বাগমারাশিরোনাম-২

বাগমারায় জঙ্গিনেতা মাহাতাব খামারুকে মামলা থেকে অব্যাহতি

 

আব্দুল মতিন, বাগমারা: মূল আসামীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় রাজশাহীর বাগমারা থানার যোগীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরির্দশক (এসআই) আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) রাজশাহী ও পুলিশ সুপার রাজশাহীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী কাকলী ইয়াসমিন। তিনি মামলাটি পূনারায় তদন্তের জন্য চুড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের কোনাবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ খামারুর ছেলে এক সময়ের জেএমবি’র শীর্ষ সন্ত্রাসী সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দেশ বিদেশে পরিচিত মাহাতাব খামারু তার আপন বড় ভাই মৃত মমতাজ খামারুর ছেলে মতিউর রহমান রনিকে গত ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে চাইনিজ কুড়াল ও হাসুয়া দিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে। ওই দিন মাহাতাব খামারু উপস্থিত থেকে মতিউর রহমান রনির ঘর থেকে নগদ ৮০ হাজার টাকা নেয় এবং বাড়িঘর ভাংচুর করে। এলাকার লোকজন রক্তাক্ত রনিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বাগমারা ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। ওই ঘটনায় রনির স্ত্রী কাকলী ইয়াসমিন থানায় মামলা করতে গেলে তৎকালীন বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ মামলা না নিয়ে আদালতে আশ্রয় নিতে বলেন। চিকিৎসা শেষে একই সালের ১২ মার্চ আহত রনির স্ত্রী কাকলী ইয়াসমিন বাদী হয়ে ঘটনার মূল নায়ক জেএমবি’র শীর্ষ নেতা মাহাতাব খামারুকে প্রধান আসামী করে আরো তিনজনের বিরুদ্ধে রাজশাহীর আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বাগমারা থানার ওসিকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে বাগমারা থানার ওসি মামলাটি রের্কড করে আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করে। মামলাটি দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে মামলার মূল আসামী জেএমবি’র শীর্ষ নেতা মাহাতাব খামারু ও সেলিনা বেগমকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন যোগীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরির্দশক (এসআই) আব্দুর রহিম। বিষয়টি জানাজানি হলে মামলার বাদী কাকলী ইয়াসমিন আদালতে যোগাযোগ করে জানতে পারে ঘটনার মূল আসামী মাহাতাব কামারুসহ দুইজনকে বাদ দিয়ে মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। পুলিশের এমন প্রতিবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল। মাহাতাব খামারুকে অব্যাহতি দেয়ায় সাধারন মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার বাদী কাকলীর অভিযোগ, ঘটনার সময় যারা ঘটনাটি দেখেছে তাদেরকেই এজাহারে স্বাক্ষী হিসেবে নাম দেয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই সকল স্বাক্ষীদের স্বাক্ষী না নিয়ে নিজের মনগড়া ভাবে স্বাক্ষী সাজিয়ে মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেছেন। তিনি মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যোগীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার প্রমান না পাওয়ায় মাহাতাব খামারুসহ দুইজনকে মামলা থেকে অব্যাহিত দিয়ে চড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। স্বাক্ষীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ওই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close