অর্থ ও বাণিজ্যশিরোনাম

মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা পরিস্থিতির মধ্যে রাজশাহী নগরীতে মার্কেটসহ দোকানপাট খোলার পক্ষে অনড় অবস্থায় রয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল। তবে প্রশাসন, চিকিৎসক ও জনপ্রতিনিধিদের মত এই মুহুর্তে মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতি। এনিয়ে উভয় পক্ষ দুই দফা আলোচনায় বসলেও বৃহস্পতিবার কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা সমাপ্ত করতে হয়েছে। এখন ব্যবসায়ীরা বলছেন, মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবে না।

ঈদকে সামনে রেখে ১০ মে মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে রজশাহী নগরীর ব্যবসায়ী নেতারা। তবে একদিন যেতে না যেতেই ১২ মে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মর্কেটসহ দোকানপাট খোলার দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভ করে। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে বিভিন্ন পন্থায় বৃহস্পতিবারও তারা মার্কেটসহ দোকানপাট খুলে ব্যবসা করছে।

তবে রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও চিকিৎসক মহল মার্কেটসহ দোকানপাট বন্ধের পক্ষে। তাদের দাবি এই মুহুতে মার্কেট খোলা হলে জনগণকে নিয়ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সাথে তারা রাজশাহীতে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বা এক জেলা থেকে অন্যা জেলায় প্রবেশ বা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এজন্য তারা প্রশাসনকে কঠোর হতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের একটি সূত্রে দেয়া তথ্য মতে, দোকান খোলার জন্য ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে রাসিকের মেয়রের কক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত আলোচনা হয়। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন মেয়রসহ স্থানীয় প্রশাসন, চিকিৎসক, রাজশাহী-২ আসনের সাংসদ। তবে ব্যবসায়ীদের অনড় অবস্থানের কারণে কোন প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা শেষ করতে বাধ্য হন উভয় পক্ষকে। শুক্রবার আবারো উভয় পক্ষ বসে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।

পূর্ব ঘোষণা অনুসারে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে তিন টায় রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ স্থানীয় প্রশাসনের সাথে বৈঠকে বসেন। এসময় ব্যবসায়ীরা তাদের দাবি তুলে ধরে জানান, তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খুলে ব্যবসা করবে। তবে ব্যবসায়ীদের অনড় অবস্থানের কারণে দীর্ঘ প্রায় দুই ঘন্টা আলোচনা শেষে ৫টার দিকে কোন প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক শেষে ঠিক করা হয় বিভিন্ন মার্কেটেন ৯জন নেতৃবৃন্দের সাথে সন্ধ্য সাড়ে সাতটায় আবারো বৈঠকে বসা হবে।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ব্যবসায়ীদের ৯জন নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে পুনরায় বৈঠক শুরু করা হয় মেয়রের কক্ষে। এসময় মার্কে ট খোলার ফলে রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে ৯জন ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব নিতে বলা হলে, তারা তা সেই দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন। ফলে দীর্ঘ দুই ঘন্ট চলা দ্বিতীয় দফার আলোচনাও কোন প্রকার সমাধান ছাড়াই সমাপ্ত হয়। তবে শুক্রবার দুপুর তিনটায় আবারো উবয় পক্ষ আলোচনায় বসায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ব্যবসায়ী নেতা সেকান্দার আলী জানান , আমরা বার বার বলছি সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করতে চাই। তবে প্রশাসন তা মানতে নারাজ। আমরা প্রশাসনকে বলেছি আপনারা রাজশাহী নগরীর বাজার এলাকায় দুই স্তরের বেরিকেট দিয়ে ক্রতাদের মার্কেটে প্রবেশ করান। নিরপত্তা জোড়দার করেন।

ব্যবসায়ীদের এই নেতা আরো জানানা, ঈদকে সামনে রেখে অন্যান্য অঞ্চলের মার্কেট খোলা হয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে আমাদের ব্যবসা বন্ধ। যদি ঈদের বাজার আমরা ধরতে না পারি, আর ঈদের পরে যদি সরকার আবারো নতুন করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত দেয় তবে আমাদের ক্ষতির অংকটা হবে দ্বিগুণেরও বেশি। যা আমাদের পক্ষে পুশিয়ে নেয়া আর সম্ভব হবে না। তাই আমরা দাবি জানাচ্ছি আমাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খুলতে সহযোগীতা করুন। এর জন্য প্রশসনকে আমরা সবধারণে সহযোগীতার জন্য প্রস্তুত।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close