মহানগরশিরোনাম

রাজশাহীর তিন স্টেডিয়ামে কোয়ারেনটাইন সেন্টার

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভাগের তিনটি স্টেডিয়ামকে কোয়ারেনটাইন সেন্টার হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্টেডিয়ামগুলো হচ্ছে মহানগরীর সপুরায় জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম, তেরোখাদিয়ায় অবস্থিত শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও তার পাশের মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স। এসব স্টেডিয়ামে করোনার সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা কোয়ারেনটাইনে থাকবেন।
আশার কথা হচ্ছে এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত বা হোম কোয়ারেনটাইনের খবর পাওয়া যায়নি। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায় তিনটি মেডিক্যাল টিমও গঠন করা হয়েছে।
করোনা মোকাবিলায় আরও বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য একটি সম্পূর্ণ হাসপাতালসহ (সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতাল) সাতটি সেবাকেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইতোমধ্যেই পাঁচ বেডের করোনা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে বিভাগের আশপাশের জেলার মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠান। এমনকি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। রাজশাহীর সিভিল সার্জন, রামেক হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ও পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের জন্য আগাম চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক বৈঠকও হয়েছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. হামিদুল হককে সভাপতি ও রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হককে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি করা হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে অন্তত ৩৫০ শয্যার। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে হ্যান্ড থার্মাল ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজশাহীতে সংক্রমণ ব্যাধি (আইডি) হাসপাতালে ৩০ শয্যার একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। রামেক হাসপাতালের আউটডোরে বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে দুটি পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে। সরাসরি চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক-নার্সদের জন্যও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা।
রাজশাহীর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য বলেন, করোনা মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখনো করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া না গেলেও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছি।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমাদের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। বরেন্দ্র বার্তা/অপস
সুত্র: আমাদের সময়

Close