সাহিত্য ও সংস্কৃতি

পরিত্যক্ত বাড়িতে আমি

সবনাজ মোস্তারি স্মৃতি

পরিক্ষা শেষ।তাই খালার বাসায় এসেছিলাম জয়দেবপুরে।এর আগে কখনো জয়দেবপুর আসেনি।এটাই প্রথম।খালার বাসায় আমার সমবয়সী বলতে স্পন্দন আমার খালাতো ভাই আছে।যদিও তাকে আমার একদম সহ্য হয় না।সহ্য না হওয়ার কারন আছে। স্পন্দন একটু ত্যাদর টাইপের।

ঈদের পর নানুর বাসায় গেলেই আমাদের ঝগড়া লেগে থাকে। আর ঝগড়ার কারন হলো আমাকে স্পন্দন মর্ডান মাইয়া বলে ডাকে।হাজার ভালো হয়ে থাকলেও আমার নাম কখনো শুনিনি তার কাছে। বাসায় ঢুকতে ঢুকতেই আমাকে রাগাতে শুরু করেছে মর্ডান মাইয়ার আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম। আজ আর রাগলাম না।অনেক দিন পর দেখাতো। খালামনি স্পন্দনকে বললো বির্বন যে ঘরে থাকবে ঐ ঘরে ওকে নিয়ে যা। স্পন্দন আমার ব্যাগটা নিয়ে বললো চলেন মর্ডান মাইয়া উপরে আপনার ঘরটা দেখিয়ে দি। আমি রেগে স্পন্দনকে বললাম আমাকে না রাগালে তোর পেটের ভাত হজম হয়না তাইনা। আমার কথা শুনে স্পন্দন দাত কেলিয়ে হাসতে হাসতে বললো না রে।

খালামনিদের বাড়িটা বেশ পুরোনো আর অনেক বড়।আমার এমন বাড়ি খুব পছন্দ। উপরে ঘরে গেলাম। খুব সুন্দর করে সাজানো আর বেশ বড় ঘরটা। স্পন্দন রেস্ট নিতে বলে চলে গেলো। আমি বিছানাই বসে ঘরটার চারি দিকে তাকালাম ঘরটাই চারটা জানালা বিশাল বড়। কিন্তু সব কইটাই বন্ধ। আমি গিয়ে একটা জানালা খুলে খুব অবাক হলাম। আর অবাক হবার কারন হচ্ছে একটা বিশাল বাড়ি। রাজপ্রসাদ বল্লেও ভুল হবে না। আমি তো বাড়িটা দেখে খুব খুশি হলাম। অবাক দৃষ্টিতে বাড়িটির দিকে তাকিয়ে আছি। ঐ দিকে খালামনি ডাকচ্ছে খাওয়ার জন্য।

নিচে গেলাম। খেতে খেতে খালামনিকে জিজ্ঞেস করলাম খালামনি তোমাদের বাড়ির পিছনে অতবড় বাড়িটা কাদের? বেশ সুন্দরতো। খালামনি বললো এসে এসে তোর ঐ বাড়ি দেখা হয়ে গেছে? আমি হাসতে হাসতে বলালাম হুম। স্পন্দন আমাকে বললো ঐ বাড়ির দিক তাকাস না ভুত আছে। খালামনি ধমক দিয়ে বললো চুপচাপ খা ও। খাওয়া শেষ করে খালুর সাথে বসে গল্প করছিলাম।

খালু বললো ঐ বাড়িটা খালুর দাদু কিনে নিয়েছিলো ব্রিটিশ আমলে। বলতে গেলে বাড়িটা খালুদের। কিন্তু প্রায়১০০/১৫০ বছর থেকে ঐ বাড়িটা ঐ ভাবেই পরে আছে। বলা যেতে পারে পরিত্যক্ত বাড়ি। আমি খালুকে জিঙ্গেস করলাম পরিত্যক্ত কেনো ? সে সময় ইন্ডিয়া থেকে এক লোক এসেছিলো বানিজ্য করতে আর সাথে ছিলো ১৯/২০ বছরের তার একটা মেয়ে। মেয়েটি দেখতে খুব সুন্দর ছিলো। মেয়েটির মা ছিলো না বলে বাবার সাথেই সব জায়গাই যেতো। আর সে মেয়েটিকে খালুর দাদুর খুব পছন্দ হয়।তিনি মেয়েটিকে তাদের কাছে রেখে দেবার জন্য মেয়েটির বাবার কাছে প্রস্তাব দেই কিন্তু মেয়েটির বাবা রাজি না হলে। তাকে মেরে ফেলা হয়। মেয়েটি যখন জানতে পারে তার বাবাকে মেরে ফেলা হয়েছে তখন সে ফাসি দিয়ে আত্তহত্যা করে। আর তার পর থেকে সে বাড়িতে অনেক রকম সমস্যা হত। একটা সময় দেখা গেলো ১৯/২০ বছরের দাসিগুলো কোনো কারন ছাড়াই ফাঁসিতে ঝুলতো। অনেক ওঝা আনা হয়েছে কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।এমনটা প্রায় হত। এক সময় বাড়িটা পরিত্যক্ত বলে ঘোষনা করা হয়।খালু আর আমার, ঐ বাড়ি নিয়ে গল্প করতে দেখে খালামনি রেগে বললেন ছোট মানুষ দুদিনের জন্য ঘুরতে এসেছে। ওকে এই সব গল্প শুনানোর কি দরকার। অনেক রাত হয়েছে বির্বন এবার ঘুমোতে যাও। খালুও বললো হুম মা অনেক রাত হয়েছে ঘুমোতে যাও কাল গল্প করবো।

