পবাশিরোনাম-২

পবার কেচুয়াতৈল ঈদগাহ এর মেহরাব ভাঙ্গার অভিযোগ

ঈদগাহ মাঠ দখলের অভিপ্রায়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবা উপজেলাধীন আরএমপি চন্দ্রিমা থানার অন্তর্ভূক্ত কেন্দ্রীয় কেচুয়াতৈল ঈদগাহ মাঠ দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঈদগাহ মাঠের সভাপতি এস.এম. ওমর ফারুক বলেন, রাজশাহী মহানগরীর দরগাপাড়ার শফিকুল ইসলাম শাফিক তারা অন্যান্য সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গিয়ে চলতি মাসের ১৯ তারিখ রাত ১.৩০টার দিকে ঈদগাহরে মেহরাব ভেঙ্গে ফেলে। এসময়ে আশে পাশের লোকজন ভাঙার শব্দ পেয়ে উঠে আসলে শাফিক গংরা পালিয়ে যায় বলে জানান ফারুক। তিনি অরো বলেন, ৬০ বছরের বেশী সময় ধরে এই মাটির উপরে তারা ঈদগাহ বানিয়ে নামাজ আদায় করেন। সেইসাথে এখানে অত্র এলাকার জানাযা করা হয়। এছাড়াও এখানকার ছেলে মেয়েরা এই মাঠে সেইকাল থেকেই খেলাধুলা করে আসছে। এর পূর্বেও অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই জায়গা দখল করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এলাকবাসীর কারণে তা দখল কতরতে পারেনি।
ঈদগাহ এর নামে কোন প্রকার কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে সভাপতি বলেন, এটা পরিত্যক্ত সম্পত্তি। এই সম্পত্তি এখন সরকারের। শাফিক গংরা হাই কোর্টের একটি ভূয়া কাগজ দেখিয়ে দখল করার চেষ্টা করছে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মুশরইলের আলহাজ্ব খলিলুর রহমান, নারিকেল বাড়িয়ার ময়না, মুশরইলের মিলন, আবুল কালাম ও নারিকেল বাড়িয়ার রফিকুল ইসলামসহ উপস্থিত আরো অনেকে বলেন, বাবা-দাদার আমল থেকে তারা এই মাঠে ঈদের নামাজ আদায় ও জানাযার নামাজ পড়েন। নারিকেল বাড়িয়া, কেচুয়াতৈল, মুশরইল, খড়খড়ি ও উজিরপুরসহ আশেপাশের জনগণ এই মাঠে নামাজ ও জানাযার নামাজ পড়েন। তারা এই মাঠ কোনভাবেই দখল করতে দেবেনা বলে জানান। সভাপতি ফারুকসহ এলাকার মুসল্লী এবং এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে মাঠ রক্ষায় প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে ঈদগাহ মাঠ এর জমির মালিক দাবীদার দরগাপাড়ার শফিকুল ইসলাম শাফিক বলেন, এই জমি তিন বছর পূর্বে তিনি মাস্টারপাড়ার আব্দুল হান্নান দিগরের নিকট থেকে ক্রয় করেন। আব্দুল হান্নান হাইকোর্ট থেকে মামলায় ডিক্রি পাওয়ার পরে তার নিকট বিক্রি করেন। শাফিক বলেন, আর.এস খতিয়ান নং-২৪১, আর,এস দাগ নং-১৩৬৮, রকম আম বাগান, পরিমান ১.২১ একর ও আর,এস খতিয়ান নং-২৪১, আর,এস দাগ নং- ১৩৭১, রকম আম বাগান, পরিমান-.৭৮ একর, মোট ১.৯৯ একর সম্পত্তি ক্রয় করেন। ক্রয় করার পরেই খাজনা খারিজ করেছেন। বাংলা ১৪২৬ সাল পর্যন্ত খাজনার পরিশোধ করা আছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, জমি ক্রয় করে খারিজ করার পর চারিদিকে বাঁশের বেড়া দেন। সে বেড়াগুলো ফারুক গংরা তুলে ফেলেছে। মেহরাব ভাঙ্গার বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল বলেন, তারা ঈদগাহের মেহরাব ভাঙ্গেনি। সভাপতি ওমর ফারুকের নেতৃত্বেই তারই লোকজন ভেঙ্গে এখন তার উপর দোষ চাপাচ্ছেন বলে জানান শফিকুল। জমি দখল নেয়ার জন্য চন্দ্রিমা থানায় শফিকুল একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close