অর্থ ও বাণিজ্যমহানগরশিরোনাম

আম্ফানে রাজশাহী জেলাতেই শতকোটি টাকার আমের ক্ষতি

আম প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন খাদ্য তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানে রাজশাহীর কৃষকদের ঝড়ে পড়া আম বিক্রির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তান্ডবে জেলায় শুধু আমের ক্ষতিই হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকার।
শুক্রবার (২২ মে) আম্ফানে জেলাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদন আকারে সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার প্রত্যেক উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপূণের চেষ্টা করা হয়। যে তথ্য উঠে এসেছে- তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমচাষিরা। সর্বনিম্ন দর ধরে হিসেব করলেও প্রায় ১২০ কোটি টাকার আমের ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মৌসুমী ফল আম ও লিচু ছাড়াও কিছু কৃষি ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। সেটা খুব বেশি নয়। বোরো ধান জমিতে নুইয়ে পড়েছে। তবে ধান পেকে যাওয়ায় কৃষক এখন দ্রুত কেটে নিতে পারলে বেশি ক্ষতি হবে না। আর বসতভিটা-ঘরবাড়িও তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।’
এদিকে, ঝরে পড়া আম চাষিদের থেকে কিনে ত্রাণ হিসেবে দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হামিদুল হক বলেন, ‘ত্রাণ হিসেবে রাজশাহীতে আম দেয়ার বিষয়টা কেমন হয়ে যায়! এখানে মৌসুমে আমের তো অভাব নেই। বরং আম প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন খাদ্য তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানে কীভাবে রাজশাহীর কৃষকদের ঝড়ে পড়া আম বিক্রির ব্যবস্থা করা যায়, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, ‘ঝড়ের পরপরই খোঁজ-খবর নিয়ে আমরা ধারণা করছিলাম ২০ শতাংশ হয়তো ঝরে পড়েছে। তবে মাঠের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। আমরা ঘুরে দেখেছি- জেলায় গড়ে ১৫ শতাংশ আম ঝরে গেছে। স্বাভাবিক বাজারমূল্যে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার ১৫ শতাংশ ক্ষতি ধরে হিসেব করে মোট ক্ষতি বের হয়ে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি ফসলের মধ্যে বোরো ধান নুইয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেতের ধান পেকে যাওয়ায় কৃষকরা কেটে নিতে পারবেন। হয়তো শ্রমিক আগের চেয়ে কিছুটা বেশি লাগতে পারে। এছাড়া লিচু, ভুট্টা, পানবরজের স্বল্প পরিমাণে ক্ষতি হয়েছে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি বছর রাজশাহী জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৭৮ মেট্টিক। সেই হিসেবে ১৫ শতাংশ হারে প্রায় ৪৪ হাজার মেট্রিকটন আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় গাছে যে পরিমাণ আম ধরেছিল, তাতে সহজে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close