আমি আর কিছু না বলে উপরে গেলাম। ঘুরে ঢুকতে যাবো ঠিক তখন স্পন্দন ডাক দিয়ে বললো বির্বন আমি একটা নতুন গেম নামিয়েছি হেব্বি মজা আই তুই আর আমি খেলি। আমি বললাম চল খেলি।  স্পন্দন গেমটা অন করলো।অদ্ভুত একটা মিউজিক বেঝে উঠলো শুনলেই গা হিম হয়ে আসবে। স্পন্দন আমার দিকে তাকিয়ে দাত কেলিয়ে হেসে বললো কিরে ভয় পেলি নাকি। আমি বললাম না। ভয় পাইনি কিন্তু গেম খেলতে ইচ্ছে করছে না এখন।তুই খেল আমি শুতে গেলাম। এই বলে স্পন্দন এর ঘর থেকে বের হয়ে আমার ঘর এ আসলাম।

ঘরটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। এমন একটা পুরোনো বাড়িতে থাকার কত ইচ্ছাই না ছিলো আমার।আজ তা পুরোন হয়েছে খালামনির বাড়িতে এসে। ইচ্ছে করচ্ছে এত্তগুলো সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড করি। বেশ কয়েকটা সেলফি তুললাম এবার ফেসবুকে আইডি টা লগইন যেই করতে যাবো ঠিক সে সময় কার ডাক শুনতে পেলাম। জানালার দিকে তাকিয়ে দেখলাম পুরোনো বাড়িটার বড় দরজাই একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে।চাঁদের আলো পড়ছিলো খুব ভালো। সেই আলোতে মেয়েটিকে দেখলাম। খুব সুন্দর দেখতে। আমি একটা মেয়ে হয়ে এত সুন্দর বলচ্ছি তাহলে কোনো ছেলে হলেতো ঐ মেয়ের দিক থেকে চোখের পলকই সরাবে না। জিঙ্গেস করলাম কাউকে খুজছো? মেয়েটি বললো আমার বাবা কোথাই বলতে পারো? আমি বললাম আমি তো নতুন এসেছি এখানে।আমি কিছু জানি না। আর তোমার বাবাকেও আমি চিনি না। আর কিছু বললো না মেয়েটি। এক নিমিশে কোথাই যে হাওয়া হয়ে গেলো বুঝতে পারলাম না। সাতপাঁচ না ভেবে জানালা বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম। অনেকক্ষণ থেকে শুয়ে আছি ঘুম আচ্ছে না।নতুন জায়গা এ জন্য হয়তো ঘুম আচ্ছে না। শুয়ে শুয়ে মোবাইল ফোনটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করচ্ছি। আবার কেমন যেনো মনে হলো কেউ জানালা ধাক্কাচ্ছে।বিছানা থেকে উঠে জানালার কাছে গিয়ে জানালা টা খুল্লাম কিন্তু কিছু দেখলাম না। জানালা বন্ধ করে শুয়ে পরলাম। কিছুক্ষণ পরে আবার মনে হনে হলো কেউ জানালা ধাক্কাচ্ছে। কিন্তু আমার ঘরতো দোতলাই।জানালা কেমন করে ধাক্কাবে। এবার আমার একটু ভয় করতে লাগলো। একবার ভাবলাম খালামনিকে ডাকবো আবার ভাবলাম থাক খালামনি ঘুমিয়ে পরেছে।শুধু শুধু বিরক্ত করা ঠিক হবে না। এবার বিছানা ছেড়ে উঠে জানালা খুলে দেখলাম সে মেয়েটি বড় দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ,আবার আমাকে জিঙ্গেস করলো আমার বাবাকে দেখেছো? এবার আমি একটু বিরক্ত হয়ে বললাম তোমাকে তো একটু আগেই বললাম, তোমার বাবাকে দেখিনি আর তোমার বাবাকে আমি চিনিও না।