সাহিত্য ও সংস্কৃতি

মনের যত্ন

জান্নাতুল ফেরদৌসের

 

খুব ছোটবেলায় বাংলা পাঠ্যবইয়ে পড়েছিলাম শরীরের মৃত্যুর রেজিষ্ট্রেশন হয় আত্নার মৃত্যুর রেজিষ্ট্রেশন হয় না।
তাই তো,এই যে কতশত মানুষের মনে নিশ্চুপ রক্ত ক্ষরন হয় বা হচ্ছে তার খবর কেউ কি রাখে? কেউ রাখে না।বেলা শেষে ভেতর থেকে যে এক দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে যায় এক সময় তো তার খবর নিজেদেরও থাকে না।
খুব ছোটবেলায় আমাদের মন খারাপের কারণ গুলো খুব ছোট ছিল। ছেলেমানুষী ছিল।আস্তে আস্তে সময় গড়িয়ে বড় হবার সাথে সাথে সেই কারণেও ভিন্নতা আসে। আমাদের জটিলতা বাড়তে থাকে।সরলতার জায়গাটা ভারী হয়।আমরা অভিজ্ঞ হতে শুরু করি।একটা পর্যায়ে অভিজ্ঞতার ভারে কেমন যেন নুয়ে পরি।এসব কিছুর মাঝখানে আমাদের ভালোলাগা আর ভালোবাসার জায়গা গুলোতে অনেক নতুন কিছু সংযোজিত হয়। রাগ,অভিমান,আক্ষেপ,প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতা ইত্যাদি কঠিন শব্দগুলো জায়গা করে নেয়।আস্তে আস্তে তা হয়তো মনের কোনো গহীনে জেঁকে বসে।বাসা বাঁধে।আর আমাদের তুচ্ছ তুচ্ছ এই কারণের সমষ্টিগত প্র‍য়াশেই একদিন মন খারাপ হয়।মনে ক্ষত জমে।
ক্ষতের আকার আর গভীরতা বাড়তে থাকে।আমরা মানিয়ে নিয়ে চলতে শুরু করি। কেননা নিত্যকার কাজকর্ম কখনো থেমে থাকার নয়।মন খারাপের কারণ এই কাজের আড়ালে ঠিক কতটুকু হারিয়ে যাচ্ছে তার আর হিসেব কষা হয় না।এভাবে একদিন আবিষ্কার হয় আমাদের মনটা মরে গেছে।আমাদের মন আর আগের মতো করে বর্ণিল রঙে রাঙাতে পারছে না নিজেকে।
তার মানে আমাদের আত্নার মৃত্যু হয়ে গেছে।একটু একটু করে, যার দিকে আমাদের ব্যস্ততা আর খামখেয়ালিপনায় কখনো নজড় দেয়ার সুযোগ হয় নি।

মন ভালো না থাকলে শরীরেও একসময় তার বীজ বপন হয়।শারীরিক মৃত্যুটাও কাছাকাছি চলে আসে।তাই পৃথিবীটাকে দেখার সুযোগে হারিয়ে যাওয়ার আগে মনের যত্ন নিতে শেখাটা জরুরি।

Close