মোহনপুরশিরোনাম-২

মোহনপুরের কেশরহাট পৌরসভায় মিলনের খাদ্য সামগ্রী প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন খাদ্য সামগ্রী দেয়া অব্যাহত রেখেছেন। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরবাসীর মধ্যে বিতরনের জন্য নেতাদের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী , বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশক্রমে নির্বাচনী এলাকা রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) ব্যক্তিগত অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন মিলন।

তিনি বলেন, লকডাউনে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন, ও উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ থাকায় কর্মহীন পড়েছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। এই সকল কর্মহীন মানুষের মধ্যে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ চলমান থাকবে বলে জানান। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। আজ রোববার নতুন করে ৮৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা আজ পর্যন্ত ১৪৬৫৭জন। প্রতিদির আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েই চলছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিয়ে চলছে নানা টালবাহানা। আবার পরীক্ষার নামে চলছে অমানবিক হয়রানী। এই অবস্থায় দেশের মানুষের কি অবস্থা হবে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ জানেন না বলে জানান মিলন। পবা-মোহনপুরসহ দেশবাসীকে সৃষ্টিকর্তার নিকট ক্ষমা চাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বের নিকট তুলে ধরে নিজেদের দূর্নীতি, খুন গুম নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ঢাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্ববাসী ও দেশের মানুষ তা এখন যেনে গেছেন দেশের উন্নয়নে কথা। উন্নয়ন নিয়ে সরকার সর্বদা মিথ্যাচার করে চলেছেন। দেশের সকল সেক্টরে ধস নেমেছে। দুইমাসে দেশের উন্নয়নের চিত্র জনগণের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে। দেশের উন্নয়ন সরকারের মুখের কথা মাত্র। বাস্তবে আসলে কিছুই নাই বলে জানান মিলন। বর্তমান বিনা ভোটের সরকার দেশপরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই সরকারের পক্ষে জনগণের কোন প্রকার সমর্থন নাই বলে সরকার আইনশৃংখলা বাহিনরি উপর নির্ভর করে দেশ পরিচালনা করছেন বলে উল্লেখ করেন মিলন।

তিনি আরো বলেন, এই ভাইরাস না আসলে স্বাস্থ্যখাতের যে বেহালদশা মানুষ তা বুঝতে পারত না। দেশের সকল মেডিকেলে চলছে চিকিৎসার নামে ব্যবসা। কোথায় ভাল চিকিৎিসা হয়না। এখনতো করোনার বাহিরের রোগিদেরও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছেনা। আর করোনা ভাইরাস হলেতো ডাক্তার ও নার্সরা রোগির চিকিৎসাতো দূরের কথা কাছে পর্যন্ত যাননা। কারন তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পোষাক আসল নয়। সরকার যে গুলো সাপ্লাই নিয়েছেন সেগুলো নকল। এই সময়ে এখানেও সরকারের নেতাকর্মী ও মন্ত্রী, এমপিরা দূর্নীতি করেছে এবং এখনো করে চলছেন বলে জানান মিলন। এই দূর্নীতিবাজ সরকারের ক্ষমতার দিন ফুড়িয়ে আসছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, কর্মহীন দরিদ্র ও অসহায় মানুষের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ এবং চাল, ডাল তেল আওয়মী লীগের নেতাকর্মীরা আত্মস্বাত শুরু করেছে। আসলে এই সরকারের এবং তার নেতাদের কোন প্রকারের লজ্জা নাই বলে উল্লেখ করেন তিনি। ক্ষমতা থেকে নেমে দেশবাসীকে দূর্নীতির কবল থেকে রক্ষা করতে বর্তমান বিনা ভোটের সরকারকে আহবান জানান মিলন।

বক্তব্য শেষে সপুরাস্থ নিজ কার্যালয় থেকে অত্র পৌরসভার জন্য তিনি খাদ্য সামগ্রী প্রেরণ করেন। এসময়ে কেশরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন আলো, অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, বাকশিমইল ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মাহবুবার রশিদ এবং পৌর যুবদলের আহবায়ক শাহিন আলম এই খাদ্য সামগ্রী গ্রহন করেন। এসময়ে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে খাদ্য সামগ্রী প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার জন্য নেতাদের অনুরোধ করেন তিনি। এছাড়াও করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে সকলকে ঘরে থাকার পরামর্শসহ বার বার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার আহবান জানান তিনি। সেইসাথে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলার জন্য এলাকাবাসীসহ দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান মিলন।
বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close