তুবুও বারবার বিরক্ত করছো কেনো? মেয়েটি আবারও কিছু না বলে চোখের সামনে থেকে হাওয়া হয়ে গেলো। এবার খুব অবাক হলাম একটা মানুষ এত তাড়াতাড়ি চোখের সামনে থেকে উধাও হয় কি ভাবে! আর ঠিক তখনি মনে হলো আমার ঘরটাতো দোতালা তাহলে সে জানালা ধাক্কাচ্ছিলো কিভাবে! এবার আমি একটু বেশি ভয় পেলাম। তাড়াতাড়ি জানালা লাগিয়ে বিছানাই এসে বসে পরলাম। আমার গা ঘামছে। বড্ড পানি পিপাসা পেয়েছে।পানি খেতে গিয়ে দেখি গ্লাসে পানি নাই। তাই পানি আনতে নিচে যাবার সময় দেখলাম স্পন্দন তখন ও গেম খেলচ্ছে।স্পন্দন জেগে আছে দেখে ভয়টা কেটে গেলো। আমি আর পানি আনতে নিচে না গিয়ে স্পন্দন এর ঘরে ডুকলাম। আমাকে দেখে স্পন্দন বললো কিরে মর্ডান মাইয়া ঘুমাসনি? নাকি সারারাত জেগে থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুমাবি? আমি হাসতে হাসতে বললাম আরে তা না আসলে নতুন জায়গাতো তাই ঘুম আসছে না। কিছুক্ষণ স্পন্দন এর সাথে গল্প করলাম। একবার ভাবলাম স্পন্দনকে বলি মেয়েটার কথা আবার ভাবলাম থাক ঐ যে ত্যাদড় এটা নিয়ে আবার কি বলে বসে।শেষে আমাকে পাগল বানিয়ে রেখে না দেয়।

তখন প্রায় ২:৪৫ বাজে স্পন্দন এর সাথে গল্প শেষ করে আবার ঘরে এসে শুয়ে পরলাম।সকালে ঘুম ভাঙ্গলো খালামনির ডাকে।কিরে মা রাতে ঘুমোতে কোনো সমস্যা হয়নি তো? আমি বললাম না খালামনি কোনো সমস্যা হয়নি। খালামনি বললো এখন তাহলে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসো নাস্তা করবে। আমি ঠিক আছে বলে ওয়াসরুমে গেলাম।বেশিন এর আয়নার সামনে দাড়াতেই রাতের ঐ মেয়েটির কথা মনে পরলো। কি মেয়েরে বাবা অত রাতে বাবার খোজ করার জন্য ঘুরে বেরাচ্ছে। এত্ত সুন্দর একটা মেয়ে ভুতে না ধরে। এইসব ভাবতে ভাবতে ব্রাশ করে মুখ ধুয়ে ফ্রেস হয়ে নিচে গেলাম নাস্তা করতে। নিচে গিয়ে দেখি সবাই আমার জন্য নাস্তার টেবিলে অপেক্ষা করচ্ছে। খালু,খালামনি, স্পন্দন সবাই বসে আছে। নাস্তা করতে করতে খালু বললো আমাদের এখানে তো এই প্রথম এসেছো জায়গাটা ঘুরে দেখো ভালো লাগবে। আমি বললাম ঠিক আছে খালু। নাস্তা শেষ করে খালু বাইরে গেলো আর স্পন্দনকে বলে গেলো যেনো আমাকে নিয়ে একটু ঘুরে। স্পন্দন মুখ ভ্যাংচিয়ে বললো আমাকেই এই দায়িত্ব দেওয়া হলো। খালামনি জিঙ্গেস করলো দুপুরে আমি কি খাবো। আমি বললাম যা ভালো মনে করো তাই রান্না করো খালামনি। তোমার হাতের সব রান্নাই তো খুব মজার খেতে। স্পন্দন বললো মর্ডান মাইয়া তাইলে চলেন আমি আর আপনি বাইরে যায়। খালামনি স্পন্দনকে বললো ঐ পুরোনো বাড়ির দিকে নিয়ে যাস না। স্পন্দন খালামনিকে বললো ঠিক আছে আম্মু। আমি আর স্পন্দন বাড়ি থেকে বার হয়ে হাটছি। স্পন্দনকে আমি জিজ্ঞেস করলাম গতকাল রাতে বাড়ির পিছন দিকে কোনো মেয়েকে দেখেছে কিনা। স্পন্দন বললো কই নাতো, কেনো? কি হয়েছে? আমি বললাম না এমনি। স্পন্দন হাসতে হাসতে বললো কেনো কোনো ভুত তুত দেখেছিস নাকি! বলেই সব কটা দাঁত বের করে হাসতে শুরু করলো। আমি বললাম এখানে এতো হাসার কি আছে?? স্পন্দন বললো না কিছু না। কিছু দূর যেতেই স্পন্দনের কয়েকটা বন্ধুর সাথে দেখা। তারা মাঠে ফুটবল খেলতে যাচ্ছে। স্পন্দনকে দেখে তারা ডাক দিলো কিরে খেলতে যাবি নাকি??? স্পন্দন আমার দিকে তাকিয়ে বললো বির্বন অনেক দিন খেলা হয়নিরে আজকে ওদের সাথে একটু খেলি তুই একটু একা একা ঘুর এদিকটা। খেলা শেষ হলে একসাথে বাড়িতে যাবো।