গোদাগাড়িশিরোনাম-২

গোদাগাড়ীতে কম্বাইন হারভেস্টর দিয়ে ধান কাটা উদ্বোধন করলেন মেয়র মজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পৌরসভা এলাকায় কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কৃষকের ধান কাটা শুরু করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কাঁকনহাট পৌর আওয়ামী লেিগর সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ আজ মঙ্গলবার কাঁকন হাট পাড়ার কৃষক রকিবুল ইসলামের জমিতে চলতি বোরো মৌসুমের মেশিন চালিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই এর উদ্বোধন করেন।
এসময় মেয়র বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারির এই সময়ে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে বোরো মৌসুমে ধান কাটার জন্য শ্রমিক সংকটের একটা আশঙ্কা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করায় কৃষি সেক্টরের যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব হয়েছে এবং শ্রমিক সংকটের মতো সমস্যা থেকে কৃষকরা মুক্তি পেয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমে পৌর এলাকার কৃষিতে এখন অনেক ভালো ফলাফল দেখা যাচ্ছে। এ এলাকায় এখন শ্রমিক সংকট নেই এবং এই যন্ত্রের মাধ্যমে কৃষকরা ফসল খুব সহজে কেটে এবং মাড়াই করে ঘরে নিয়ে যেতে পারবে বলে জানান তিনি।
এেিদক গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৯-২০ অর্থ বছরের উন্নয়ন সহায়তা আওতায় (৫০% ভর্তুকিতে) গোদাগাড়ী উপজেলায় সাতজন কৃষককের মাঝে কম্বাইন হারভেস্টর বিতরণ করা হয়েছে। যন্ত্রটির বাজার মূল্য ২৯ লাখ টাকা, ভর্তুকিতে মেশিনটি ১৪লাখ ৫০ হাজার টাকায় কৃষকের নিকট সরবরাহ করা হয়েছে। এ মেশিন দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় এক একর ধান কাটা যাবে। এছাড়া যন্ত্রটি দিয়ে ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়া, ও বস্তাও করা যাবে বলে জানান তিনি।
এক একরের জন্য ডিজেল খরচ হবে মাত্র ৮ লিটার। তাই অতি অল্প সময় ও কম খরচে কৃষক তার ধান ঘরে উঠাতে পারবে। কৃষিতে শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় এবং নির্বিঘেœ কৃষকের সোনালী ফসল ধান ঘরে তুলতে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ২০০কোটি টাকার ভর্তুকি প্রদান নিঃসন্দেহে খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খাদ্য নিরাপত্তায় সব সময় কৃষকের পাশে আছেন বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মতিয়র রহমান বলেন, কৃষিকে পূর্ণাঙ্গভাবে যান্ত্রিকীকরণ করা এখন সময়ের দাবি। ইতোমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ৫০% ভর্তুকিতে গোদাগাড়ী উপজেলায় মোট ৭টি কম্বাইন হারভেস্টর প্রদান করা হয়েছে। যার মধ্যে গোদাগাড়ী পৌরসভায় ২টি, বাসুদেবপুরে ১টি, পাকড়িতে ১টি, গোদাগাড়ী ইউনিয়নে ১টি, মাটিকাটায় ১টি এবং কাঁকনহাট পৌরসভায় ১টি মেশিন দেয়া হয়েছে। এখানে উপস্থিত কৃষক সকলে মেশিনের কার্যক্রম দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। একই মেশিনে মুহূর্তের মধ্যে ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়া ও বস্তায় ভরে প্যাকেট হচ্ছে। খড়গুলোও আস্ত পাওয়া যাচ্ছে যা এই এলাকার মানুষের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সকলের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান তিনি।

এ সময় অন্যদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ও যন্ত্রটির মালিক আলহাজ্ব ফজলুল করিমসহ প্রতিবেশি কৃষকগণ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন । বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close