পবাশিরোনাম-২

পবার কেচুয়াতৈল মালিকানা জমি দখল করে ঈদগাহ বানানোর পাঁয়তারা, থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবার কেচুয়াতৈল এ মালিকাধীন জমি দখল করে ঈদগাহ মাঠ তৈরী করার অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিক নগরীর দরগাপাড়ার মৃত দৌলঙ্গীর ছেলে শফিকুল ইসলাম সাফিক বলেন, এই জমি তিন বছর পূর্বে তিনি মাস্টারপাড়ার আব্দুল হান্নান দিগরের নিকট থেকে ক্রয় করেন। আব্দুল হান্নান হাইকোর্ট থেকে মামলায় ডিক্রি পাওয়ার পরে তার নিকট বিক্রি করেন। শাফিক বলেন, আর.এস খতিয়ান নং-২৪১, আর,এস দাগ নং-১৩৬৮, রকম আম বাগান, পরিমান ১.২১ একর ও আর,এস খতিয়ান নং-২৪১, আর,এস দাগ নং- ১৩৭১, রকম আম বাগান, পরিমান-.৭৮ একর, মোট ১.৯৯ একর সম্পত্তি ক্রয় করেন। ক্রয় করার পরেই খাজনা খারিজ করেছেন। বাংলা ১৪২৬ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করা আছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, জমি ক্রয় করে খারিজ করার পর চারিদিকে বাঁশের বেড়া দেন। সে বেড়াগুলো এস.এম ওমর ফারুক গংরা তুলে ফেলেছে। এ নিয়ে একটি মামলা করা হয়। সে মামলা চলমান রয়েছে।
সাফিক বলেন, মামলা মিমাংশা না হতেই চলতি মাসের ১৮ তারিখ দিবাগত ১০টার দিকে জানতে পারেন ফারুক ও তার সহযোগিরা ২-৩দিন পূর্বে তার জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এই খবর পেয়ে ভাগ্নে শিবলু, ছোট ভাই বিপ্লব, সপুরার বাবু, কাজিহাটার ইয়াকুব, হেতেম খাঁর আবু ও কাঁঠালবাড়িয়ার শুভ মিলে মোটর সাইকেল যোগে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে নিজ জমি কেচুয়াতৈল এ যান। এসময়ে সেখানকার লোকজনকে এ বিষয়ে জানাতে গেলে লোকজন তাদের উপর চড়াও হয়। এরপর তাদের উপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ শুরু করে তারা। প্রাণ ভয়ে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে আসেন। এর পূর্বেই ভাগ্নে শিবলু দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করেন ফারুক ও তারন সহযোগিরা। তাদের প্রানে মেরে ফেলার জন্যই এই আক্রমণ করেছেলো বলে সফিক অভিযোগ করেন। শিবলুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এনিয়ে জমি দখলের মুল হোতা কেষ্টগঞ্জের মৃত মইজ উদ্দীনের ছেলে এস.এম ফারুককে ১নম্বর করে মোট ১৮জনকে এজাহারভূক্ত ও আজ্ঞাতনামা আরো ২৫-৩০জনকে আসামী করে চলতি মাসের ২১ তারিখ চন্দ্রিমা থানায় মামলা দায়ের করেন বলে জানান সাফিক। অন্যান্য আসামীরা হলেন, ফারুকের ছেলেন জীবন, মৃত ইনসার আলীর ছেলে এরশাদ আলী, মৃত কায়েম্ উদ্দীনের ছেলেন নুরুল হুদা, হযরত আলীর ছেলেহায়দার আলী, বাজিত বাহার ছেলে মোক্তার হোসেন, স্থানীয় চা দোকানদার গেদু, মৃত আব্দুল শেখের ছেলে শুকুর আলী, সজিবর রহমানের ছেলে রেজাউল করিম, আমির হোসেনের ছেলে হায়দার মিয়া, নছিম উদ্দীনের ছেলে আব্দুল মালেক, মৃত আরজেদ মোল্লার ছেলে রহমান, আব্দুস সোবাহানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম, রাজ্জাকের ছেলে রফিকুল, রেজাউলের ছেলে শফিকুল, গোলাম পাঞ্জাতুনের ছেলে জাকির এবং আরো দুইজন তৌহিদ ও তারিফ। উভয়ের বাড়ি কেচুয়াতৈল।
