মহানগরশিরোনাম

জনসমাগম ঠেকাতে শহরে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, সেনা টহল

রাজশাহী নগরীতে জনসমাগম ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, সেনা টহল জোরদার
নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনামুক্ত রাজশাহী তার সুনাম হারিয়েছে বেশ কয়দিন আগেই। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও নগরে জমে উঠেছিল ঈদবাজার। এটি বন্ধ করতে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে রাজশাহী নগরীর সব মার্কেট। ফুটপাত থেকেও সব ধরনের ব্যবসায়ীদের উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কড়াকড়ি করা হচ্ছে রিকশা-অটোরিকশা চলাচলে।
এতে স্বস্তি ফিরেছে সচেতনমহলে। তারা বলছেন, গত কয়েকদিন মার্কেট-দোকানপাট খোলার কারণে শহরে করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গিয়েছিল। কেননা তখন মার্কেটে সামাজিক দূরত্বের কিছুই মানা হচ্ছিল না। গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে ঈদের কেনাকটায় মেতেছিলেন অনেকে। এখন প্রশাসনের তৎপরতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন শহরের সচেতন নাগরিকরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের এমন ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন তারা।
এদিকে সকাল থেকেই নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটআরাফাত আমিনি আজিজ সাহেব বাজারের আরডিএ মার্কেটে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এ সময়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মার্কেট থেকে বের করে দেন। সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অন্যান্য দিনের ন্যায় গতকালও ব্যবাসীরা দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিদিনের ন্যায় মার্কেটের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে চোরা গলির মাধ্যমে তারা ব্যবসা করে যাচ্ছিলেন। ম্যাজিষ্ট্রেট তাদের পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নিত্য পণ্যের দোকান ছাড়া সকল দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশন প্রদান করেন। অমান্য করলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে আগেই সারাদেশের মার্কেট-দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গত ১০ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত আসে। সেদিন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট খুলেছে। তবে রাজশাহী শহরকে নিরাপদ রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় সভা করে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী মহানগরী সকল মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানান। কিন্তু রাজশাহী নগরীর মার্কেটগুলো নানা কৌশলে খোলা হচ্ছিল।
সামাজিক দূরত্ব না মেনেই ব্যবসা করছিলেন দোকানীরা। নগরীর আরডিএ মার্কেটের প্রধান ফটক বন্ধ রেখে ভেতরে দোকান খুলছিলেন ব্যবসায়ীরা। গলিপথ দিয়ে মার্কেটেও যাচ্ছিলেন প্রচুর ক্রেতা। আবার সাহেববাজার কাপড়পট্টি এলাকায় দোকানের সাটার তুলে ক্রেতা ঢোকানোর পর সাটার নামিয়ে দেয়া হচ্ছিল। কেনাকাটা শেষ হলে সাটার তুলে বের করে দেয়া হচ্ছিল ক্রেতাকে। রাস্তায়ও বের হচ্ছিল অজস্র মানুষ। রিকশা-অটোরিকশার যানজট দেখা দিয়েছিল শহরে। কোথাও সামাজিক দূরত্বের কিছুই মানা হচ্ছিল না।
এ অবস্থায় সোমবার বিকালে জেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় খাবার ও কাঁচাবাজার ছাড়া রাজশাহীর সব দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকেই মাঠে নামেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে নামেন। তারা নগরীর সাহেববাজার এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ করে দেন। ফুটপাত থেকে হকারদের তুলে দেয়া হয়।
বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close