মহানগরশিরোনাম-২সম্পাদকীয়-কলাম

প্রতিপত্তিশালীরা মানছে না হোম কোয়ারেন্টাইন বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: নগরীতে হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন না দেশের বাইরে বা অন্য জেলা থেকে আগত নাগরিকরা। আবার যারা মানছেন তারাও রয়েছেন চরম বিপাকে। এদিকে গতকাল রাজশাহী জেলায় প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ায় আতংকে আছে নগরবাসী।

গতকাল এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ আসে বরেন্দ্র বার্তা কার্যালয়ে। গনকপাড়ার তুলা পট্টির হক সাহেবের ছেলে বুলবুল। এসেছেন নারায়নগঞ্জ থেকে। তিনি হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। তিনি কারোও নিষেধ শুনেছেন না। যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রতিপত্তিশালী হওয়ায় এলাকাবাসীর কেউ নিষেধ করলে উল্টো প্রতিবাদ করেন।

কুমারপাড়ার জর্দা ফ্যাক্টারির গলিতে ১২৫ নং বাসার দোতালার ভাড়াটিয়া বিভু সরকার। তিনি মার্চ মাসে ভারত থেকে ফিরে আসেন। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় যে বাড়ী গুলোকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয় সেগুলোর মধ্যে এটি একটি। এই বাসায় আরো ৪টি পরিবার ভাড়া থাকে। হোম কোয়ারেন্টাইন সত্ত্বেও তারা অবাধে যাতায়াত করেন। পাড়ার সকলের সাথে মেলামেশা, বাজার যাওয়া সহ প্রাত্যাহিক সকল কাজই করে থাকেন। কয়দিন আগে এই বাড়ি থেকেই স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ বিষয়ে বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়াদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভু সরকার এই বাড়ির দোতালার বাসিন্দা হলেও তিনি এখানে এখন নিয়মিত থাকেন না। ভারত থেকে আসার পর তিনি এ বাড়িতে একদিনও থাকেন নি। পুলিশকে এসব বলার পরেও তারা হোম কোয়ারেন্টাইনের স্টিকার লাগিয়ে গেছে। বিভু এখন কোথায় আছে বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়ারা জানেন না। প্রতিবেশিদের সাথে কথা বলেও একই তথ্য পাওয়া যায়। কুমারপাড়ার মধু (শিক্ষক, বরেন্দ্র কলেজ), ফুদকি পাড়ার গুপ্তা হাউসেও হোমা কোয়ারেন্টাইন এর স্টিকার দেখা গেছে।

এদিকে হোম কোয়ারেন্টাইনের বিপত্তিতে পরেছেন নিম্ন আয়ের মানুষ গুলো। তারা বাড়িওয়ালা ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে অসহযোগিতার মুখে পরেছেন। এমনকি বাড়িওয়ালা বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নোটিশও দিচ্ছেন। নগরীর ভদ্রা জামালপুরে তাতী পাড়ায় বাস হুমায়ূন রেজা জেনুর। তার মেয়ে জামাই ঢাকার গাউসিয়ায় মেগা স্টিল মিলে শ্রমিকের কাজ করেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে ঢাকায় তারা থাকা খাওয়ার কষ্টে পরেন। এ অবস্থায় গত ২ এপ্রিল শশুর বাড়ী চলে আসেন। গতকাল রবিবার প্রতিবেশিরা তার ঢাকা থেকে ফিরে আসার এ ঘটনা পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে হোম কোয়ারেন্টাইনের স্টিকার মেরে যায় এবং বাড়ির সকল সদস্যকে বাড়ি থেকে বাইরে বেড়াতে নিষেধ করেন। পুলিশ চলে যাবার পর বাড়িওয়ালা তাদের গেটে তালা মেরে দেন এবং হুমায়ূন রেজা জেনুকে বাড়ি ছাড়ার মৌখিক নোটিশ দেন। নিম্ন আয়ের মানুষ, নির্মাণ শ্রমিক জেনু পরেছেন চরম বিপাকে। তিনি নিজেই ত্রাণ সংগ্রহ করে কোনো মতে সংসার চালাচ্ছিলেন এর মধ্যে কোয়ারেন্টাইনের কারণে বাড়িওয়ালা ও প্রতিবেশিদের অসহযোগিতার মুখে পরেন তিনি। এখন তার জীবন বাঁচানোই দায়। এ বিষয়ে তিনি পুলিশকে জানাতে ফোন দিলেও তার ফোন কেউ ধরছেন না বলে তিনি জানান। এ অবস্থায় তিনি ও তার পরিবার চরম দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন।

বরেন্দ্র বার্তা/এই

Close