নাটোরশিরোনাম-২

নাটোরে হোম কোয়ারেন্টাইনে মোট ৩৮২ জন, জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে সেনাবাহিনী, ১৫টি ভ্রাম্যমান আদালত সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত একযোগে মাঠে

নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ নাটোরে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরো ৩৯ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ৩৮২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে আজ পর্যন্ত ১৩৪ জনের ১৪ দিন মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন ছেড়ে স্বাধীনভাবে চলা ফেরা করতে বলা হয়েছে। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ২৪৮জন।
সিভিল সার্জন ডাঃ মিজানুর রহমান জানান, হোম কোয়ারেন্টাইনে প্রতিদিনই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইন এড়িয়ে চলছেন। সংবাদ পেয়ে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। যারা মানছেন না তাদেরকে হোম কােয়ারেন্টাইনে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। কারো কারো জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার কারণে মূলত ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য নিজ বাড়িতে সতর্কতার সাথে থাকতে বলা হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত কেউ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা কোভিড -১৯ ভাইরাস বা করোনাতে আক্রান্ত হননি। তবে বড়াইগ্রামে একজন গার্মেন্টস্ ব্যবসায়িকে করোনা সন্দেহে ঢাকা আইসিডিআর এবং নাটোর কারাগারের একজন হাজতি নাটোর সদর হাসপাতাল আইসলেশান ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে গতকাল থেকে সেনা সদস্যরা তাদের কাজ শুরু করেছেন।
এদিকে, নাটোরে সেনা সদস্যরা প্রথম দিনের মত মাঠে নেমে শহরের মাদরাসা মোড় বনবেলঘরিয়া বাইপাস মোড়ে সহ বিভিন্ন পয়েন্টে করোনা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার(২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মাদরাসা মোড়ে এবং ১১ টার দিকে বনবেলঘরিয়া বাইপাস মোড়ে এ সচেতনতা সময় সেনা সদস্যরা হ্যান্ড মাইক মূলক ক্যাম্পেইন চালান। এসময় সকল ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। হ্যান্ড মাইকে সেনা সদস্যরা প্রবাসীদের হোম কোয়ারাইন্টাইনে থাকতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা মেনে চলার আহবান জানান।
এসময় মাদরাসা মোড় এলাকায় একটি খালি বাস দেখা গেলে সেনা সদস্যরা বাধা দেন এবং বাসটি রাস্তায় আসার কারণ জানতে চান। এসময় বাস চালক জানান, বাসটি রাত্রে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সকালে ঠিক করে তিনি গ্যারেজে ফিরছেন।এ সময় সেনা সদস্যরা যাত্রী পরিবহন করা যাবেনা এমন শর্তে বাসটি ছেড়ে দেন।
অন্যদিকে, নাটোরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলা ব্যাপী ১৫টি ভ্রাম্যমান আদালত কাজ করছে। এর মধ্যে নাটোরে ৪টি এবং বাঁকী ৬টি উপজেলায় ১১টি টিম কাজ করছে। তাঁরা জনাসমাগম , যানবাহন চলাচল, ও দোকান পাট বন্ধ রাখার বিষয়টি তদারকি করছেন। নাটোর শহরের মাদরাসা মোড়, কানাইখালী চালপট্টি, নিচাবাজার ও সবজি বাজারে অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ শাওন। মাদরাসা মোড়ে দেখা যায় ভ্রাম্যমান আদালতের পক্ষ থেকে হ্যান্ড মাইকে সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রেখে চলার আহবান জানানো হচ্ছে। তারা প্রয়োজন ছাড়া অহেতুক ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করা সহ কোন যান বাহন না চালাতে আহবান জানান। এসময় রিজার্ভ লেখা অবস্থায় ৪টি বাসে যাত্রী দেখা গেলে সেগুলো খালি করে দেয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়াজ জানান, আমরা জনসাধারণকে সচেতন করার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি বেশী। একই সাথে প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে। কাঁচাবাজার, মুদী দোকান ও ঔষধের দোকান ছাড়া সকল দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এ নির্দেশনা না মনলে ভ্রাম্যমান আদালত ব্যবস্থা নিবে। বরেন্দ্র বার্তা/হাহাশা/অপস

Close