মহানগরশিরোনাম

রাজশাহীতে নারী পুলিশের করোনা পজিটিভ, করোনামুক্ত হলেন নগরীর প্রথম আক্রান্ত পরিবার

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে একজন নারী পুলিশ সদস্যের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ল্যাবে তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ দিন হাসপাতালে মোট ৯৪টি নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ত্রুটি থাকায় ১০টি নমুনার রিপোর্ট হয়নি। বাকি ৮৪টি নমুনার মধ্যে তিনটি পজিটিভ। বাকি ৮১টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়নি।
আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে একজন রাজশাহী জেলা পুলিশে কর্মরত। অন্য দুইজনের একজনের বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রামে। আর অপরজন পাবনার সুজানগরের বাসিন্দা। বিষয়টি তিন জেলার সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, আক্রান্ত নারী কনস্টেবলের বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত ছিলেন। কয়েকদিন আগে তাকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছে। রাজশাহী আসার পর থেকে তিনি জেলা পুলিশ লাইনে কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
তিনি আরও জানান, যেহেতু ওই নারী পুলিশ সদস্য বাইরে থেকে এসেছেন তাই তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এতে তার করোনা শনাক্ত হলো। এখন তিনি পুলিশ লাইনেই আইসোলেশনে থাকবেন। সেখানেই তার চিকিৎসা চলবে। তার মাধ্যমে অন্য কেউ যেন আক্রান্ত না হন সেটিও তারা নিশ্চিত করবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে চারজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন রাজশাহীর বাসিন্দা। একজন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রাজশাহী শাখার ব্যবস্থাপক। অন্যজনের বাড়ি বাঘা উপজেলায়। আক্রান্ত অন্য দুইজনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে।
অন্যদিকে, রাজশাহী নগরীর উপর ভদ্রা এলাকায় প্রথম একজন নারীর শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে তার স্বামী এবং মেয়েরও করোনা শনাক্ত হয়। তবে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) তাদের প্রত্যেকের রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন,বৃহস্পতিবার (২৮ মে)তিনজনেরই আবারও নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে সবার রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ। আমরা আরেকবার সবার নমুনা পরীক্ষা করব। তখন রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তাদের সুস্থ বলে ঘোষণা দেব।
আক্রান্ত ওই নারী একজন গৃহিনী। তার ছোট ছেলে নরসিংদীতে থাকেন। এইচএসসির পরীক্ষার্থী। তাই দুই মাস আগে ছেলের কাছে গিয়েছিলেন ওই নারী। সঙ্গে বড় ছেলে এবং পূত্রবধূও ছিলেন। তারা সেখানেই আটকা পড়েন লকডাউনে। গত ১০ মে তারা রাজশাহী আসেন। পথে পথে পড়েন পুলিশের বাঁধার মুখে। তবে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রাজশাহী ফিরে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।
তারপর রাজশাহী ফিরেই ওই নারী থানায় ফোন করে করণীয় জানতে চেয়েছিলেন। পুলিশ তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলে। আর যেহেতু তারা বাইরে থেকে এসেছেন তাই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ১৫ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ওই নারীর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। আর তার ছেলে এবং পূত্রবধূর রিপোর্ট আসে নেগেটিভ।
এরপর বাড়িটি লকডাউন করে দেয়া হয়। এরপর ২০ মে ওই নারী স্বামী এবং মেয়ের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে তাদের দুজনেরই রিপোর্ট আসে পজিটিভ। এরপর বৃহস্পতিবার তাদের তিনজনেরই রিপোর্ট এলো নেগেটিভ। তবে দ্বিতীয় পরীক্ষা না করা পর্যন্ত তাদের করোনামুক্ত বলা যাচ্ছে না।
রাজশাহী জেলায় এ পর্যন্ত ৪৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন ১১ জন। রাজশাহী মহানগরীতে একই পরিবারের এই তিনজনসহ শনাক্ত হয়েছেন মোট ১০ জন। জেলার গোদাগাড়ী ও চারঘাট উপজেলা এখনও করোনামুক্ত।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close