গোদাগাড়িশিরোনাম

বরেন্দ্র অঞ্চলে ৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ

ফজলুল করিম বাবলু: পেঁয়াজ নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা। তরকারীসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের মধ্যে পেঁয়াজের ব্যবহার অত্যাবশ্যকীয় । পেঁয়াজ ছাড়া রান্না জাতীয় কোন খাবারই তেমন সুস্বাদু হয়না। যার প্রমান এ বছর। গত কয়েকমাস ধরে দেশে পেঁয়াজ ক্রয় বিক্রয় নিয়ে চলছে তেলেসমাতী কারবার। এর কারনে অনেক পরিবার পেঁয়াজ চাড়া তরকারী ও অন্যান্য খাবার রান্না করে খেয়েছে। আবার অনেকে টিসিবি থেকে বিদেশী পেঁয়াজ কিনলেও তা দেশী পেঁয়াজের মত স্বাদ নয় বলে জানান। এখন আবার বাজারে নুতন পেঁয়াজ আসলেও করোনা ভাইরাসের দোহাই দিয়ে গতকাল শনিবার পাইকারী ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করতে দেখা যায়। আর খুচরা বাজারে ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এই পেঁয়াজের আল তৈরী করতে পেঁয়াজ বীজ একটি অতি প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্য। গোদাগাড়ীতে এবার ৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ হচ্ছে। যা গত বছরের থেকে ৪০ হেক্টর কম। তথ্যটি গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়।

গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ভাগাইল গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও মানিক আলী বলেন, ৫-৬ বছর ধরে তারা পেঁয়াজ বীজের চাষ করে আসছেন। এর মেধ্য সিরাজুল ২বিঘা এবং মানিক আওয়াল নামে একজন চাষীর কেয়ারটেকার হিসেবে চার বিঘা পেঁয়াজ ক্ষেতে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা বলেন, এ বিঘা জমিতে বীজ তৈরী করতে ৫০,০০০টাকার মত খরচ হয়। আর তা বাজারে বিক্রি করে প্রায় লক্ষাধীক টাকা তারা লাভ করেন। চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা উভয়ে বলেন, জমিতে পাঁচ থেকে সাতটি চাষ দিয়ে মাটি ক্ষুদ্র আকার করে বেড তৈরী করতে হয়। সেইসাথে বেডের পাশ দিয়ে ছোট ছোট নালা তৈরী করতে হয়। যাতে করে জমিতে পানি আটকে থাকতে না পারে। এরপর বিঘাপ্রতি প্রায় ছয় মন করে দেশী (ছাঁচি) জাতের পেঁয়াজের আল কিংবা তিন থেকে সাড়ে তিনমন পেঁয়াজের কন্দ জমিতে রোপন করতে হয়। এই কন্দ গুলো ৫-৬ ইঞ্চি পর পর রোপন করতে হয়। আর সাড়ি করতে হয় ২ ফিট পরপর। এগুলো রোপনের সময় বিঘাপ্রতি পরিমান মত জৈব সার, দস্তা ২ কেজি, পটাশ ২০ কেজি, বরুন ২ কেজি ও ইউরিয়া সার ১০ কেজি প্রয়োগ করতে হয়। এতে চারা ভাল হয় এবং বীজও ভাল ও উন্নত মানের হয়।

তারা আরো বলেন, পেঁয়াজ বীজ চাষ করার করার জন্য সর্বদা দেওপাড়া ব্লকের কৃষি উপসহকারী শহিদুল আলম টিপুর পরামর্শ নেন। তাঁর সহযোগিতাতেই এতদিন ধরে তারা এই বীজ উৎপাদন করে আসছেন। পেঁয়াজে ফুল আসা মাত্রই মশা, জাব পোকা ও ল্যাদা পোকার আক্রমণ হয়। এরমধ্যে ল্যাদা পোকা সব থেকে মারাত্বক জানান তারা। এই পোকা পেঁয়াজের থোপা বা কদম (স্থানীয় ভাষায়) কেটে মাটিতে ফেলে দেয়। এই পোকা দমনে শহিদুল আলম টিপুর পরামর্শে সপ্তাহে একবার করে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেন বলে জানান। প্রতিবিঘা জমিতে তিন থেকে সাড়ে তিন মন করে বীজ উৎপাদন হয়। কোন কোন বছর সামান্য কমও হয়। বর্তমানে বাজারে প্রতিমন বীজের মূল্য প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা। বছর চারেক পূর্বে প্রতিমন বীজের মূল্য ছিলো নব্বই থেকে পঁচানব্বই হাজার টাকা। তারা পেঁয়াজ বীজের মূল্য নির্ধারণ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান।

এদিকে পেঁয়াজ বীজ চাষ কম হওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেওপাড়া ব্লকের কৃষি উপসহকারী শহিদুল আলম টিপু বলেন, এবার পেঁয়াজের মূল্য অনেক বেশী। পেঁয়াজ নিয়ে দেশে হাহাকার পরে গিয়েছিল। এই কারণে কৃষক বীজ চাষ কমিয়ে দিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, বীজ ক্ষেতে কিটনাশক ব্যবহার না করাই উত্তম। কারন কিটনাশক বেশী প্রয়োগ করলে মৌমাছি ফুলের উপর বসলেই মারা যায়। এতে পরাগায়ন হতে সমস্যা হয়। ফলে ফলন কম হয় বলে জানান তিনি। এখন যে নতুন পেঁয়াজ উঠছে তারও বাজার মূল্য ভাল। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close