সাফিক বলেন, দীর্ঘ ২০০৬ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এডিসি থেকে হাইকোর্ট পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে মামলা করে জয়লাভ করেন। দীর্ঘদিন মামলা চলাকালে ফারুক এ জমি নিয়ে কোন প্রকার মাথা ঘামায়নি। কিন্তিু হাইকোর্ট থেকে মামলায় ডিক্রি পাওয়ার পরে সাফিক আরো বলেন. তার জমির পশ্চিম পার্শে ফারুকের ৭-৮বিঘা জমি রয়েছে। ঐ জমির সাথে তার জমি দখল করে প্লট বাগড়ানোর চেষ্টা করেন ফারুক। নিজে দখল করতে না পেরে তরিঘরি করে একটি ভূয়া কিমিটি বানিয়ে ঈদগাহের নাম জমিটি দখর করার পাঁয়তারা করছে ফারুক। সেইসাথে আমাকে হয়রানী ও জমি থেকে বিতারিত করতে ফারুক উঠেপরে লেগেছে বলে জানান সাফিক।
তিনি আরো বলেন, মামলা চলমান সত্ত্বেও গত শুক্রবার থেকে আসামী ফারুকের নেতৃত্বে তার জমির চারিদকে বাউন্ডারী ওয়াল দেয়া শুরু করেছে। শুধু তাই নয় কথিত ঈদগাহ মাঠে প্রবেশের জন্য দুইটি গেট নির্মাণ করছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ফারুক এই জমি দখল করে এলাকায় নেতা সাজার চেষ্ঠা করছেন। কিন্তু ফারুকদের কোন কাগজপত্র নাই। এর পূর্বে স্থানীয় চেয়ারম্যান তাদের নিয়ে বসে একটি মিমংাসার কথা বললেও ফারুক সেখানে যাননি। কেননা তাদের নিকট কোন প্রকার কাগজপত্র নাই। অবৈধভাবে নিজ নামীয় দখলকৃত সম্পত্তি দখল করে ফারুকরা ঈদগাহ মাঠ নির্মাণ করছে বলে জানান সাফিক। ডিক্রি থাকা সত্ত্বেও ভূমি দস্যু ফারুকদের অত্যাচারে এবং নিয়মিত হুমকীতে তারা জমিতে যেতে পারছেন না। দ্রুত জমিটি বুঝে দেয়ার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করেন তিনি।
এ বিষয়ে এস.এম ফারুক বলেন, মাঠ করার জন্য আইনী কাগজপত্র তাদের নিকট নাই। তবে ১৯৬০ সাল থেকে এই জমির উপর তাদের পূর্ব পুরুষগণ ঈদগাহ বানিয়ে নামাজ ও জানাযার নামাজ আদায় করছেন। এছাড়াও এখানকার ছেলে মেয়েরা এই মাঠে খেলাধুলা করেন বলে দাবী করেন তিনি। দখলীসূত্রে এখানে বাউন্ডারী ও গেট নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান ফারুক। তবে জনগণের স্বার্থে এই জমি কাউকে দখল করতে দেয়া হবেনা বলে জানান ফারুকসহ এলাকবাসী।
মামলা বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুম মনির এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, অত্র ঈদগাহ এর সভাপতি এস.এম ফারুক যে কাগজ দিয়েছেন তারা সঠিক নয়। আইনগত কোন প্রকার কাগজপত্র ও দলিলাদি তিনি দিতে পারেননি। শুধু দখলের কথা বলেছেন। জমির আইনগত কাগজপত্র না থাকলে জমি পাওয়া যায় না বলে জানান তিনি। তবে মামলার বাদি শফিকুল ইসলাম সাফিক যে সকল কাগজপত্র ও দলিলপত্র দিয়েছেন এর আইনগত ভিত্তি রয়েছে। তার নামে দলিল ও খাজনা খারিজও করা আছে। দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্রের ভিত্তিতে মামলা সফিক এর দিকে যাবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়াও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৩ জন আসামী ধরা হয়েছে। আসামীরা হলেন পারিলা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হুদা ও তার ছেলে রিপন এবং গেদু নামে আরেকজন । আসামীদের কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে জানান তিনি। বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close