মহানগরশিরোনাম-২

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বছরের বেতন-ফি মওকুফসহ তিন দফা দাবিতে রাজশাহীতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে বুধবার (১৩ মে) সকাল ১১টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। করোনাকালীন সময়ে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এবছরের বেতন-ফি মওকুফ, রাজশাহীতে অধ্যয়নরত অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মেস-বাসা ভাড়া মওকুফে প্রজ্ঞাপন ও রাষ্ট্রীয় বরাদ্দসহ তিন দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি সোহরাব হোসেন। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, রাজশাহী জেলা সমন্বয়ক কমরেড আলফাজ হোসেন, ছাত্র ফ্রন্ট নেতা সজিবুর রহমান প্রমুখ।

মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মহামারীতে দেশ এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। শ্রমজীবী মানুষেরা ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ফলে তাদের আয়ের সমস্ত পথ বন্ধ। অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন বিপর্যস্ত।পরিবারের খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে সরকার সংক্রমন রোধ করতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ আমরা জানতে পারছি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিস্ঠানের পরিচালনা পরিষদ শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন-ফি প্রতিষ্ঠানে জমা দেবার নোটিশ জারি করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন এহেনো সিদ্ধান্তে আমরা হতবাক হয়েছি৷ অপরদিকে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী অধিকাংশ শিক্ষার্থী যারা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মেস/ ভাড়াকৃত বাসায় থেকে শিক্ষাগ্রহন করতো তারা মেস / ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। আমাদের দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের সন্তানেরা যারা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন সেই শিক্ষার্থীরা অধিকাংশয় টিউশনি/খণ্ডকালীন চাকুরী করে শিক্ষাজীবন পরিচালনা করেন৷ এই শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ পরিবার কর্মজীবী তাদের হাত চললে পেট চলে, করোনা পরিস্থিতিতে আজ তারা কর্মহীন হয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিশেহারা হয়ে দিনাতিপাত করছে এবং শিক্ষার্থীদের নিজের টিউশনি বা খন্ডকালীন চাকরি না থাকায় কোন ক্রমেই এই শিক্ষার্থীদের পক্ষে মেস /বাসা ভাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় আমরা অনতিবিলম্বে এ সকল শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা ও মেস-বাসা ভাড়া মওকুফ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা এবং সরকারি বরাদ্দ দেয়ার জোর দবি জানাচ্ছি৷ কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি সরকার সেদিকে না গিয়ে, নিরবতা ভান করে মুনাফা লোভী মালিকদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।
আবার কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস-পরিক্ষা নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এ ক্ষেত্রে আমরা মনে করি আমাদের মত ধনবৈষম্যর সমাজ অর্থনীতির দেশে অনলাইনে ক্লাস-পরিক্ষা নেয়াতে আরও বৈষম্য বৃদ্ধি পাবে, গ্রামের একজন নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট কানেকশন ও ব্যবহারের জন্য একটি ডিভাইজ এর নিশ্চয়তা কে দিবে, যদি না দেয়া হয়, তাহলে কি ভাবে অন লাইনে ক্লাস করবে। আমাদের দেশে ডিভাইসগুলো কতটুকু কার্যকর তা নিয়েই নানান প্রশ্ন রয়েছে। সে কারণে পর্যাপ্ত আয়োজন নিশ্চিত না করে, তাড়াহুড়া করে অন লাইনে ক্লাস-পরিক্ষা শুরু করা হলে তা শিক্ষার্থীদের চরম বৈষম্যের মধ্যে ফেলবে। তাই নেতৃবৃন্দ নিম্নোক্ত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর তিন দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ। জেলা প্রশাসক এর পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অফিস সহকারী মঞ্জুরুল ইসলাম।

দাবিসমূহঃ
১। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ বছরের বেতন-ফি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেমিস্টারের টিউশন ফি মওকুফ কর।
২। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাসা-মেস ভাড়া মওকুফে প্রজ্ঞাপন ও রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ চাই।
৩। সকলের জন্য পর্যাপ্ত আয়োজন নিশ্চিত করা ছাড়া অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া চলবে না।

উল্লেখ্য, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর উদ্যোগে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ সারাদেশে উক্ত তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ-মানবব­ন্ধন ও স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচী পালিত হয়।

বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close