সাহিত্য ও সংস্কৃতি

সুখের অপেক্ষা

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি

 

প্রিয় নিরন্জন,
কবে আসবে তুমি বলতো?তোমার অপেক্ষায় আমি তৃষাক্ত।আর নীল শাড়ি নয় এবার অপেক্ষা করবো বাসন্তী রং এর শাড়ি পড়ে তোমার জন্য।নীল তো কষ্টের প্রতীক। নীল রংটা আজ কাল আর ভালো লাগে না।হয়তো বিষন্নতার প্রতীক তাই আর ভালো লাগে না।নিরন্জন তুমি আসবে সাদা পান্জাবি পড়ে।তোমার হাতে থাকবে আমার জন্য একগুচ্ছ কাঠগোলাপ।আচ্ছা আমি কি চুল বেনুনি করবো নাকি খোলা রাখবো?জানি তুমি খোলায় রাখতে বলবে কারন আমার এলোমেলো চুলগুলো তুমি বেশি পছন্দ করো।আমি কাজল পড়বো চোখে?
আর হ্যা আমার জন্য কাঁচের রেশমি চুড়ি আনতে একদম ভুলবে না। তা নাহলে খুব রাগ করবো! তখন রাগ ভাঙ্গাবে কি করে বলতো?
জানি তুমি তখন আমার সামনে বসে দুহাতে কান ধরে একটা হাসি দিয়ে বলবে এবারের মত ক্ষমা করেন মহারানী।
না না এসবে এবার একদম কাজ হবে না।আমি একদম গলবো না এবার বলে দিলাম।
আচ্ছা ছাড়ো এসব তোমার জন্য আমি কি নিয়ে যাবো বলত?হ্যা মনে পড়েছে হলুদ খামে হলুদ চিঠি সাথে একটা হলুদ গোলাপ।এই শুনো আমরা কিন্তু কোনো ফাইভ স্টার হোটেলে বসবো না। আমরা দুজন মধুমতি নদীর ধারে বসবো হাতে হাত রেখে।সন্ধের শীতল বাতাস আর গোধুলি আকাশের নিচে হারিয়ে যাবো দুজন দুজনের চোখে চোখ রেখে মনে থাকবে?
বাতাসে আমার এলোমেলো চুলগুলো আরও এলোমেলো হলে তুমি তা নিজ হাতে ঠিক করে দিবে।
জানো তো আমার ভাবতেই মনের মধ্যে এক অদ্ভুত আনন্দ হচ্ছে তুমি আসবে বলে, আমাদের দেখা হবে ভেবে।
এই যে মহারাজা এতক্ষনতো অনেক কিছু বললাম আসল কথাটায় তো জিজ্ঞেস করা হয়নি তুমি নিজের যত্ন নিচ্ছো তো???আর খাওয়া দাওয়া সেটা নিয়ম মতো করা হয়???
জানি কোনো কিছুর ঠিক নেই তাই তো এবার কিন্তু আমি খুব বকা দিবো। লক্ষী ছেলের মত নিজের যত্ন নিবে।
আর তাড়াতাড়ি এসো।
ইতি
তোমার ‘চন্দ্রাবতী’

Close