গোদাগাড়িশিরোনাম-২

গোদাগাড়ীতে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

 

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা থাকায় পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গোদাগাড়ী অধিকাংশ বিলের ধানী জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কেটে মাঠে শুকানোর জন্য রাখা ধান এখন মাঠেই নষ্ট হতে বসেছে। গত চার দিনে গোদাগাড়ীতে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে কৃষি অফিস। কৃষকরা জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ফসলের মাঠে পানি জমে গেছে। ধান ভিজে যাওয়ায় পাকা ধান বাড়িতে আনতে পারছেন না তারা। আবার মাঠ পানিতে তলিয়ে থাকায় ধান, খড় নষ্ট হতে বসেছে। শ্রমিক সংকটের কারণে দ্রুত ফসল কাটা বা কাটা ফসলও বাড়িতে আনা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে অসময়ের বৃষ্টিতে দুর্ভোগ নেমে এসেছে কৃষকের ঘরে।খোজ নিয়ে জানা গেছে কয়েক দিনের বর্ষনে উপজেলার সিএন্ডবি আঁচুয়া নিচু জমির ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া বাসুদেবপুর,সারাংপুর, রামনগর এলাকায় জমিতে পানি জমে আছে। ফলে পাকা ধান মাঠে পড়েই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই বছর উপজেলার ছোট-বড় ও মাঝারি শ্রেণির ২৬ হাজার কৃষক ১৩ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। কেবল মাত্র ধান কাটতে শুরু করেছে এই এলাকার কৃষক।গতকাল বৃহস্পতিবার ঝড় ও বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা ধান মাটির সাথে হেলে পড়েছে।আচুয়ার গ্রামের কৃষক জাফর আলী বলেন, এই জলবদ্ধতা তৈরী হয়েছে পানি নিষ্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে জমি সমতল করায়। আঁচুয়া তালতলার উঁচু এলাকা থেকে নিচের দিকে পানি প্রবাহিত হওয়ায় এবং কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তাদের জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। এজন্য ধান কেটে নিচ্ছি। এতে করে ফলন কম হওয়ায় ক্ষতির সম্মেখীন হতে হবে। তিনি আরো বলেন, সিএন্ডবি বিলের ১১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। গত সপ্তাহে ধান কেটে মাঠে শুকাতে দিয়েছি। কিন্তু এর মধ্যে বৃষ্টিতে সব ধান ভেসে গেছে। উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন,ঝড়ের ও বৃষ্টির কারণে ৭ বিঘা জমির পাকা ধান মাটির সাথে হেলে থাকায় ফলন কম হওয়ার আশংকা করছে এই কৃষক।শহড়াগাছী গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর , শরিফুলও একই কথা বলে। একই গ্রামের আরেক ভুক্তোভোগী কৃষক ফরমান আলী বলেন, বার বার বৃষ্টির পানিতে চাষ করা জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাওয়ায় এবার আর ধান চাষ করিনি। জলাবদ্ধ পানি নিষ্কাশনের জন্য কেউ এগিয়ে আসে না। আগে এ বিলের পানি খাড়ি দিয়ে খৈলস্যা বিল হয়ে পদ্মা নদীতে গিয়ে মিশতো। খাড়ি ভরাট হয়ে দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নিস্কাশন পথ বন্ধ হয়ে গেছে।উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন,বৃষ্টি এটা প্রাকৃতিক দূর্যোগ এটাতে কারো হাত নাই তবে যে সব এলাকার জমিতে বৃষ্টির পানি জমে জলবদ্ধতা দেখা দিয়েছে সেসব এলাকায় কৃষি জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমি সিএন্ডবি আঁচুয়ার নিচু জমি গুলো পরিদর্শন করেছি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close