তানোরমহানগরশিরোনাম-২

করোনা মহামারী বীজ সংকট মোকাবেলায় বরেন্দ্র কৃষক বীজ ব্যাংক অবদান রাখছে

শহিদুল ইসলাম

করোনাভাইরাস মহামারী প্রতিরোধে দেশে যখন লক ডাউন আর দোকান পাঠ বন্ধ। সামাজিক দুরুত্বের কারনে মানুষ এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যেতে পাচ্ছেনা। গ্রাম থেকে শহরে আসতে বাঁধা। যোগাযোগ ব্যবস্থা অপ্রতুল। সবমিলে মানুষ নিজের এলাকায় বা নিজের ঘরেই নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছেন। এতোকিছুর মধ্যে থেমে নেই কৃষি প্রধান দেশের কৃষকের লড়াই। দেশের মানুষের মুখে আহার তুলে দেবার জন্য সর্বোচ্চা ঝুঁকি নিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষক উৎপাদন করে যাচ্ছেন নিরন্তর। করোনার সময়ে কৃষক যেমন তারঁ পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তেমনি এই দুর্যোগে সার্বিক উৎপাদন সামগ্রী সংগ্রহেও বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছেন। লকডাউনের কারনে বাজার দোকান পাট বন্ধ। সার, বীজসহ অন্যান্য উৎপাদন সামগ্রী সংগ্রহে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে কৃষককে। আর এই সময়ে অনেক বেশী সুবিধা দিচ্ছে সচেতন কৃষকদের পূর্বপরিকল্পিত সমন্বিত উদ্যোগ গুলো। তেমনি একটি উদ্যোগ বরেন্দ্র কৃষক বীজ ব্যাংক। ২০১৫ সালে ‘স্থানীয় বীজ রক্ষা করি, কৃষির ভিত মজবুত করি’ এই প্রত্যয়ে বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত রাজশাহীর তানোর উপজেলার দুবইল গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী মোল্লার প্রচেষ্টায় বরেন্দ্র কৃষক বীজ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এতে সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বকারসিক।
করেনাকালে কৃষক যখন বাজার থেকে বীজ সংগ্রহে সমস্যায় পড়ছেন তখন শেষ আশ্রয় স্থল হচ্ছে বরেন্দ্র বীজ ব্যাংক । করোনাকালে দুবইল গ্রামসহ আশপাশের প্রায় দুইশতাধিক কৃষক লাউ, কুমড়া, শিম, তরাই, ডেরসসহ বিভিন্ন সবজির বীজ সংগ্রহ করেছেন। বাড়ীর আশপাশের পরিত্যাক্ত জায়গা এবং পালানি জমিতে প্রচুর পরিমানে শাকসবজির চাষ শুরু করেছেন। এছাড়া বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে প্রায় ৭০ জনের অধিক কৃষক এই করোনাকালে আমন এবং বোরোধানের বীজ সংগ্রহ করেছেন। শুধু বরেন্দ্র অঞ্চল নয় করোনাকালে দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও এসেছে বীজ চাহিদা। কোরিয়ারের ম্যাধমে তা পৌছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বরেন্দ্র বীজ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরিবেশ পদক প্রাপ্ত কৃষক ইউসুফ আলী মোল্লা বলেন- “ করোনার সময়ে আমাদের বীজ ভ্যাংক থেকে এখন পর্যন্ত ২৫০ কেজি বিভিন্ন জাতের ধানবীজ বিািনময় করা হয়েছে।” তিনি আরো বলেন এসব জাত সবগুলোই দেশীয় প্রজাতির এলাকার পরিবেশ সহনশীল। জাতগুলোর মধ্যে তুলশি বোরো, রাধুনি পাগল, বালাম, শনি আউশ,দাদ খানি, তিলকা ফুলিসহ ইত্যাদি।
উল্লেখ্য যে, বরেন্দ্র বীজ ব্যাংক নিয়মিত দেশীয় প্রজাতির শাকসবজি, ধানবীজগুলো সুরক্ষা এবং সংরক্ষণ করে। যাতে দেশের স্থানীয় জাতগুলোর বিলুপ্ত না ঘটে। এ পর্যন্ত বরেন্দ্র বীজ ব্যাংকে তিন শতাধিক দেশীয় ধানের জাত সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া এলাকার সকল ধরনের শাকসবজি এবং রবি শস্য সহ স্থানীয় জাতের মসলার বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হয়।

লেখক:  আঞ্চলিক সমন্বয়কারী, বারসিক

Close