নওগাঁশিরোনাম

নওগাঁর রাণীনগরে টেন্ডারে ঝড়ে ভাঙ্গা ও মরা গাছ, কাটা হলো জীবিত গাছ

 

কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ : টেন্ডার হয়েছে ৯টি ঝড়ে ভাঙ্গা এবং মরা গাছ কর্তনের। মরা এবং ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাছের পরিবর্তে কেটে নেওয়া হয়েছে জীবিত ৯টি গাছ। এ ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায়। ইজারা গ্রহীতা আব্দুস সালাম এক লক্ষ টাকা মূল্যে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, গাছগুলো কর্তনে খাতাপত্রে সরাসরি নিলাম এবং ঝড়ে ভাঙ্গা ও মরা গাছ দেখানো হয় । অথচ ইউএনও ইজারা গ্রহীতার সঙ্গে যোগসাজস করে নামে মাত্র মূল্যে জীবিত গাছগুলো কেটে নেওয়ার জন্য সন্ধি করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২২ মার্চ নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তর থেকে ৪৬.৪৩.৬৪৮৫.০০৬.০৩৪.৩৪.২০-৩৩৭ নং স্মারকে টেন্ডারের মাধ্যমে ঝড়ে ভাঙ্গা ও মরা গাছ কর্তনে টেন্ডার হয়। গাছগুলোর অবস্থান উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা চত্বরে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা মরা কোন গাছ নেই তাই ইজারা গ্রহীতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজস করে জীবিত গাছগুলি কেটেছেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার খোরাক যুগিয়েছে। ফলে সবগুলি গাছ কর্তন করা হলেও রেইনট্রি গাছটি ডালপালা ছাঁটা অবস্থায় গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সরেজমিন দেখা গেছে, ইজারা গ্রহীতার পক্ষের লোকজন ক’দিনে উপজেলার পরিষদের অভ্যন্তরের জীবিত ৮টি ইউক্যালিপটাস গাছ কর্তন করেছে। তবে ছায়াবৃক্ষ ১টি রেইনট্রি গাছের ডালপালা কর্তন করা হলেও কাজ বন্ধ থাকায় গাছটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অনেকে বলেন, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত এলাকার ঝড়ে ভাঙ্গা ও মরা ৯টি গাছ কর্তনে নিলাম হয়। কিন্তু তা না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঁতাত করে নামকাওয়াস্তে টেন্ডার দিয়ে বিশালাকারের সবুজ ৯টি ছায়াবৃক্ষ কাটা হয়েছে। তারা বলেন, গত ৫বছর রাণীনগরে গাছপালা ভেঙ্গে যাওয়ার মতো কোন ঝড় হয়নি এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে কোন গাছ ঝড়েও ভাঙ্গেনি,মরেও যায়নি। মাঝখান থেকে বিভিন্ন সময় গাছগুলির নিচে বসে যে বিশ্রাম নিতাম এখন থেকে সে যায়গাটুকুও রইলোনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন ও অন্যান্য আবাসিক ভবনের সংস্কারের নামে সরকারি লাখ লাখ টাকা হরিলুট করার জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরের এসব পুরনো ছায়াবৃক্ষ কাটা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এই গাছগুলো বিক্রির জন্য কবে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বা কিভাবে কত টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে তা গাছ বিক্রয় কমিটির অনেক সদস্যই জানেন না।
টেন্ডার কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাইদুর রহমান মিয়াকে তার অফিসে না পেয়ে তার মুঠোফোনে (০১৭১২০৮৯১৮৩) যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিউজ না করতে এবং সরাসরি দেখা করতে অথবা তার কাছে প্রতিবেদকের প্রতিনিধিকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। অন্য একটি প্রশ্নে তিনি এ সংশ্লিষ্ট কোন কাগজ পত্র দিতে বা দেখাতে অনিহা প্রকাশ করেন। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close