মহানগরশিরোনাম-২

করোনা প্রতিরোধে রাজশাহী কারাগারে বাড়তি সতর্কতা

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্কঃ করোনা প্রতিরোধে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বাড়তি সতর্কতা বন্দিদেরও রাখা হচ্ছে কোয়ারেন্টাইনে, রাখা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও করোনা প্রতিরাধে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।
নতুন কয়েদিদের কোয়ারেন্টাইনে রাখাসহ সকল কয়েদিদের জন্য রাখা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও। এছাড়াও কারা চিকিৎসকদের মাধ্যমে বন্দিদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে গড়ে প্রতিদিন এক’শ থেকে দেড়’শ জন কয়েদি আসে এবং বাহিরে যায়। এছাড়াও রাজশাহী কোর্টে হাজিরা থাকে প্রায় ৮০ থেকে ১২০ জনের। রাজশাহী কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার৬শ বন্দী আছেন। এসব বন্দীদের জন্য নেয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা।
এদিকে, করোনা ভাইরাস থেকে কারাবন্দিদের সুরক্ষার জন্য গত ১০ মার্চ কারা অধিদফতর থেকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। কারাগারগুলো নির্দেশনা মানছে কিনা তা তদারকি করার জন্য বিভাগীয় ডিআইজিদের সপ্তাহে অন্তত দুটি কারাগার পরিদর্শন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ১০ মার্চ থেকে কারাগারগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে বন্দিদের রাখার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সাধারণ বন্দিদের থেকে পৃথক ভবনে এই ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী কারাগারে নতুন বন্দীদের ১৪ দিনের জন্য পৃথক ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। প্রত্যেককে পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাদেরকে পাঠানো হচ্ছে অনান্য বন্দীদের কাছে।
এছাড়া কারা ফটক দিয়ে প্রবেশের পর বন্দীদের হাত ধোয়া ও পরিষ্কারের জন্য পানি ও সাবানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে কারাগারের অভ্যন্তরে প্রতিটি ওয়ার্ডে সাবান, হ্যান্ডওয়াশ ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বন্দিদের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, সেজন্য চিকিৎসক ও কারা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মোটিভেশন দেয়া হচ্ছে।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার গিয়াস উদ্দিন বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি ভালো। আমরা নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই নির্দেশনা মোতাবেক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। কারাগারের ভেতরে প্রতিটি ওয়ার্ডে হ্যান্ডওয়াশ ও সাবান ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের কারারক্ষী যারা আছেন, তাদের হ্যান্ডওয়াশ ও স্যানিটাইজার ব্যবহার শুরু করেছি।
তিনি বলেন, নতুন যেসব বন্দী ভেতরে প্রবেশ করছে, তাদের কমপক্ষে ১৪ দিন আলাদা করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। কোয়ারেন্টাইনে রাখার আগে নতুন বন্দীদের ইনফারেড থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়াও বন্দীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিটি কারাগারে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার দেয়া হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close