আর তুই কিন্তু আব্বু আম্মুকে বলবি না আমি খেলতে গেছিলাম। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে বলবো না যা তুই। স্পন্দন চলে গেলো ওর বন্ধুদের সাথে। মনে মনে বলছি ত্যাদড়টা গেছে ভালোই হয়েছে আমি বরং ঐ বাড়িটা একটু ঘুরে আসি। যে ভাবা সে কাজ।পরিত্যক্ত বাড়িটির আস পাস টা ঘুরে ঘুরে দেখছি। দেওয়ালগুলোই কি সুন্দর কারুকাজ করা দেখলেই চোখ জুরিয়ে যাই। আমি আমার মোবাইলটা পকেট থেকে বের করে ছবি তুলছি। ঠিক তখনই কারো ডাক শুনতে পেলাম। আমি পিছন ফিরে তাকাতেই দেখি রাতে যে মেয়েটা তার বাবার খোজ করছিলো সেই মেয়েটা। আমি বললাম কিছু বলবে??? মেয়েটি আমাকে আবার জিঙ্গেস করলো আমার বাবাকে দেখেছো? এবারতো আমার মাথা গরম হয়ে গেছে এই মেয়ে পাগল নাকি এক কথা কইবার বলা লাগে! আমি বললাম না,।আমিতো এখানে,,,,,,,,, তার আগেই মেয়েটি বললো ঘুরতে এসেছো কয়েকদিনের জন্য। তারপর চলে যাবে। আমি বললাম হুম। মেয়েটি আমাকে বললো তুমি জানো না এই বাড়িটি পরিত্যক্ত? আমি বললাম হুম জানি কিন্তু আমি এইসব খুব একটা বেশি বিশ্বাস করি না বরং আমার ভালোই লাগে। মেয়েটি আমাকে জিঙ্গেস করলো তুমি কি এই বাড়ির ভিতরে ঢুকতে চাও? আমি খুব বেশি কৌতুহলী হয়ে বললাম হুম তাহলে তো ভালোই হয়। মেয়েটি খুব গম্ভীর হয়ে বললো তবে একটা শর্ত! আমি বললাম কি শর্ত? মেয়েটি আমাকে বললো আমার সাথে যে তোমার কথা হয়েছে এটা তুমি কাউকে বলবে না আর তোমাকে আমি এই বাড়ির ভিতরে নিয়ে যেতে চেয়েছি এটাও যেনো কেউ না জানে। আমি বললাম ঐ বাড়ির ভিতরে যাবো এটা কাউকে বলবো না কারন খালা খালু জানলে যেতে দিবে না। কিন্তু তোমার সাথে কথা বলছি এটা কেনো বলবো না? মেয়েটি বললো এতকিছু জানতে হবে না। তোমাকে বারন করলাম মানে তুমি বলবা না। আমি বললাম ঠিকআছে। আমি যেই মেয়েটির নাম জিঙ্গেস করতে যাবো ঠিক সে মহুর্তে স্পন্দন আমাকে ডাক দিয়ে বললো কিরে তুই এখানে কার সাথে কথা বলছিস? আমি পিছনে ফিরে মেয়েটিকে দেখাতে যাবো কিন্তু কেউ নাই। আমি স্পন্দনকে বললাম এইতে এখানে একটা মেয়ে ছিলো কিন্তু কোথায় গেলো এত তাড়াতাড়ি। স্পন্দন বললো তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে এদিকে কেউ আসে না আর তুই এদিকে একা একা এসেছিস কেনো?তোকে ঐ দিকে খুজে না পেয়ে এদিকে আমাকে আসতে হলো।আব্বু জানলে দুই জনকেই বকবে, এখন বাড়ি চল। আর এদিকে আসবি না। আমি শুধু স্পন্দনের কথাগুলো শুনছিলাম কিন্তু কি বললো কিছু বুঝলাম না। মাথাই শুধু ঐ মেয়েটার কথা ঘুরছে। মেয়েটিতো তার কথা কাউকে বলতে বারন করেছে তাহলে স্পন্দনকে না বলাটাই ভালো।কিন্তু মেয়েটি তো এখানেই ছিলো এত তাড়াতাড়ি গেলো কোথাই!হয়তো স্পন্দনকে দেখে লুকিয়ে গেছে কোথাও। স্পন্দন চিৎকার করে কথা বলতেই আছে আমি ওর কথা না শুনে হাটতে শুরু করলাম। আমার হাটা দেখে স্পন্দন আমার মাথাতে একটা বারি দিলো। এতক্ষনে মনে হলো আমার ঘোরটা কেটেছে। মেয়েটির সাথে কথা বলার সময় কেমন যেনো লাগচ্ছিলো।