বাগমারাশিরোনাম-২

বাগমারা বিভিন্ন বিলে জলাবদ্ধতা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন বিলে এক দিকে বৃষ্টি অন্য দিকে ভাঙ্গা স্লুইজ গেট দিয়ে পানি ঢ়ুকে তলিয়ে গেছে ধান ক্ষেত। কোমর এবং এক বুক পানিতে ধান কাটছে কৃষক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ও দুবিলা উপজেলার মাধাইমুড়ি এবং বাগমারা বিলে। অবস্থানগত দিক থেকে এই দুটি বিলের চারিপাশে প্রায় ১৫-২০ টি গ্রাম রয়েছে। এই
বিলগুলোতে প্রায় ৮ হাজার কৃষক কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেথাকেন। এখানে গভীর নলকুপের সাহায্যে বোরো, আউস, আমন , পানবরজ,ভুট্টা সহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়। এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের সাথে জড়িত। বলা চলে শষ্যপ্রধান বিল নামে পরিচিত এই দুটি বিল।এই দুটি বিলের একটিতে পানি প্রবেশপথ হলো কুচামারার দাঁড়া।
অন্যটির মালেক বাজার (মহব্বদপুর) স্লুইচগেট দিয়ে বিলে পানি প্রবেশ করছে।
এদিকে বাগমারার যে স্লুইজ গেট রয়েছে তার তিনটি গেইট এরমধ্যে দুইটিই ভাঙ্গা। যার কারনে সামান্য বৃষ্টি হলেই নদী থেকে পানি এসে এই বিলের ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। এবারেও ঠিক তেমনটিই দেখা গেছে।
কোমর পানিতে ধান কেটে সেগুলো আবার নৌকায় করে কিনারায় আনা হচ্ছে। সেখান থেকে মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে যেতে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত তিন গুন মজুরী। পাশাপাশি মাধাইমুড়ির দুবিলায় ধান কেটে কৃষকরা হালা গেথে বিলের কিনারায় নিয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে বিলে কর্মরত কয়েক জন কৃষকের মধ্যে বাগমার গ্রামের গোলাম মাওলা বলেন, শুধু এবারে নয় এটা আমাদের দীর্ঘ দিনের সমস্যা আমাদের এই বিলের এক মাত্র পানি প্রবেশ পথ কুচামারার দাঁড়ায় যে স্লুইজ গেট রয়েছে সেটা অনেক আগে থেকেই নষ্ট সামান্য বৃষ্টি হলেই নদী থেকে পানি ঢুকে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আমি আপনাদের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাচ্ছি যেন তারা খুব দ্রুত এই ভাঙ্গা গেইট টি মেরামত করে দেন এবং এই কুচামারার দাঁড়াটি খননের মাধ্যমে বিলে প্রয়োজনীয় পানি নিস্কাশনের পথ পরিস্কার করে দেন।
একই গ্রামের আ:সাত্তার কান্না ভেজা কন্ঠে বলেন, এটাই আমাদের সম্বল বাবা, নিজের সন্তানের মত যত্ন করে ফলানো এই ফসল যদি ঘরে তুলতে না পারি তাহলে আমরা একেবারে পথে বসে যাবো। আমি নিজে কাঁধে করে মাটির বস্তা
নিয়ে গিয়ে ভাঙ্গা স্লুইজ গেইট বন্ধ করেছি। যে কোন মুহুর্তে সেটা ভেঙ্গে আবারো বিলে পানি ঢুকতে পারে। তাহলে শত শত একর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাবে। না খেয়ে মরতে হবে আমাদের।
মোহাম্মাদপুর গ্রামের আ: সালাম, বালানগর গ্রামের জালাল ঊদ্দিন, বাবুর আলী ও কামাল হোসেন অন্যদিকে মাধাইমুড়ি গ্রামের কৃষক শামসুদ্দিন, রুস্তম আলী,ওমর আলী সহ অরো অনেকেই একই কথা বলেন। এই অবস্থায় ধান কাটতে আমাদের যে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে আর ধানের যা দাম তাতে হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে এই ধান বিক্রি করে শুধু মজুরীর টাকায় পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলেও জানান তারা।
এ ব্যাপারে গনিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জু বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। এই বিলে আমারও কিছু জমি আছে, কৃষকদের দাবির সাথে আমিও একমত পোষন করছি। কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোেগ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্লুইজগেইটিমেরামত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবো।
বরেন্দ্র বার্তা/সরা/অপস

Close