অর্থ ও বাণিজ্যমহানগরশিরোনাম

আম কিনতে রাজশাহী এলে থাকার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন, মৌসুমী ফল পরিবহন ও বিপণনে ১০ পদক্ষেপ

 

স্টাফ রিপোর্ট: শুক্রবার (১৫ মে) থেকে রাজশাহীতে শুরু হয়েছে গাছ থেকে আম নামানো। করোনা বিস্তার মোকাবিলায় সারাদেশে সাধারণ পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে শাকসবজি ও মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
কিদিন পরেই আম কিনতে বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা আসবেন আমের শহরে। কিন্তু করোনাকালে বন্ধ রাজশাহীর আবাসিক হোটেলগুলো। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা রাজশাহী এসে ব্যবসায়ীরা থাকবেন কোথায়, সেটিই বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছিল। তবে তার সমাধান করে দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।
সংকট মোকাবিলায় শনিবার (১৬ মে) ‘করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ’ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে কৃষিমন্ত্রী মৌসুমী ফল পরিবহণ, সংরক্ষণ ও বিপণনে ১০টি উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
ভিডিও কনফারেন্সে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকই সভাপতিত্ব করেন।
ভিডিও কনফারেন্সে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরী, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. আতিউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ এবং জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন সংযুক্ত ছিলেন।
সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। এ সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থাপ্রধান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর ও সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, দেশের শাকসবজি ও ফলমূল রফতানিকারক সমিতি, সুপারশপ মালিক সমিতির নেতারাও যুক্ত হন।
ভিডিও কনফারেন্সে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের এমপি শাহরিয়ার আলম কৃষিমন্ত্রীর কাছে দাবি করেন, আমের মৌসুম শুরু হলে রাজশাহী থেকে আম  নির্বিঘ্নে পরিবহন করা যায়। তাকে আশ্বস্ত করা হয় এ বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করা হবে।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যুক্ত হন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি ডা. মুনসুর রহমান। এছাড়াও ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক, আঞ্চলিক ফল গবেষণা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন প্রমুখ। এখান থেকে একজন আম চাষি সরাসরি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে নিজেদের সমস্যার কথা জানান। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়।
ভিডিও কনফারেন্স শেষে জলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, রাজশাহীর প্রধান সমস্যা ছিলো ব্যবসায়ীরা আম কিনতে এসে কোথায় থাকবেন। সেটির সমাধান হয়েছে। আবাসিক হোটেলগুলো এখন বন্ধ থাকলেও আমের কেনাবেচা শুরু হলে প্রশাসন কয়েকটি নির্ধারিত হোটেল খোলার ব্যবস্থা করবে। আমরাও প্রশাসনকে এ কাজে সহযোগিতা করব।

সভায় পাওয়া সুপারিশ অনুযায়ী—

১. হাওরে ধান কাটা শ্রমিকদের যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠানো হয়েছে, তেমনি অন্যান্য জেলা হতে ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ফড়িয়ারাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা, প্রয়োজনে তাদেরকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রত্যয়নপত্র প্রদান ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা।

২. মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনের অবাধে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা, পরিবহণের সময় যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মাধ্যমে কোনরূপ হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. বিআরটিসির ট্রাক ব্যবহারে উদ্যোগ

৪. স্থানীয়ভাবে ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়ানো

৫. পার্সেল ট্রেনে মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহণের আওতা বাড়ানো, হিমায়িত ওয়াগন ব্যহার করা যায় কিনা

৬. ফিরতি ট্রাকের বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল হ্রাস

৭. ত্রাণ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিকট অনুরোধ জানানো,

৮. অনলাইনে এবং ভ্যানযোগে ছোট ছোট পরিসরে কেনাবেচার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ

৯. প্রাণ, একমি, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যারা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে জুস, ম্যাঙ্গোবার, আচার, চাটনি প্রভৃতি তৈরি করে তাদেরকে এবছর বেশি বেশি আম-লিচু কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা এ বছর বেশি করে আম কিনবেন বলে জানিয়েছেন।

১০. মৌসুমি ফলে যেন কেমিক্যাল ব্যবহার করা না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করাসহ সুপারিশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বাস্তবায়নরে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close