সাহিত্য ও সংস্কৃতি

বৃষ্টি স্নান

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি

মুর্শিদাবাদের পশ্চিম পাড়ার মুখার্জের বাড়ির চিলেকোঠার ঘরে আমি থাকি।
উওর দিকে মুখ করে ঘরটার একটা মস্ত বড় জানালা আছে।
আর এ ঘরে আমার সঙ্গী হিসেবে আছে ছোট্ট একটা চারপায়ের চৌকি।
তাতে গুটিশুটি মেরে আমার ঘুমানো দিব্বি হয়ে যায়।
আর আছে ঘুনে ধরা একটি টেবিল,
টেবিলের সাথে হেলান দিয়ে একটা ভাঙ্গা চেয়ার।
বুকসেল্পটায় ঘুনে ধরেছিলো কিন্তু তাতে কেরোসিন তেল দেওয়ায় এখন অনেকটা ভালো আছে।
জানালায় আছে পুরাতুন কাপরের রং চটা একটা পর্দা।
এদের সাথেই দিব্বি কেটে যায় দিনগুলো আমার।
জন্মের সময় মা মারা যাওয়ার কারনে সৎ মা নাম দিয়েছিলো অপয়া।
বাবার বাড়িতে জায়গা হয়নি বেশি দিন।
তারপর মামার বাড়িতেই বেড়ে উঠা।
সেই মামাও রইল না চলে গেলো পরপারে।
মামী আর মামাতো ভাইবোনগুলোর চোখের বিষ হয়ে উঠলাম আবারো
তবুও জীবন বেঁচে থাকার জন্য কাজের ফাকেই পড়ালেখা করে গেলাম।
এখন আমি বড় হয়েছি বয়স হয়েছে ২৫
গায়ের রং কালো হওয়ার কারনে কারো প্রেমিকা বা বউ হবার সৌভাগ্য হয়নি এখনো।
তার জন্য আপসোস হয়নি কোনো দিন।
টিউশনি করিয়ে এখন নিজের থাকার জায়গা, খাবার জায়গা করে নিয়েছি এটাই আমার কাছে অনেক।
মনে কখনো কোনো ইচ্ছে শখ আল্দাদ হয়নি কখনো। তবুও আজ সন্ধে বেলার বৃষ্টি দেখে বৃষ্টি স্নান করার ইচ্ছে হয়েছিলো বেশ।
গায়ে জ্বর নিয়ে ছাদের মাঝখানে গিয়ে দাড়ালাম।
দক্ষিনা বাতাস আর বৃষ্টির ফোটাই যেনো মনে হচ্ছে সব দুঃখ কষ্টো দুর হয়ে যাচ্ছে।বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করছে আরো অনেকটা বছর।
কারো জন্য নয় শুধু নিজের জন্য
এই বৃষ্টির ফোটাই নিজেকে বার বার ভেজানোর জন্য।

Close