উন্নয়ন বার্তানাগরিক মতামতশিরোনাম-২স্বাস্থ্য বার্তা

করোনাভাইরাস: আপনার কাজের বুয়া ও শ্রমিকের খোজ নিচ্ছেনতো ?

 

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সবাই তাঁর অবস্থান থেকে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রতিষ্টান, রাষ্ট্র সবাই যার যার অবস্থান থেকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। সাটডাউন, লকডাউনের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশসহ নানা পর্যায়ের যোগাযোগ বন্ধ করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও লকডাউন এর কার্যক্রমগুলো শুরু হয়েছে। ইতমধ্যে বাংলাদেশের সরকার মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলাকে লকডাউন করেছে। দোকান পাট বন্ধ। ঘুরের মধ্যে অবস্থান করছে মানুষ। পরিবহন মালিকরা কোন কোন এলাকায় যানবহন চলাচলা বন্ধ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। সঙ্গত কারনেই করোনাভাইরাস থেকে প্রতিরোধী ব্যবস্থা হিসেবে এই কাজ করতে হচ্ছে। গেরস্থ্যের বাড়ি থেকে শুরু করে, বাসা বাড়ি, ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান , রাষ্ট্র সবাই এটা করছে নিরাপত্তার স্বার্থে। কারন আমাদেরকে অবশ্যই করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রতিরোধী হিসেবে এই ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
শহর এলাকায় বস্তিপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা যাচ্ছে যেসকল নারী বাসাবাড়িতে কাজের বুয়া বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ হিসেবে মজুরীর কাজ করতেন তাঁদের আর কাজ নেই। কাজ নেইতো টাকা নেই। টাকা নেইতো খাবার নেই। কমেছে শ্রমজীবী মানুষের কাজ। শেষ হয়ে যাচ্ছে ঘরে জমানো সামান্য কিছু অর্থ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষ। সার্বিকভাবে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে নিরাপত্তার স্বার্থে ছুটি দিয়েছে কাজের বুয়াকে, ছুটি দিয়েছেন নিজের প্রতিষ্ঠানের শ্রমিককে। হয়তো আমরা অনেকেই কাজের বুয়া এবং শ্রমিককে ছুটিয়ে দিয়েই খান্ত। বিরাট এক শুদ্ধ কাজ করেছি। কিন্তু এ বিষয়টি খেয়াল করেছি কি ? আপনার থেকে প্রতিমাসে বা দিনে যে টাকাটা আয় করে সেই থেকে সেই কাজের বুয়া বা শ্রমিকটি তাঁর পরিবারের আহার যোগান দিয়ে থাকেন। এটাই তাঁর একামাত্র বাঁচার সম্বল। দুর্ভাগ্যজনক সত্য যে এই বিষয়টি খুব সচেতনতা সহিত আমরা অবহেলা করছি। ছুটিয়ে দিয়েছি কাজের বুয়াকে, ছুটি দিয়েছি শ্রমিককে । কিন্তু তিনি চলবেন কি করে, তার সন্তানকে খাওয়াবেন কি করে সেটি হয়তো খুব সুকৌশলে না জানারভান করেছি। শহর এলাকায় এমনই চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই আর বাসা বাড়িতে কাজের সুযোগ না পেয়ে আর্থিক অনটনে আছেন। খাবার কিনতে পাচ্ছেননা। দিন যতোই যাচ্ছে সংকট আরো ঘনিভুত হচ্ছে। কাজের লোক, শ্রমজীবী মানুষের কাজ না থাকায় তাঁদের চোখে অন্ধকার নেমে আসছে। একদিকে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। শুধু চালের দাম যদি বলা হয় তা ২৬% বেড়েছে। অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরো বেড়ে গেছে। অন্যদিকে তার ইনকাম বা আয়ের উৎসগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন শ্রমজীবী মানুষগুলো।
সারাবছর যে লোকটি আপনার ঘরের, দোকানের বা এবং প্রতিষ্ঠানে আপনার আয় ইনকাম বাড়িয়ে দিতে সহায়তা করলো। ঘাম ঝড়ানো সেই মানুষটিকে আসুন এই মহাসংকটে তাঁর পাশে থাকি। আমরা চাইলেই এমন মানুষগুলোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। আমরা শুধু সরকারের সমালোচনা না করে নাগরিক দায়িত্ব পালন করি এই মহামারির সময়ে। শ্রমজীবী মানুুষের পাশে দাড়াই, বাসার কাজের বুয়াকে নিরাপত্তার স্বার্থে ছুটি দিলেও তাঁকে আগের মতো আর্থিক এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষিপত্র দিয়ে সহযোগীতা করি। এই মহামারির সময়ে এর থেকে আর কিইবা বড়ো বা মহৎ কাজ হতে পারে। আসুন আমরা সবাই কথায় নয়, কাজেই মানবিক হই।
লেখক: উন্নয়নকর্মী ও গবেষক (বারসিক)

Close