মানুষ ঘোরের মধ্যে থাকলে যেমনটা হয়। আমি স্পন্দনকে বললাম কয়টা বাজে রে? স্পন্দন বলো ৩:৩০ টা। তোকে খুজতে খুজতে এত দেরি হলো। আম্মু বকলে তোর দোষ দেবো। আমার মাথা ঝিমঝিম করছে তাই স্পন্দনের সাথে কথা কাটাকাটি না করে বললাম তোর যা ইচ্ছা বলিস এখন বাড়ি চল মাথা ব্যাথ্যা করছে অনেক। স্পন্দন হাসতে হাসতে বললো তোকে ভুতে ধরেছে নাকি?শুনেছি ভুতে ধরলে নাকি মাথা ঝিমঝিম করে,মাথা ব্যাথা করে। আমি বললাম আরে ধুর ভুত আসবে কোথা থেকে! স্পন্দন বকবক করছে। কিন্তু আমার স্পন্দনের কথা শুনতে মোটেও ইচ্ছে করছে না। আমার শুধু মেয়েটির কথা মনে পরছে।কি অদ্ভুত সুন্দর দেখতে।কিন্তু মেয়েটির কথার মাঝে কেমন যেনো রহস্য আছে বলে মনে হচ্ছিলো।আর কথাগুলো কেমন ভাবে যেনো বলছিলো। যাই হোক মেয়েটি আমাকে ঐ পরিত্যক্ত বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাবে এটাই অনেক।বাড়িটা বাইরে থেকে এত সুন্দর দেখতে তাহলে ভিতরটা কতনা সুন্দর হবে। এই সব ভাবতে ভাবতে বাড়িতে ঢুকতে যাবো আর খালামনির চিৎকার শুনতে পেলাম।খালামনির চিৎকার শুনে আমি আর স্পন্দন খুব ভয় পেয়ে গেলাম। দৌড় দিয়ে রান্না ঘরের দিকে যেয়ে দেখি খালামনির শাড়ির আঁচলে আগুন ধরে গেছে। স্পন্দন পানি নিয়ে এসে আগুন নিভালো। খালামনি খুব জরে জরে শ্বাস নিচ্ছে। আমাকে আর স্পন্দনের দিকে তাকিয়ে খুব রেগে বললো কোথায় যাওয়া হয়েছিলো দুইজনের? সেই সকালে বের হয়েছো আর এখন বাড়িতে আসছো কোটা বাজে ঘড়ির দিকে দেখেছো? আমি আর স্পন্দন কিছু না বলে চুপ করে থাকলাম। খালামনিকে জিঙ্গেস করলাম আগুন কেমন করে লাগলো?খালামনি বললো কি ভাবে লাগলো কিছুই বুঝলাম না। মনে হলো জানালা দিয়ে কে যেনো আগুন আমার আঁচলে জালিয়ে দিলো। আমি আর স্পন্দন খুব অবাক হলাম। স্পন্দন রেগে বললো কোন হারামি আমার মায়ের আঁচলে আগুন দিয়েছে রে! খালামনি স্পন্দনকে বললো থাম তুই। চল খেয়ে নিবি। আমি আর স্পন্দন খাওয়া শেষ করে যে যার ঘরে চলে গেলাম। আমি ঘরে গিয়ে জানালার পাসে দাঁড়িয়ে পুরোনো পরিত্যক্ত বাড়িটার দিকে তাকিয়ে আছি। দেখলাম ঐ মেয়েটা দড়জাই দাঁড়িয়ে আমার দিকে অদ্ভুত ভাবে রহস্যমাখা হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে। ঠিক যেমনটা নিউলার্দোনা ভেন্চির আঁকা মনালিশার হাসির মত। আমার জায়গায় তিনি থাকলে হয়তো এই মেয়েটার ছবিও তিনি এঁকে ফেলতেন। মেয়েটিকে দেখে বললাম তুমি এখনও এখানে আছো কেনো? বাড়ি যাবা না? আর তুমি স্পন্দনকে দেখে লুকিয়ে গেলে কেনো? মেয়েটি রহস্যমাখা হাসি দিয়ে আমাকে বললো তোমাকে বললাম না আমার কথা কাউকে বলবা না তা না হলে কেউ আর আমার সাথে তোমার কথা বলতে দিবে না,আমি বললাম কেনো কথা বলতে দিবে না? মেয়েটি বললো পরে বলবো এখন আমি যায় বলেই হাটতে শুরু করলো। আমি বললাম এখনি বলো মেয়েটি কোনো উত্তর না দিয়ে নিমিশে উধাও হয়ে গেলো। মেয়েটিকে যতবার দেখি ততবারি অবাক হয় এত তাড়াতাড়ি কি করে একটা মানুষ চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যায়। ধ্যাত যায় হোক মেয়েটা আমাকে রাজবাড়ি মানে পরিত্যক্ত বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাবে এটাই অনেক। কিন্তু সে কি করে ঢুকবে ঐ বাড়ির ভিতরে। বাড়ির দড়জাই তো মস্ত বড় তালা মম দিয়ে কি সব মন্ত্র পড়ে লাগানো আছে। তবে তার কাছে কি চাবি আছে! কিন্তু সে কেমন করে চাবি পাবে? ধুর এত চিন্তা আমি করছি কেনো আমি শুধু ঐ বাড়ির ভিতরে যেতে পারলেই হলো। অনেকগুলো ছবি তুলবো রাজবাড়ির ভিতরে গিয়ে। সব বন্ধুদের দেখাবো আর ফেসবুকেও আপলোড করা যাবে সেই মজা হবে। এই সব ভাবছি আর জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আছি। খালামনি আসলো চা নিয়ে।