গোদাগাড়িশিরোনাম-২

করোনা প্রতিরোধে কাঁকনহাট পৌরসভায় লিফলেট ও স্যানিটাইজেশন বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বব্যাপি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারী ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সংখ্যা। বাংলাদেশেও এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে এর সংখ্যা। এর সংক্রমণ থেকে জনগণকে রক্ষা করতে গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভা কার্যালয়ে প্রবেশ পথে ধাতধোয়া কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কাঁকনহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ। তিনি নিজে হ্যান্ড ওয়াস দিয়ে হাত ধুয়ে এর উদ্বোধন করেন। সেইসাথে পৌরসভায় সেবা নিতে আগত সকলকে হাত ধুয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করার অনুরোধ করেন।

এসময়ে মেয়র বলেন, নোভেল করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাঁশির মাধ্যমে, আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে এবং পশু পাখির মাধ্যমে অন্যের মধ্যে ছড়ায়। এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। এই ভাইরাস প্রতিরোধ করা অত্যন্ত সহজ বিষয় উল্লেখ করে তিনি জনগনের উদ্যেশ্যে বলেন, দিনে বার বার সাবান পানি, হ্যান্ড ওয়াস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাতের কব্জি পর্যন্ত ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত ধুতে হবে। হাত না ধুয়ে কোনভাবেই, মুখ, নাক ও চোখ স্পর্শ করা যাবেনা, হাঁচি কাঁশি দেয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখতে রাখতে হবে। টিস্যু কিংবা রোমাল মুখে ও নাকে দিতে হবে। পরে টিস্যু একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। পারলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। আর রোমাল সাবান দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। কোনভাবেই একটি টিস্যু একবারের বেশী ব্যবহার করা যাবেনা। অসুস্থ পশু পাখির সংস্পর্শে আসা যাবেনা। মাছ মাংস আধা সেদ্ধ খাওয়া যাবেনা। বিদেশ থেকে আসা আত্মীয়স্বজন থেকে সর্বনিম্ন ১৪ দিন দূরে থাকতে হবে। সেইসাথে হোম কোয়ারেন্টাইনে ব্যবস্থা মেনে চলতে বিদেশ ফেরতদের আহবান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, যেখানে সেখানে কফ ও থুথু ফেলা যাবেনা। করমর্দন ও কোলাকোলি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সকল ধরনের সভা সমাবেশ থেকে বিরত থাকতে হবে। হাট বাজারেও বেশী মানুষ একসাথে না বসাই ভাল। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে না যাওয়া। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে না যাওয়া। কেউ আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অবহিত করা ও জেলা পর্যায়ের হটলাইন এবং আইইডিসিআর এর হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। ধর্মীয় সভা ও সমাবেশ আপাতত না করার পরামর্শ দেন তিনি। সেইসাথে ৩ফিট দুরত্ব বজায় রেখে কথা বলা এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করার অনুরোধ করেন মেয়র। তিনি বলেন, হাঁচি, কাঁশি ও গলাব্যাথা হলে প্রাথমিক ভাবে লবন পানি গরম করে ও ভিনেগার মিশ্রিত পানি দিয়েও গড়গড়া করার পরামর্শ দেন। সেইসাথে ঠান্ডা জাতীয় খাবার খাওয়া ও পান করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানান মেয়র।

তিনি বলেন, সরকারী সকল বিধি নিষেধ এবং নিজেরা সচেতন হলেই এই মরণঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে সকলেই মুক্ত থাকা যাবে। দেশে প্রচুর পরিমানে খাদ্য মজুদ আছে। আতঙ্কিত হয়ে একসাথে নিত্য প্রয়োজণীয় পন্য মুজুত করা থেকে বিরত থাকার পৌরবাসীর প্রতি আহবান জানান তিনি। এরপর মেয়র পৌর বাজারের বিভিন্ন স্থানে করোনা ভাইরাসে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। এসময়ে কাঁকনহাট পৌর প্যানেল মেয়র আজাহার আলী, কাউন্সিলর সাদেকুল সেলিম, মিজানুর রহামন, আম্বিয়া বেগম, ওয়াহিদা সুলতানা লাবনী, পৌর সচিব রবিউল ইসলাম, পৌর ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুর রহমান বকুল, পৌর যুবলীগ সভাপতি তরিকুল ইসলাম, পৌর কৃষকলীগ সভাপতি কল্লোল মোল্লা, পৌর মহিলা লীগের সভাপতি আশরাফুন নেশা পরি ও সাধারণ সম্পাদক মর্জিনা বেগম, হোমিও ডাক্তার মহিদুল ইসলাম ও ডাসকো প্রতিনিধি অমলসহ অন্যান্য কাউন্সিলর ও পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বরেন্দ্র বার্তা/ ফকবা/ নাসি

Close