পাবনাশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম-২

চাটমোহর সরকারি কলেজে ৪ শিক্ষকের জাল সনদে চাকরির তথ্য ফাঁস

 

শফিক আল কামাল (পাবনা) : পাবনার চাটমোহর সরকারি কলেজে নিবন্ধন পরীক্ষার সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষকতা করে আসছে ৪ শিক্ষক। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর অনুসন্ধানে এমন তথ্য জানা যায়। এরা হলেন ১। মো. নাসির উদ্দিন, ২। খন্দকার ইফতেখার আহম্মেদ, ৩। মো. আমির হোসেন ও ৪। মোছা. রাজেদা খাতুন। প্রকৃত পক্ষে ঐ ৪জন নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি।
২০১৯ খ্রি. ৭ জানুয়ারি কলেজের অধ্যক্ষকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছে এনটিআরসিএ। কলেজ সরকারি হওয়ায় অধ্যক্ষের করা সনদ যাচাইয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাই করতে গিয়ে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০১৬ খ্রি. কলেজ জাতীয়করণের ঘোষণা আসার পর থেকেই শুর হয় শিক্ষকদের সনদসহ প্রয়োজনীয় ফাইল যাচাই বাছাই। ২০১৮ খ্রি. ১২ আগস্ট সরকারি জিও (গভর্নমেন্ট অর্ডার) জারির পর শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিবন্ধন যাচাইয়ে জন্য ২০১৯ খ্রি. ২৮ অক্টোবর এনটিআরসিএ এর নিকট পাঠায়। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি ৪ শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ জাল বলে সংশ্লিষ্ট কলেজে চিঠি পাঠায় এনটিআরসিএ। কলেজ কর্তৃপক্ষকে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া ঐ ৪ শিক্ষকের রোল হলো বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. নাসির উদ্দিন, যার রোল-৪০১০৬০৫৫,পরীক্ষা-২০১০/৬ষ্ঠ, বাংলা বিভাগের মোছা. রাজেদা খাতুন, রোল-৪০১২৮৪৬৮,পরীক্ষা ২০১২/৮ম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের খন্দকার ইফতেখারুল আহম্মেদ, রোল-৪০৬১১১১৫০, পরীক্ষা-২০০৯/৫ম ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. আমির হোসেন রোল-২২০৩০৪৭১, পরীক্ষা-২০০৬/২য়। এদের মধ্যে ২জন অন্যের রোল রেজিঃ নম্বর জাল সনদ তৈরি এবং বাকী ২জন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও রোল ও রোজিঃ নম্বর পাস দেখিয়ে সনদ বানিয়ে নিয়েছে। এরা সবাই অনার্স কোর্সের শিক্ষক।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় কয়েক মাস আগে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ৩ শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু বাংলার প্রভাষক মো. নাসির উদ্দীন পদত্যাগ না করে বর্তমানে প্রভাবের সাথে কলেজ করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাটমোহর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মজিদ বলেন তিনি নতুন অভিসিক্ত হয়েছেন, জাল সনদ নিয়ে চাকুরি করা এবং পদত্যাগের বিষয়টি অবগত নয়।
এ ব্যাপারে চাটমোহর সরকারি ডিগ্রী কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার মো. রায়হান আলী বলেন, জাল সনদে চাকরির কোনো সুযোগ নেই। সত্যিই এমন ঘটনা হয়ে থাকলে জোড়ালো পদক্ষেক গ্রহন করা হবে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close