জাতীয়শিরোনাম-২সম্পাদকীয়-কলাম

করোনা নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের প্রস্তুতি: আশা- হতাশা

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম করোনা ভাইরাসের প্রস্তুতি নিয়ে তার ফেসবুকে পেইজে স্ট্যটাস দিয়েছেন। তিনি বিমান বন্দরের প্রস্তুতি নিয়ে উচ্ছসিত প্রশংসা করেছেন এবং পাশাপাশি বেশ কিছু দেশের নাম উল্লেখ করে তুলানা করেছেন যে আমাদের দেশের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ প্রস্তুতি যথেষ্ট ভাল। তিনি তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন :
“আমরা থুতু দিয়ে টাকা গুনি, তারা করোনা কিভাবে মোকাবিলা করবে বলে শংকা প্রকাশ করছেন তাদের জন্য, আমি নিজে গত ছয় সপ্তাহে দুবাই, জেদ্দা, ব্রাসেলস, ভিয়েনা এবং জেনেভা বিমাবন্দরগুলোতে গিয়েছি। এই বিমানবন্দরগুলোতে বাধ্যতামূলক কোন ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা দেখিনি।
গতকাল আমার পরিচিত একজন ওয়াশিংটন, আর্মস্টাডাম, ইস্তানবুল ঘুরে ঢাকা এসেছেন। তার একজন সফরসংগী জেএফকে বিমানবন্দর দিয়ে নিউইয়র্ক ফিরেছেন আজ সকালেই।
তাদের দুইজনের মতে ঢাকা বিমানবন্দরের মত করোনা রোধে প্রস্তুতি এইসব বিমানবন্দরগুলোতে নেই। এমনকি ঢাকা বিমানবন্দরে যেভাবে জীবানুনাশক দিয়ে প্রতিনিয়ত পরিস্কার করা হচ্ছে তাও ঐসব বিমানবন্দরগুলোতে করা হচ্ছেনা। এই তথ্যটা তাদের জন্য যারা দেশ নিয়ে হাতাশায় ভুগতে পছন্দ করেন।
করোনার বিশ্বজুড়ে মহামারী ‘উন্নত’ দেশগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা ভংগুর তা চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
আমি অবশ্যই মানি যে আমাদের অনেক কিছুতেই সক্ষমতা এখনো তৈরী হয়নি কিন্তু একই সাথে আমি মনে করি আমরা অনেক কিছুই পারি যা অন্য অনেকেই পারেনা। আমাদের মত দূর্যোগ মোকাবিলা করার ক্ষমতা খুব কম দেশেরই আছে।
এইসময়গুলোতে কোন ব্যবস্থাই শতভাগ নিরাপদ নয় তাই সকলের সমন্বিত সতর্কতা ছাড়া এটা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
সবাই ভালো থাকবেন। নিরাপদে থাকবেন।”
এই প্রেক্ষিতে তার স্ট্যাটাসে জনৈক ব্যবসায়ী কুমিল্লার আরিফুর রহমান বাবু কমেন্টে লিখেছেন “সৌদিতে আজকে ১৫মিনিটে জুমা’র খুতবা-নামাজ শেষ করার সরকারি নির্দেশ ছিল। কুয়েতে আজকে থেকে মসজিদে নামাযের জামাত হবেনা, শুধু আযান হবে। মিডেল ইস্টে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরোপ, চায়না, ভারত, পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট বন্ধ। গালফ দেশের নিজেদের মধ্যেই ফ্লাইট বন্ধ।
ইউরোপের দেশগুলোতেও সেইম অবস্থা, ইতালির অবস্থা তো ভয়াবহ, আপনি ঘর থেকে অপ্রয়োজনে বের হলে জরিমানা গুনতে হবে । আমেরিকা তে এখনো করোনা ভাইরাস ছড়ানোর তেমন খবর পাওয়া যায়নি, কিন্তু এখনই তারা ইউরোপ সহ বিভিন্ন ভাইরাস কবলিত দেশের সাথে ফ্লাইট বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।
আমরা কি করছি? করোনা ভাইরাস খুব বেশি তাপমাত্রায় বাচে না, যারা রুগী তারা ছাড়া অন্যদের মাস্ক পরা লাগে না, এইরকম নিত্যনতুন থিওরি নিয়ে আসছি। চায়নার রাষ্ট্রদূত ‘বাংলাদেশের প্রত্যেকটা বন্দরে থার্মাল স্ক্যানার বসানো জরুরি’ বলে আমাদের সাবধান করে দেন, আর আমরা কি করছি? ওয়াজ মাহফিল চলছে, কনসার্ট চলছে, চট্টগ্রামে নির্বাচন চলছে, স্কুল-কলেজ চলছে, আক্রান্ত দেশ থেকে সব ফ্লাইট স্বাভাবিক ভাবে আসছে!
আমাদের দেশে মানুষের মৃত্যুকে খুব সাধারণ ভাবেই দেখা হয়, প্রতিদিন সড়ক দূর্ঘটনায় কত মানুষ মারা যাচ্ছে! । লঞ্চডুবিতে একসাথে কত মানুষ মারা যায়, কোন বিকার নাই আমাদের। কোন বিচার নাই, ক্ষতিপূরন নাই!
এই যে আমাদের সম্মানিত মন্ত্রী সাহেব একটা স্ট্যাটাস লিখে দিলেন যে আমাদের দেশের বিমানবন্দরের মত করোনা প্রতিরোধ প্রস্তুতি উন্নত দেশগুলিতেও নেই(?!), এরপরে কি আর কারো কিছু বলার আছে? আল্লাহ ভরসা।
প্রথম প্রথম যখন চায়নাতে ভাইরাস ছড়ালো তখন যে সকল অতি ধার্মিক লোকজন এটাকে সরাসরি “আল্লাহর গজব” বলেছেন, তাদের এখনকার ভাষ্য কি? ধর্ম দিয়ে সবকিছু বিচার করতে হবে? আমি-আপনি সাধারণ মানুষ, ধর্ম মানবো, আল্লাহর আযাব-গজব-পরীক্ষা নিয়ে বলার মত ক্ষমতা আল্লাহ রাব্বুল আলআমিন আমাদের দিয়েছেন? গায়েবের মালিক আল্লাহ, মন্তব্য যত কম করবেন তত গুনাহ থেকে বেচে থাকবেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলআমিন সবাইকে সুস্থ রাখুন, আমিন।”
এর মধ্যে দিয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের মন্তব্যে মানুষ আশাবাদী হলেও কমেন্ট পড়ে অনেকেই দেশের প্রস্তুতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

Close