নাগরিক মতামতশিরোনাম-২

করোনা ভাইরাস ও নগর প্রান্তিক মানুষ: সংকট মোকাবেলায় ভাবতে হবে এখনই

শহিদুল ইসলাম

 

সারা বিশ্বব্যাপী বর্তমান আতংকের নাম করোনা ভাইরাস বা নোভেল করোনা ভাইরাস (2019-nCoV)| । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের মাঝে সংক্রমিত হচ্ছে। দিনে দিনে তা ভয়াবহ আকার ধারন করছে। বাংলাদেশেও এই ভাইরাসে মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার (১৮ মার্চ) বিকালে মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট( আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদা সেব্রিনা ফ্লোরা সংবাদ সম্মেলনে জানান-এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তে একজন বৃদ্ধ মারা গেছেন। তিনি আরো বলেন এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে ১৪ জন। দিনে দিনে তা বাড়ার সম্ভাবনাও আছে। করোনা ভাইরাস নিয়ে যেমন মানুষের মধ্যে কৌতুহুল, আতংক এবং জনসচেতনতা বেড়েছে। তেমনি অনেক মানুষ এই করোনা ভাইরাস বিষয়ে নানা ভুল তথ্যও পরিবেশন করছেন সামাজিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে। এর ফলে মারাত্বক সংকট বেড়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিবে গ্রাম ও শহর প্রান্তিক মানুষগুলোর মাঝে।
করোনা ভাইরাস যেমন বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। তেমনি এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী এবং মানুষ একে কেন্দ্র করে অনৈতিকভাবে ব্যবসায়ে অনেক বেশী লাভবান হচ্ছেন। সমস্যায় পড়ছে শহর প্রান্তিক মানুষসহ গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। দিনে দিনে মানুষের মধ্যে সচেতনতা যতই বাড়ছে ততই মানুষ ঘরমুখো হচ্ছে। বিভাগীয় শহরগুলোতে মানুষের যাতায়াতের জন্য যানবাহনগুলো ফাকা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা রিকসা, ঠেলাগাড়ি, ভ্যান এবং রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের আয়ের সাথে জড়িত সেইসকল প্রান্তিক খেটে খাওয়া মানুষগুলোর সমস্যা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার বিভিন্ন ছোট খাটো বিভিন্ন দোকান পাট বা মুদি দোকানগুলোও যদি বন্ধ বা ক্রেতা কমে যায় তাহলে তাঁদের বাকী আয়ের পথটুকুও বন্ধ হয়ে যাবে। একদিকে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করেছে , অন্যদিকে শহর প্রন্তিক খেটে খাওয়া মানুষগুলোর আয় রোজগারের ব্যবস্থাও কমে যাচ্ছে, যার ফলে আর্থিক অভাবে শহরের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর জন্য খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষ ক্রয়ক্ষমতা নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায় রাজশাহী শহরের বস্তি পর্যায়ের কিছু মানুষ যারা রাস্তার বিভিন্ন রকম রোজগারের সাথে জড়িত তাদের আয় আগের তুলনায় কমে গেছে। এমনকি বস্তির মানুষ যারা ভিক্ষা করে হলেও সংসার চালাতো তাদেরকে ভিক্ষা দেবার মানুষও কমে গেছে। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলোর সমস্যা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে নগরে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বস্তি শুমারী ২০১৪ অনুযায়ী দেখা যায় রাজশাহীতে ছোট বড় মিলে বস্তির সংখ্যা ১০৪টি। মোট খানার সংখ্যা ১০২০২, যার জনসংখ্যা ৩৯০৭৭ জন। এরকম আমাদের দেশের প্রতিটি নগরের মধ্যে দিনে দিনে নানা কারনেই বস্তিবাসী নগর প্রান্তিক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যাদের মূল আয়ের উৎস নগরকে কেন্দ্র করেই। রাজশাহীর চিত্র আরো ভয়াবহ, এখানে কোন কলকারখানা না থাকায় রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে বা ছোট দোকানে কাজ করেই বেশী আয় উন্নয়ন করে এই বস্তিবাসী ও নগর প্রান্তিক মানুষগুলো। তাই বৃহৎ এই জনগোষ্টীর কথা চিন্তা করেই আমাদের ভাবতে হবে দ্রুত। এই সংকটকালিন সময়ে তাঁদের আহার, খাদ্য এবং ঔষধের নিরাপত্তা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। শুধু রাজশাহী নগরীই নয় দেশের অন্যান্য নগরের চিত্রও প্রায় একই রকম। মানুষ ঘরমুখো হয়ে যাবার কারনে তাদের আয় উন্নয়ন কমেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস নিয়ে নানা ধরনের সতর্কতা এবং সহযোগীতা দিচ্ছে সরকার। আমাদের দেশও করোনা ভাইরাস মকোবেলায় বিভিন্নভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার। করোনা ভাইরাসা রোগ প্রতিরোধে যেমন সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে , তেমনি করোনা ভাইরাসের কারনে আহার, খাদ্য ও চিকিৎসা ঔষধের নিরাপত্তায় শহর প্রান্তিক এবং গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশেও দাড়াতে হবে খুব দ্রুত। শহর প্রান্তিক মানষগুলোর আয় রোজগার কমেছে। অন্যদিকে নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। শহর প্রান্তিক মানুষগুলোর জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্য , ঔষধ দেবার ব্যবস্থা নেবার সময় হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা যতো তাড়াতাড়ি উদ্যোগ গ্রহণ করবো ততোই প্রান্তিক মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

লেখক:উন্নয়ন কর্মী ও গবেষক

Close