মহানগরশিরোনাম

ঋণের চাপে দিশেহারা রাজশাহীর নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বব্যাপি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে। বিশ্বে প্রতিনিয়িত পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল । এ পর্যন্ত বিশ্বে ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সংখ্যা। বাংলাদেশেও এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে দেশের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি স্থান সরকার থেকে লকডাউন করা হয়েছে।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা বাণিজ্য সিমিত করা হয়েছে। ঢাকাসহ বেশ জেলা উপজেলায় মুদিখানা, ওষুধ ও কাঁচা বাজার বাদে সব দোকানপাট, ও রেস্তোরা বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে দুরপাল্লার যানবাহন। সেইসাথে সারাদেশে ব্যবসা বাণিজ্যের সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। এই অবস্থায় ব্যবসা বাণিজ্য কমে গেছে।

শুধু তাইনয় বাজারে লোক সমাগম অনেক কমে গেছে। এতে করে ক্ষুদ্র, মাঝারী ও বড় ব্যবসায়ীরা ও বিপাকে পড়েছেন। বেশী সমস্যায় পড়ছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষগণ। তারা অনেকেইে দিনমজুরী করে, কেউ রিক্সা চালিয়ে, কেউ ফুটপাতে কলা, টুপি, জুতা বিক্রি ও কাপড় ও জুতা সেলাই থেকে শুরু করে ছোট ছোট ব্যবসা করে সংসার পরিচালনা করেন। বাজারে লোক না থাকায় তাদের ব্যবসা এখন অর্ধেকেও বেশী কমে গেছে। এই অবস্থায় সংসার পরিচালনায় তারা অন্ধকার দেখতে শুরু করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নিম্ন থেকে মধ্যবিত্ত পরিবারের ভিতরে প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ বিভিন্ন সমিতি, এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ করে ব্যবসা করছেন। এই ঋণের কিস্তি অনেকেই প্রতিদিন, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভাবে পরিশোধ করে থাকেন। কিন্তু এই অবস্থায় সকলেই পড়েছেন বিপাকে। কিন্তু এনজিও এবং ব্যাংকসহ ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলো কোনভাবেই ঋণ গ্রহিতাদের ছাড় দিচ্ছেনা। এতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে সব থেকে খারাপ সময়ে পড়েছেন এই জনগোষ্ঠী।

নগরীর সাহেব বাজার এলাকার ভ্রাম্যমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন, রফিকুল ইসলাম, এমমাদ আলী, সজল ও কাউসারসহ আরো অনেকে বলেন, এই ভাইরাস আসার পূর্বে যে পরিমান বিক্রি হত তার দিয়ে সংসার পরিচালনা করে অনায়াসে ঋণের কিস্তি প্রদান করতেন। কিন্তু এখন দুমুঠো খাবার পরিবারের সদস্যদের মুখে কিভাবে তুলে দেবেন সেই চিন্তায় অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আরোতো সামেন কি হবে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না বলে জানান তারা। ক্রমন্বয়ে মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়ছে। বাহিরে বের হতে না পারলে ব্যবসা করবেন কিভাবে? আর কিভাবেই বা ঋণের কিস্তি শোধ করবেন। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও সাধারণ মানুষের বাহিরে বেরুনোর নিষেধাজ্ঞা জারির আগে দেশের ঋণদানকারী সকল ব্যাংক, এনজিও এবং সমিতি গুলোর কিস্তি বন্ধের রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও জেলাপ্রসাশকসহ প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন এই অসহায় খেটে খাওয়া মানুষগুলো।
বরেন্দ্র বার্তা/ ফকবা/ নাসি

Close