চারঘাটদূর্গাপুরপুঠিয়াবাঘামহানগরশিরোনাম-২

রাজশাহীতে করোনা ভাইরাসের মধ্যেও প্রকাশ্য চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা

 

মোঃআমজাদ হোসেন, রাজশাহী: রাজশাহী চারঘাট, বাঘা, পুঠিয়া, দূর্গাপুরে চিহ্নিত কয়েকটি এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ সুদের রমরমা ব্যবসা। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারী না থাকায় সুদ ব্যবসায়ীদের বেড়াজালে জিম্মি হয়ে পড়েছেন শতশত গরিব অসহায় পরিবার।

অভিযোগ উঠেছে, আইনি জটিলতা এড়াতে সুদ ব্যবসায়ীরা স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনের কিছু অসাধু লোকজনের সঙ্গে সখ্যতা রাখছে। যার কারণে সময়মতো দেনা পরিশোধ করতে না পেরে ভুক্তভোগীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আবার কেউ কেউ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে। এই অবৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অস্বাভাবিকহারে সুদ আদায় করছে তারা।

রাজশাহী চারঘাট,বাঘা,পুঠিয়া, ও দূর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ৪০০ শীর্ষ সুদ ব্যবসায়ী রয়েছে। এছাড়া মাঝারি সুদ ব্যবসায়ী আছে আরো ৭০০। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুদের টাকা লেনদেন হয় পুঠিয়া উপজেলার মাহেন্দ্রার বাজার বানেশ্বর বাজার, ঝলমলিয়া হাট, মোল্লাপাড়া হাট শিবপুরহাট, দূর্গাপুর উপজেলার দূর্গাপুর হাট, আমাগাছী হাট,বালিবাজার,আলিপুর­ বাজার, কাঠালবাড়ীয়া বাজার, বাঘা উপজেলার বাঘা হাট, আড়ানী হাট, লালপুর হাট,চারঘাট উপজেলার চারঘাট বাজার, সারদা বাজার, হলিদাগাছী বাজার মালেকার মোড় নন্দনগাছি হাটের। সুদ ব্যবসায়ীরা এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া অসহায় দিনমজুর, প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে। কেউ টাকা নিতে চাইলে জমির দলিল জমা রেখে সাদা স্ট্যাম্পে কথিত চুক্তিপত্রের নামে স্বাক্ষর অথবা টিপসই নেয়।

এরপর তারা স্ট্যাম্পে কথিত চুক্তির নামে ইচ্ছেমতো সুদের পরিমাণ লিখে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে। বর্তমানে করোনার প্রভাব দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন পেশার লোকজন বেকার হয়ে পড়েছেন। সে সুযোগে সুদ ব্যবসায়ীরা মাসে প্রতি হাজারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা হারে সুদ আদায় করছে। অর্থাৎ সুদের হার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ যা দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের সুদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি, ১ লাখ টাকা নিলে মাসিক সুদ দিতে হবে ৩০ হাজার টাকা!

সুদ ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পরে রাজশাহী জেলার বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া, ও দূর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অনেকেই সময়মতো টাকা দিতে না পারায় গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। আবার সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অনেকেই বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close