গোদাগাড়িমহানগরশিরোনাম

রাজশাহীতে গম কাটতে শুরু করেছে কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকরা গম কেটে ঘরে তুলতে শুরু করেছে। গমের ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকরাও অত্যন্ত খুশি। গতবারের থেকে চলতি মৌসমে গমের চাষ বেশী হয়েছে। গত বছর রাজশাহীতে ২৫,২৩০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল। এবার চাষ হয়েছে ২৬,৫৪১ হেক্টর জমিতে। তথ্যটি রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিশ্চিত করেন। বেশী হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপসহাকারী কৃষি অফিসার শহিদুল আলম টিপু বলেন, কৃষি কাজে মাটির নিচ থেকে ব্যপকভাবে পানি উত্তোলন করায় দিন দিন পানির লেয়ার নিচে নেমে যাচ্ছে। এইভাবে পানি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সুপেয় পানির প্রচন্ড অভাব দেখা দেবে। এছাড়াও মাটির নিচ থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে ভুমিধসসহ নানা প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খাবার পানির চাহিদা পুরণে এবং ভূগর্স্থ্য পানির লেয়ার স্বাভাবিক রাখতে কৃষিবীদরা উপরী ভাগের পানি ব্যবহার ও সংরক্ষণ এবং স্বল্প পানিতে উৎপাদিত ফসলের চাষ করতে কৃষকদের উৎসাহীত করছেন। সে কারনে রবি মৌসুমে এককভাবে ধানের চাষ না করে রবি শষ্য বেশী করে চাষ করার পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রেখেছেন কৃষিবিদরা। এরই ধারাবাহিকতায় শীতকালীন অন্যান্য ফসলের ন্যায় গম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এর ফলে পানি সাশ্রয়ী ফসল হিসেবে গমের চাষ রাজশাহীতে প্রতি বছল বাড়ছে বলে জানান এই কৃষি অফিসার।

চাষী নরুল ইসলাম বলেন, তিনি কয়েক বছল ধরে ধানের পাশাপাশি গম করে আসছেন। পূর্বে তিনি শুধু ধানের চাষ করতেন। এতে অনেক সময় তার লোকসান হত। কারন ধান চাষ করতে অনেক বেশী খরচ হয়। এজন্য তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে গমেরর চাষ করছেন। তিনি বলেন, গম ছাষে অনেক খরচ কম হয়। এছ্ড়াাও এক বিঘা জমিতে তিনটি চাষ এবং ২০ কেজি বীজ রোপন করলেই হয়। এর পর বৃষ্টি না হলে সর্বোচ্চ তিনবার সেচ দিলেই গম চাষ সম্পন্ন হয়। তিনি আরো বলেন, এক বিঘা গম চাষ করতে সর্বোচ্চ ৭-৮ হাজার টাকা খরচ। আর বিঘাপ্রতি এর ফলন হয় ১৪-১৬ মন করে। এতে তাদের ধান চাষ থেকে ভাল লাভ হয়। কারন জানতে চাইলে নুরুল বলেন, গম এমন একটি খাবার যা সব বয়সের মানুষ খায়। গম থেকে ভাত বাদে প্রায় সব ধরনের খাদ্য তৈরী করা যায়। আর মানুষ গম তৈরী খাবার সব থেকে বেশী খান বলে জানান তিনি। এছাড়ার এর রোগ বালাই অনেক কম। তবে ইঁদুর বেশী গমের ক্ষতি করে।

আধুনিক গম চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে দেওপাড়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার শহিদুল আলম টিপু বলেন, বীজ বোপনের ৫-৬ দিন পূর্বে রাইন্ড আপ নামক আগাছা নাশক স্প্রে করতে হবে। এছাড়াও বীজ বোপনের আগেই বিঘাপ্রতি টিএসপি সার ১৭ কেজি, এমওপি সার ১৩ কেজি, জিপসাম সার ১৫ কেজি, ইউরিয়ার সার ১৮ কেজি ও বরুন ১ কেজি জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। সেইসাথে এক বিঘা জমিতে ১৮-১৯ কেজি গমের বীজ প্রোভেক্স/ হাদাক নামক বীজ শোধনা ওষুধ প্রতি কেজিতে ৩গ্রাম করে দিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।

রোগবালাই সম্পর্কে তিনি বলেন, গমের তেমন উল্লেখযোগ্য রোগ বালাই নাই। তবে কোন কোন সময় ব্লাস্ট নামক একটি রোগ মহামারী আকারে ধারন করে। এই রোগ হলে নাটিবো কিংবা ট্রুপার নামক ছত্রাকনাশক ৭ গ্রাম করে বিঘাপতি ১৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করতে হবে। এছাড়াও ইঁদুরের আক্রমণ হলে বিষ টোপ, গ্যাস ট্যাবলেট কিংবা গর্তে প্রচুর পরিমানে পানি ঢেলেও ইঁদুর নিধন করা যায় বলে জানান টিপু। সেইসাথে উপসহকারী কৃষি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করে তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী জমিতের প্রয়োজন মত সার ও পানি সেচ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন মানুষ
বরেন্দ্র বার্তা/ ফকবা/ নাসি

Close