতালে যাবেন সেখান থেকেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিশ্চিত করা হবে করোনা আছে কি-না।

করোনাভাইরাস: যে ১৪টি বিষয় জানা জরুরি
করোনাভাইরাসের কোনো ওষুধ নেই। ফলে সতর্কতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই এই ভাইরাস মোকাবিলার একমাত্র উপায়।
চীনের উহান শহর থেকে ইতিমধ্যেই বিশ্বের ৯৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। মারা গেছে ১৬টি দেশের সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার মানুষ।
বাংলাদেশের তাপমাত্রাও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার উপযোগী বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
আইইডিসিআর জানিয়েছে, তাপমাত্রার সঙ্গে করোনা ভাইরাসের কোনো সম্পর্ক নেই। উচ্চ তাপমাত্রা আছে এমন দেশেও করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। করোনা ভাইরাস সর্বোচ্চ ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। এর ওপরে গিয়ে আর টিকতে পারে না। অথচ পৃথিবীর কোনো দেশেই এতো তাপমাত্রা নেই।
সুতরাং গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রায় করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাবে এ ভরসায় বসে থাকা যাবে না। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আমাদের সকলেরই যে ১৪টি বিষয় জানা জরুরি…
১. বারবার হাত ধোয়া এবং হাত দিয়ে মুখমণ্ডল স্পর্শ না করা:
করোনা ভাইরাস মূলত নাক, মুখ এবং চোখের মধ্য দিয়ে দেহে প্রবেশ করে। সুতরাং হাত পরিষ্কার রাখা এবং হাত দিয়ে মুখমণ্ডল স্পর্শ না করার ব্যপারে সতর্ক থাকতে হবে।

২. বাড়ির বাইরে বা ভ্রমণে গেলে মাস্ক পরা:
আপনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকলে মাস্ক পরলে তা অন্যের দেহে ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে। আর আক্রান্ত না হয়ে থাকলে মাস্ক আপনার নিজের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাবে।

৩. বিদেশে ভ্রমণ করে আসাদের দেহ স্ক্রিনিং করা:
বিদেশ থেকে আসা সব মানুষের ভাইরাস স্ক্রিনিং করানো জরুরি। বিশেষ করে যারা চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ইটালি ও জাপানে ভ্রমণ করেছে তাদেরকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

৪. অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতেই অবস্থান করুন:
করোনাভাইরাস খুব সহজেই একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সুতরাং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বোধ করলে বাড়িতে অবস্থান করাই ভালো।

৫. ফ্লু’র টিকা নেওয়া যেতে পারে:
ফ্লু ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিলে হয়তো করোনা দূর হবে না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কেউ করোনার সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জায়ও আক্রান্ত হতে পারে। এবং তা দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। সেক্ষেত্রে ফ্লু’র টিকা নিলে তা শরীরকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সচল রাখবে।

৬. দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা:
ঘরের বাইরে গিয়ে করা কাজগুলো সম্ভব হলে ঘরে বসেই করার ব্যবস্থা করতে হবে। সম্ভব হলে অফিসের কাজ ঘরে বসেই করার বন্দোবস্ত করতে হবে। বাচ্চাদের স্কুল-কলেজে যাওয়া আপাতত সীমিত করা বা সম্ভব হলে বাড়িতেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৭. খাদ্য ও ওষুধের প্রস্তুতি:
এর প্রাদুর্ভাবে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বিপত্তি ঘটতে পারে। সেজন্য প্রস্তুতি থাকা ভালো। ২০০৯ সালে এইচওয়ান এনওয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার সময়ে স্কুল বন্ধ সহ অনেক অনুষ্ঠানও বাতিল করতে হয়েছিলো নানা দেশে।

৮. করোনার বৈশ্বিক মহামারি কি আসন্ন?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো করোনভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেনি। তবে ভাইরাসটি বৈশ্বিক মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আর তা মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রস্তুতি নেওয়া শুরুও করে দিয়েছে। তবে এখনই তা নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

৯. কোভিড-১৯ আসলে কতটা বিপজ্জনক?
চীনের যে উহান শহর থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে সেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ২-৪ শতাংশ। উহানের বাইরে অন্য শহরে এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার মাত্র ০.৭%। আর বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্তদের মধ্যে এই ভাইরাস বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

১০. কোভিড-১৯ এর লক্ষণগুলো কী?
কফ ও কাশি এবং শ্বাসকষ্ট। সাথে জ্বরও থাকে।

১১. কোভিড-১৯ ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?
খুবই সহজেই ছড়াচ্ছে কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস। করোনায় আক্রান্তও ব্যক্তির হাঁচি বা নাকঝাড়া থেকে কারো দেহে কফ লাগলে এই ভাইরাস ছড়ায়। দেহের বাইরে ৯দিন পর্যন্ত এই ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে এবং অন্যকে আক্রান্ত করতে পারে।

১২. আমরা কীভাবে সুরক্ষিত থাকতে পারি?
যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে আলাদা করে রাখতে হবে। ঘরের বাইরে না যাওয়া। বেশি বেশি হাত ধোয়া।

১৩. হাত ধোয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
এটা আপনার প্রতিরক্ষার মূল পদক্ষেপ। করোনা ভাইরাস যেহেতু দেহের বাইরে ৯ ঘন্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে সেহেতু শুধু রোগীর কাছাকাছি আসা ছাড়াও এই ভাইরাস কোনো বস্তুতে লেগে থেকে অন্যকে আক্রান্ত করতে পারে।

১৪. কতক্ষণ ধরে বা কীভাবে হাত ধুতে হবে?
টেপের পানি ছেড়ে রেখে হাত ধুতে হবে। সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাতের তালু ও পিঠ কবজি পর্যন্ত ডলে ডলে ধুতে হবে। হাতের আঙ্গুল এবং নখ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close