জয়পুরহাটশিরোনাম-২

ঈদে বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে তিন ছেলে, মুচলেকায় দায়িত্ব নিলো বড়ছেলে

 

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: বৃদ্ধা মায়ের নাম সিরাতুন্নেছা, বয়স ৮৬ বছর, নূর মোহাম্মদ মোল্লার স্ত্রী। জয়পুরহাট পৌর শহরের জানিয়ার বাগান এলাকার বাসিন্দা, ঢাকায় নাভানা কোম্পানীতে ষ্টোর কিপার হিসেবে চাকুরী করতেন।

স্বামী মারা যান ১৮-১৯ বছর আগে,স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই জানিয়ার বাগান এলাকায় বসবাস করেন, পৈতিক সূত্রে সিরাতুন্নেছা ১৫ শতক জমি পান বাবার কাছ থেকে,যার মূল্য দুই কোটি টাকার উপরে।

সিরাতুন্নেছার এই সম্পত্তি কৌশলে তার ছেলেরা লিখে নেওয়ার পর থেকেই চলে তার উপরে ভরণ পোষণের অবহেলা, মানসিক নির্যাতন, চরম অমানবিক আচরণ। এরই বর্হিপ্রকাশ ঘটে ঈদের দিনে রাস্তায় অচল প্রায় বৃদ্ধাকে ফেলে যায় ছেলেরা, বৃদ্ধার আহাজারি করতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ অসহায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে সোমবার (২৫ মে) রাতে জয়পুরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাময়িক সময়ের জন্য সেফ হোমে রেখে আসেন। ওই দিন রাতেই বৃদ্ধার পক্ষে তার নাত বৌ শিল্পী আক্তার বাদী হয়ে তার শ্বশুর ও চাচা শ্বশুড়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে বৃদ্ধার তিন ছেলেকে নিজ বাড়ি থেকে আব্দুর রাজ্জাক, মোয়াজ্জেম হোসেন ও মোজাম্মেল হক আটক করে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে বৃদ্ধার মায়ের দায়িত্ব বড় ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ওপর ছেলেরা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মুচলেকা পর তার ছেলেদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহরিয়ার খান জানান, আটককৃতরা কৌশলে তাদের মায়ের নামের সব জমি লিখে নেন। এরপর থেকে ছেলেরা ৮৬ বছরের ওই বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণে অবহেলা, গালমন্দ, মানসিক নির্যাতনসহ তার প্রতি চরম অমানবিক আচরণ করতে থাকেন। এরই এক পর্যায়ে মায়ের ভরণপোষণ কোন ছেলেই আর গ্রহণ করবেন না বলে সোমবার সকালে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়কের পাশে বৃদ্ধা মা ছিরাতুন্নেছাকে ফেলে রেখে চলে যান তারা। পরে ৯৯৯ নাম্বারে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে জয়পুরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সেফ হোমে রাখা হয়েছে। পারিবারিক আইনে বৃদ্ধার মায়ের দায়িত্ব বড় ছেলে নিয়ে মুচলেকা দিলে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জয়পুরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.আরাফাত হোসেন মুন বলেন, পিতা-মাতা ভরণপোষণ আইনে মামলা না করে কোন ছেলে ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয় তাহলে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে, এটা জয়পুরহাটের জন্য দৃষ্টান্ত হলো।
বরেন্দ্র বার্তা/রিআরি/অপস

Close