পাবনাশিরোনাম-২

শিশু তানিয়া হত্যা মামলায় আরজু কাজীকে মুক্তির দাবিতে পাবনায় সংবাদ সম্মেলন

শফিক আল কামাল, পাবনা: পাবনা নাজিরগঞ্জের ৫বছরের শিশু তানিয়া হত্যা মামলায় ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী প্রতিবেশী আরজু কাজী (১৪) কে মুক্তির দাবিতে তার বাবা হায়দার কাজী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। রবিবার (১৫’মার্চ) দুপুর ১২টায় পাবনা প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হায়দার কাজী একই এলাকার আব্দুস সাত্তার খানের ছেলে শাহীন খানকে এ মামলার মূলহোতা উল্লেখ করে তার শিশু সন্তান আরজু কাজীকে মুক্ত করতে সংবাদ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেন। ৫বছরের শিশু তানিয়া হত্যার ৫মাস অতিবাহিত হলেও প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি সুজানগর থানা পুলিশ।

পাবনা নাজিরগঞ্জের এলাকার আব্দুস সাত্তার খানের ছেলে বর্তমান বগুড়া জেলার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার খানের প্রভাবে শিশু তানিয়া হত্যার প্রকৃত আসামী ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে। এ ঘটনায় ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আরজু কাজী (১৪) জেল খাটছে। সে বর্তমানে যশোর শিশু কারাগারে কষ্টের কারভোগ করছে। পিতা হায়দার কাজী ভাঁড়ায় মাছধরা নৌকায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সন্তানের জন্য এই নুন্যতম আয়ের কারণে কোন কিছু করতে পারছে না। এ অবস্থায় এলাকার কিছু লোকের সহায়তায় ছেলেকে মুক্ত করার জন্য পাবনায় সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তার বর্ণনায় জানা যায়, শিশু তানিয়ার মায়ের সাথে ওসি আনোয়ারের আপন ছোট ভাই শাহীন দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক গোড়ে তোলে। হঠাৎ একদিন শিশু তানিয়া অনৈতিক আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে নির্মমভাবে তানিয়াকে হত্যা করে ইট বেঁধে পুকুরের সিড়ির নিচে ডুবিয়ে রাখে শাহীন ও তার লোকজন। হত্যার আগে তানিয়া ঐ এলাকার হায়দার কাজীর ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আরজু কাজী খেলাধুলা করছিল। এই সুযোগ নিয়ে কৌশলে শাহীন তার ভাই ওসি আনোয়ারে জোরে প্রভাব খাটিয়ে নিঃশ্বপাপ শিশু আরজু কাজিকে ফাঁসিয়ে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। এরপর এ ঘটনায় আরও ৩জনকে আটক করা হয়। এ স্পর্শকাতর মামলায় ঐ ৩জনের জামিন হলেও এখন পর্যন্ত আরজু কাজী যশোর জেলখানায় কষ্টের জীবন অতিবাহিত করছে। পাবনার বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আরজু কাজীর বয়স কম দেখে যশোর শিশু আদালতে প্রেরণ করেন। বার বার তারিখ পরলেও মুক্তি পাচ্ছে না আরজু কাজী। অন্যদিকে আরজু কাজীর পিতা হায়দার কাজীকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে শাহীন ও তার লোকজন।

হায়দার কাজী ছেলেকে মুক্ত করার জন্য সাংবাদিকদের কাছে স্পর্শকাতর এ হত্যা মামলার সুষ্ঠ তদন্তসাপেক্ষে আরজু কাজীকে মুক্তি দিয়ে শাহীনসহ প্রকৃত আসামীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানান।
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close