চাঁপাই নবাবগঞ্জজয়পুরহাটনওগাঁপাবনাবগুড়াশিরোনাম

রাজশাহীর ৫ জেলায় বজ্রাঘাতে ১১ জনের মৃত্যু

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বজ্রাঘাতে রাজশাহী বিভাগের ৫ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রপাতের এসব ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে নওগাঁয় ১ ,পাবনায় ৪ , বগুড়ায় ৪, জয়পুরহাটে ১, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নওগাঁ

নওগাঁর রাণীনগরে বজ্রাঘাতে কৃষক মিজানুর রহমান (৪০) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার লোহাচুড়া গ্রামের এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় মাছ ধরার জন্য জাল ফেলতে বাড়ির পার্শ্বে যান মিজানুর। এসময় বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক জনি হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাবনা

বজ্রাঘাতে পাবনার চার উপজেলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে সাত বছরের একটি শিশু। বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে জেলার আটঘরিয়া, চাটমোহর, সুজানগর ও আতাইকুলায় ৪ জন মারা যান।
বজ্রাঘাতে মৃতরা হলেন, আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা চকপাড়া গ্রামের হাশেম (৩৭), সুজানগর উপজেলার শানিতপুরের দুলাই গ্রামের জলিল আলী সরদার (৫০), চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের কান্নিগ্রামের শরিফুল ইসলাম (২৫) এবং আতাইকুলা থানার তেলেগ্রামের মনিরুজ্জামান মনি (১৯)। আহত শিশু হৃদয়কে আটঘরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, এদের মধ্যে তিন জন মাঠে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন এবং অপর একজন মাঠে ঘুড়ি উড়াচ্ছিল।

বগুড়া

বগুড়ার কাহালু উপজেলার এরুইল বাজার, শাজাহানপুরের হরিণগাড়ি গ্রাম, সারিয়াকান্দির কুড়িপাড়াচর এবং ধুনটের দেওড়িয়া গ্রামে বজ্রাঘাতে চার কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রাঘাতে কাহালুতে আহত হন তিন জন। তাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানান।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন, কাহালুর এরুইল গ্রামের মোকলেছার রহমান (৫৫), শাজাহানপুরের হরিণগাড়ি গ্রামের নুরুল ইসলাম (৪০), সারিয়াকান্দির কুড়িপাড়াচরের লেবু মণ্ডল (৩৫) এবং ধুনটের দেওড়িয়া গ্রামের আবদুস সালাম (৫৫)।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল হাকিম জানান, কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের এরুইল বাজারের পাশে মাঠে ধান শুকাতে দেওয়া হয়। বেলা সোয়া ৩টার দিকে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তখন কৃষক মোকলেছার রহমান, একই গ্রামের রায়হান আলী, হাসান আলী ও মামুন বস্তায় ধান তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে চার জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মোকলেছারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে হাসান আলীকে হাসপাতালে ভর্তি এবং অন্য দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বেলা ৩টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার হরিণগাড়ি গ্রামের একটি মাঠে কৃষক নুরুল ইসলাম কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

একই সময় সারিয়াকান্দির কুড়িরপাড়াচরে বৃষ্টি শুরু হলে লেবু মণ্ডল গরু আনতে যান। তখন বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা জানান, বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টিতে দেওড়িয়া গ্রামে পটলের ক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কৃষক আবদুস সালাম ওই পানি নিষ্কাশনের জন্য বিকাল ৪টার দিকে ক্ষেতে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রাঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

জয়পুরহাট

বজ্রপাতে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পারুলিয়া গ্রামে সুকোমল (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহরিয়ার খাঁন জানান, কৃষি কাজ সেরে বাড়ির উঠানে গোসল করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে সুকোমল গুরুতর আহত হন। পরে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুকোমল ওই গ্রামের মৃত রাজেন্দ্রনাথের ছেলে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম পিয়ারা বেগম (৩৩)। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ এ তথ্য জানান।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টার দিকে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।’
বরেন্দ্র বার্তা/অপস
সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Close