মহানগরশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম-২

রাজশাহী কলেজে নারী দিবস পালিত

মহানগর প্রতিবেদক: সারা দেশে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ব্যতিক্রম নয় দেশসেরা রাজশাহী কলেজ। কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। রোববার (৮ মার্চ) কলেজের পৃষ্ঠপোষকতায় নারী অধিকার বিষয়ক সংগঠন ‘অনিন্দিতা’র আয়োজনে র‌্যালি, আলোচনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিন সকালে কলেজ প্রশাসনের নির্দেশনায় নারীরা বেগুনি ও সাদা রংয়ের শাড়ী পরে র‌্যালিতে অংশ নেন। রঙ দুটি সুবিচার ও মর্যাদা নির্দেশ করে। যা দৃঢ়ভাবে নারীর সমতায়ন। র‌্যালিটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সকাল ১০টার দিকে কলেজের শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান ভবনের ১০১ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. নাজনীন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাঃ আব্দুল খালেক, শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক ও ইংরেজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর পিযুষ কান্তি ফৌজদার, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর নারগিস জাহান প্রমূখ।
‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জেন্ডার সমতা ও নারী অধিকার’ শীর্ষক আলোচনার মূল আলোচক ছিলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নূসরাত জেরিন এ্যানী।
মূল আলোচক তার বক্তব্যে বলেন, নারী দিবসের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জেন্ডার সমতা ও নারী অধিকার জেন্ডার হলো একটি সামাজিক নিয়ম যেখানে নারী ও পুরুষ সমন আচরণ করতে বুঝায়। কিন্তু আমরা সমাজকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে দিচ্ছি। নারীদের অসমতা দেখতে পাওয়া যায় তাদের পরিবার ,কর্মক্ষেত্রে, আইনগত সুবিধা,সম্পদ উত্তরাধিকার-সহ প্রায় সব জায়গায়।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের পড়াশোনা করা হয় বিয়ের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। রয়েছে শিক্ষার ক্ষেত্রে অসমতা। মেয়েদের শিক্ষার হার ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ আর পুরুষদের শিক্ষার হার ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রেও রয়েছে অসমতা। কর্মক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের চেয়ে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কম বেতন পায়। তবে মালিকানা ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়, কোন নারীর সক্ষমতা থাকা স্বত্বেও তাকে উচ্চ পর্যায় চাকরি দেয়া হয় না।
এছাড়াও তিনি বলেন, নারীদের ওপর হওয়া বৈষম্য, নির্যাতনের বিরুদ্ধে করা প্রতিবাদে নারীদের জাগ্রত করাই নারী দিবস পালনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সকল নারী কোনো না কোনভাবে সমাজ থেকে নির্যাতিত হচ্ছে। রাস্তা-ঘাটে ৫৪ শতাংশ নারী নির্যাতিত হচ্ছে। গবেষণাতে দেখা যায়, সংস্কৃতির কারণে নারীরা এগিয়ে যেতে পারে না। সংস্কৃতি কারনের পেছনে নার দের জন্য নারীরা পিছিয়ে যাচ্ছে বলে আলোচনায় তুলে ধরে তিনি। বরেন্দ্র বার্তা/মিআআ/অপস

Close