কিরে মা জানালার পাসে দাড়িয়ে কি এত ভাবছিস ভালো লাগছে না আমাদের এখানে থাকতে? আমি বললাম ও তেমন কিছু না খালামনি আর থাকতে ভালো লাগবে না কেনো?আমারতো বেশ ভালোই লাগছে। খালামনি আর আমি চা খাচ্ছি আর গল্প করছি। বেশ কিছুক্ষণ পরে বাইরে থেকে খালু এসেছে তাই খালামনি চলে গেলো। আমি একটু শুইলাম। কেনো জানো মাথা খুব ব্যাথা করছে। ধুর শুয়ে থাকতেও ভালো লাগছনা আবার জানালার পাসে দাড়ালাম। দেখি মেয়েটিও দাড়িয়ে আছে। তখন সন্ধা হয়ে গেছে।মেয়েটি আমাকে বললো কি হলো রাজবাড়ির ভিতরে যাবা না? আমি বুললাম হুম যাবো কিন্তু এখন কেনো?এখনতো সন্ধা হয়ে গেছে? মেয়েটি এবার রাগ নিয়ে বললো তো কি হয়েছে এখনি যেতে হবে নইলে তোমার ফাসি হবে কেমন করে.। আমি অবাক হয়ে বললাম মানে! মেয়েটি রহস্যমাখা হাসি দিয়ে বলল কিছু না এখনি যেতে হবে তুমি চুপ করে বাইরে আসো। আমি বললাম তুমি দাঁড়াও আমি আসছি। আমি খুব আসতে করে ঘরের দরজা খুললাম। একপা দুই পা করে সিড়ি দিয়ে নিচে নামলাম চোরের মত কেউ যেনো না দেখে আমাকে তার জন্য। নিচে নেমে দেখি কেউ নেই। আমি চুপি চুপি মেয়েটার কাছে গেলাম। কেমন যেনো ভয় ভয় করছে। মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে আমাকে জিঙ্গেস করলো কেউ দেখেনি তো? আমি বললাম না। মেয়েটি হঠাৎ আমার হাতটা শক্ত করে ধরে হাটতে শুরু করলো। মেয়েটি আমার হাত ধরার পর আমি অনুভব করলাম বরফের থেকেও ঠান্ডা মেয়েটির হাত। আশ্চর্য একটা মানুষের হাত এতটা ঠান্ডা হয় আমার আগে জানা ছিলো না তো। রাজবাড়ির দরজার কাছে গিয়ে দেখি দরজা খোলা।কে খুললো দরজা মেয়েটিকে জিঙ্গেস করলাম। মেয়েটি বললো তোমাকে জানতে হবে না আমি খুব অবাক হলাম এটা তো তালা বন্ধ ছিলো তবে এখন খোলা কেনো! আমি আর মেয়েটি রাজবাড়িতে ঢুকলাম। তখন সূর্য মামা ডুবে গেছে।চারিদিক অন্ধকার চাদরে ছেয়ে গেছে। আজ সম্ভবত অমাবস্যা। চাঁদ উঠেনি।কিছুই দেখা যাচ্ছে না।সবকিছু অন্ধকার আমি আমার ফোনটার আলো যে জ্বালাতে যাবো ঠিক তখন মনে হলো আমার চারিদিকে আলোতে পরিপুর্ন।সব কিছু কি সুন্দর ভাবে দেখা যাচ্ছে। আমি এতটা আশ্চর্য হয়তো কখনো হয়নি এটা কি করে সম্ভব! কিন্তু বাড়ির ভেতরটা দেখে আমি সব ভুলে গেলাম।এত্ত সুন্দর বাড়ি আগে কখনো দেখিনি। বাইরে থেকে পুরোনো মনে হলেও ভেতরটা দেখে বোঝায় যাবে না এটা পুরোনো পরিত্যক্ত রাজবাড়ি।মনে হচ্ছে এখনও বাস করে কেউ এই বাড়িতে। আমি অবাক দৃষ্টিতে হা করে তাকিয়ে চার দির দেখছি। মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি। সামনে একটা ঘুরানো সিড়ি।