বাগমারাশিরোনাম

বাগমারায় অবশেষে উচ্ছেদ হল সরকারী খালের অবৈধ বাঁধ

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের সরকারী খালে অবৈধ ভাবে পাকা বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ চেষ্টার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। এসময় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসি ল্যান্ড নিজে উপস্থিত থেকে বেশ কিছু শ্রমিক নিয়োগ করে ইট সিমেন্টের তৈরি বাঁধটি উচ্ছেদ করা হয়।
জানা গেছে, অবৈধ ওই বাঁধটি নির্মিত হওয়ায় কয়েকটি বিলের ধান সহ অনেক ফসল হুমকির মুখে পড়ার আশংকায় এলাকাবাসীর সামনে ইউপি সদস্য প্রভাবশালী রফিকুল ইসলামকে বাঁধটি ভেঙ্গে ফেলার আদেশ প্রদান করেন এসি ল্যান্ড। পরে প্রভাবশালী ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম সহকারী কমিশনার (ভূমি)র নিকট একটি লিখিত মুছলেখা দেন যে ১৫ জুনের মধ্যে সরকারী খালে অবৈধ ভাবে নির্মিত বাঁধটি ভেঙ্গে ফেলবেন। কিন্তু ১৫ জুন অতিবাহিত হওয়ার পর ইউপি সদস্য রফিকুল নিজ উদ্যোগে বাঁধ অপসারন না করায় গতকাল বৃহস্পতিবার এসি ল্যান্ড উপস্থিত থেকে বাঁধ অপসারন করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বিল এলাকার জনগন ও কৃষকরা এসি ল্যান্ডের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে নরদাশ ইউনিয়নের হাতিয়ার বিল এবং কোলার বিলে চারপাশের লোকজন যৌথভাবে শেয়ারের ভিত্তিতে কৃষি জমিতে ধান চাষের পাশাপাশি মাছ চাষ করে আসছে। বিলটিতে বন্যার সময় বন্যা আসলেও তাতে কৃষকের তেমন কোন ক্ষতি হয় না। কারণ ওই দুটি বিল সহ পাশের গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের কইচা বিল, দাইমা বিল এবং হড়ংবিলের পানি কোলার বিলের মাঝখান থেকে চন্ডিপুর গ্রামের ব্রীজের নিচ দিয়ে ২০-২৫ ফিট প্রশস্থ একটি হাতিনার দাঁড়া (পানি নামার জায়গা) আছে যা সরকারী খাস। দাঁড়াটি বিলের মাঝ দিয়ে হাট-মাধনগর ব্রীজের কাছে কম্পো নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এতে করে বিল দুটিতে পানির সমন্বয় রক্ষা হয়। সেই সাথে ওই খাল দিয়েই কয়েকটি বিলের পানি নিষ্কাশন  হয়ে থাকে। ফলে বিনা ঝামেলায় কৃষকরা ধান সহ অন্যান্য ফসলের আবাদ করতে পারেন।
বর্তমানে বিলটিকে ঘিরে নরদাশ ইউনিয়নের প্রভাবশালী ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম তার বাহিনী নিয়ে জোর পূর্বক পরিকল্পিত ভাবে শত শত কৃষকের ক্ষতি করে চন্ডিপুর ব্রীজের কাছে হাতিনার দাঁড়ার উপরে পাকাপোক্ত ভাবে একটি আরসিসি বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করেন।
বাঁধটি নির্মাণ করায় দুই ইউনিয়নের ৪-৫ টি বিলের ধান চাষ ব্যাহত হবে এমন আশঙ্কা এলাকাবাসীর। বাঁধটি নির্মানের কারনে অপুরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তো কোলার বিল সহ কয়েকটি বিলের হাজার হাজার কৃষক। বাগমারা উপজেলা কৃষি নির্ভর হওয়ায় কৃষকের যেন কোন ক্ষতি না হয় সে কারনে দ্রæত নির্মিত বাঁধটি ভেঙ্গে ফেলার দাবী জানান ওই এলাকার কৃষক ।
এ বিষয়ে বাগমারার সহকারি কমিশনার (ভুমি) আবদুল্লাহ আল মামুন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাঁধটি অপসারন হওয়ায় এলাকার শত শত কৃষক উপকৃত হবে। যেহেতু তারা (দখলকারীরা) সরকারি আদেশ অমান্য করেছেন। তাই এখন বাঁধ অপসারন সহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরেন্দ্র বার্তা/আম/এই

Close