মনে হচ্ছে রুপা দিয়ে তৈরী জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। মেয়েটি আবার আমার হাতটা শক্ত করে ধরলো। মনে হচ্ছে আমি চোর কিছু চুরি করে পালিয়ে যাবো, মনে মনে বললাম এত শক্ত করে হাত ধরে নাকি কেউ। মেয়েটি ঐ সিড়ি দিয়ে আমাকে উপরে নিয়ে গেলো।একটা একটা সিড়ি করে উপরে যাচ্ছি আর আমার শরীর হীম হয়ে আসছে।মেয়েটি আমাকে বললো যে মেয়েটির অভিশাপে এই বাড়িটি পরিত্যক্ত তার নাম ছিলো হিমাদ্রী। তার যখন ১ বছর বয়স তখন তার মা মারা যায়।তার বাবা তাকে মায়ের আদর দিয়ে বড় করে তুলে।হিমাদ্রী ছিলো বাবার চোখের মনি। বাবা বানিজ্যের জন্য যেখানে যেতো তাকে সাথে নিয়ে যেতো।তাই ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে বানিজ্যে আসার সময় মেয়েকে সাথে নিয়ে আসে। আর সেটাই বাবা আর মেয়ের জন্য কাল হয়ে দারাই।এখানে আসার পর রাজা চন্দ্রশেখরের হিমাদ্রীকে খুব পছন্দ হয়। আর পছন্দ হবেই নাবা কেনো। হিমাদ্রী অপরূপ সুন্দর ছিলো। দুধে আলতা গায়ের রং,টানা টানা মায়াবী হরিনী চোখ,চুলগুলো মাটি ছুয়ে যেতো এমন। আমি মেয়োটির কথা শুনে মেয়েটির দিকে হা করে তাকিয়ে আছি। কারন হিমাদ্রীর বিবরন এর সাথে মেয়েটি দেখতে হুবহুব মিলে যাচ্ছে। আমরা দোতলার উপরে গেলাম। এক কথাই আমি মুগ্ধ, মনে হচ্ছে না আমি বাস্তবে আছি। সম্পুর্ন একটা স্বপ্ন ঘোরের মত লাগচ্ছে। কিন্তু ছবি তোলার কথাটা আমার মনেই ছিলো আমি ফোনটা বের করে ছবি তুলতে চাইলাম। কিন্তু মেয়েটি ছবি তুলতে রাজি হলো না তাই আমারও আর ছবি তুলা হলো না। একে একে সব ঘর গুলো দেখছি। এত সুন্দর হবে আমি কল্পনাও করতে পারিনি। ঘরের আসবাব পত্র গুলো কি সুন্দর ভাবে গোছানোই আছে। আসবাব পত্রগুলো কারুকার্য গুলো অপূর্ব। আমার জীবনে এত সুন্দর আসবাব পত্র এই প্রথম দেখলাম। রাত হয়তো অনেক হয়েছে কিন্তু আমার খালা খালুর কথা আমার বাড়ির কথা কিছুই মনে ছিলো না। আমি মেয়েটিকে দেখে, পরিত্যক্ত বাড়িটা দেখে শুধু মুগ্ধ হচ্ছিলাম। আর ভাবছিলাম এত সুন্দর বাড়ি কি করে পরিত্যক্ত হতে পারে। বাড়ির একটা কোনে দেখলাম কিছু একটা লেখা।কিন্তু আমি পড়তে তা ব্যর্থ হলাম।কারন সেটা ছিলো সংস্কৃত ভাষাই লেখা। একটা সময় মেয়েটা বললো হিমাদ্রীকে যখন চন্দ্র শেখর তার নিজের কাছে রাখার জন্য হিমাদ্রীর বাবার কাছে প্রস্তাব দেয় তখন তিনি না করেন। আর চন্দ্র শেখর এমন একটা মানুষ ছিলেন যিনি না কথাটা শুনতে মোটেও পছন্দ করতেন না। তাই তিনি হিমাদ্রীর বাবাকে টর্চার রুমে নিয়ে গিয়ে শারিরীক ভাবে নির্যাতন করে হাত এবং পা কেটে মেরে ফেলে। তারপর তাকে বাক্সবন্দি করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। হিমাদ্রী যখন জানতে পারলো তার জন্য তার বাবাকে মেরে ফেলা হয়েছে তখন সে তার ঘরে ফাসি দিয়ে আত্তহত্যা করে। আর তার পর থেকে হিমাদ্রীর অতৃপ্ত আত্তা এই বাড়ির ১৯/২০ বছরের দাসি গুলোকে মেরে ফেলতে শুরু করে এবং আরো অনেক বেশি সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যা সমাধান না করতে পেরে বাড়িটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। আমি বললাম বললাম ধুর এত সুন্দর বাড়ি কেনো যে পরিত্যক্ত। আর হিমাদ্রীর আত্তা এটা মোটেও ঠিক করেনি। কারন দাসিগুলোতো তার মতই করুন অবস্থা ছিলো, তাদের মেরে ফেলাটা একদম ঠিক করেনি। আমার কথাটা শুনার পরেই মেয়েটি গর্জন দিয়ে আমাকে একটা জরে ধাক্কা দিলো আমি পরে গেলাম। আমি খুব অবাক হলাম এভাবে আমাকে ধাক্কা দিলো কেনো। আমি জিঙ্গেস করলাম আমাকে এভাবে ধাক্কা দিলে কেনো। মেয়েটি ভয়ংকর ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে বলল হিমাদ্রী ঠিক করেছে একদম ঠিক কাজ করেছে আর আজও সে ঠিক কাজ করতে যাচ্ছে। কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। একেবারে নির্বাক হয়ে গেছি। মেয়েটির সুন্দর রুপ যেনো আস্তে আস্তে ভয়ংকর হতে শুরু করলো। তার পর চিৎকার করে বললো হিমাদ্রী ঠিক করেছে, হিমাদ্রী ঠিক করেছে। আর আজ তোর সামনে হিমাদ্রী দারিয়ে। এবার আমি সব কিছু বুঝতে পারলাম। আমি এক বিপদের মুখে দারিয়ে। হিমাদ্রী আবার চিৎকার করে বললো আজ তোকে ফাসিতে ঝুলতে হবে। আজ অমবশ্যার রাত। তোকে আজ এই জন্যই নিয়ে এসেছি এই বাড়িতে। হাসতে হাসতে বললো তোর পালা। আমার মনে হলো হয়তো এটাই আমার শেষ দিন। আব্বু,আম্মু,আপু, খালামনি, খালু, স্পন্দন এদের কারো সাথে আর দেখা হবে না। খালু খালামনি আমাকে এই বাড়ির আসে পাসে আসতে বারন করেছিলো কিন্তু আমি তাদের কথা না শুনে এসেছি আর এখন আমি মৃত্যুর দুয়ারে দারিয়ে। আমি হিমাদ্রীকে প্রশ্ন করলাম তুমি আমাকে মারতে চাও কেনো। হিমাদ্রী হাসতে হাসতে বললো আমার বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ। আমি বললাম আমি তো তোমার বাবাকে মারিনি আমি তো চন্দ্রশেখরেরও কেউ না তবে কেনো মারতে চাও। হিমাদ্রী বললো আমিও তো বাচতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমি বাঁচতে পারিনি। তাই আমি আর কাউকে বাঁচতে দেবো না। তুমি তৈরী হও তোমার মৃত্যুর জন্য। এতক্ষণে আমি বুঝে গেছি বাঁচার আর কোনো উপাই নেই। হিমাদ্রী তার হাত দিয়ে আমার গলাটা চেপে ধরে মেঝে থেকে প্রায় একহাত উপরে তুলে নিয়েছে। আমার শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে অনেক কষ্টো হচ্ছে। বাঁচার জন্য ছটপট করছি। হিমাদ্রী হাসছে। এত সুন্দর একটা মেয়ে কি করে এমন ভয়ংকর হতে পারে হিমাদ্রীর এই আত্তাকে না দেখলে হয়তো আমি বুঝতেই পারতাম না। হয়তো আমি আর কিছুক্ষনের মধ্যেই মারা যাবো। হঠাৎ চারি দিকে আজানের শব্দভেসে আসলো হিমাদ্রী আমাকে ছেড়ে দিলো আমি জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফেরার পর আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম আমি খালামনির ঘরে।আমার পাশে খালামনি খালু স্পন্দন বসে আছে। আমাকে খালু জিঙ্গেস করলো তুমি রাতে কোথাই গিয়েছিলে মা? সারারাত তোমাকে খুজাখুজি করে কোথাও না পাওয়ার পর রাজবাড়ির দরজাই পাই। তোমাকে তো বারন করেছিলাম ঐখানে যেতে। আমি খালা, খালুকে সব কিছু বললাম। খালামনি কাঁদতে কাঁদতে বললো তোরচ যদি কিছু হয়ে যেতো আপা দুলাভাইকে আমি কি বলতাম? আমি খালামনিকে বললাম দুঃখিতত খালামনি। আর এমন হবে না। সেদিন দুপুরের বাসেই খালু আমাকে বাসায় রেখে যায়। জয়দেবপুরের কাটানো দিনগুলো কখনো আমি ভুলবো না। সারা জীবন মনে থাকবে।আর এটাও মনে থাকবে মৃত্যুর দুয়ার থেকে আমি একবার বেঁচে ফিরেছি।

Close