ছবি ঘরট্রাভেল ও ট্যুরিজমনাগরিক মতামতশিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

আম-কথা

অর্ণব পাল সন্তু

‘‘বাঙ্গালমুলুক থেকে কাঁচা আম এসেছে। কয়লার আগুনে আম পোড়ানো হচ্ছে। শরবত বানানো হবে। সৈন্ধব লবণ, আখের গুড়, আদার রস, কাঁচা মরিচের রস আলাদা আলাদা পাত্রে রাখা। আমের শরবতে এইসব লাগবে। দু‘জন খাদ্য পরীক্ষক প্রতিটি উপাদান চেখে দেখছেন। তাঁদের শরীর ঠিক আছে। মুখে কষা ভাব হচ্ছে না, পানির তৃষ্ণাবোধও নেই। এর অর্থ উপাদানে বিষ অনুপস্থিত। সম্রাট বাবরকে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপর থেকেই বাড়তি সতর্কতা। ’’-বাদশাহ্ নামদার- হুমায়ুন আহমেদ

ফলের রাজা আম- রাজকীয় ফল। আম নিয়ে ‘আম’ জনতার উচ্ছাসের শেষ নেই। আম সর্ব অবস্থায় ভক্ষনযোগ্য। গুটি আম থেকে শুরু করে পাকা, পচা আমের আমসস্ত্ব পর্যন্ত! আমের জ্যাম, জেলি, আঁচার, আম সত্ব, জুস, আম-দুধ ইত্যাদি ইত্যাদি। ‘আমাশয় ‘ আম থেকে সৃষ্ট না হলে ও আমের ছাল আমাশয় প্রতিরোধক। দুই চামচ ছালের রস, একটু চিনি ও এক কাপ দুধ একত্রে মিশিয়ে কয়েকবার খেলে রক্ত আমাশয় ভাল হয়ে যায়।
আমের মৌসুমে আমাদের শৈশব কেটেছে আমের পিছনে। গুটি আমের শুরু থেকে আম বতি হওয়া পর্যন্ত প্যান্টের পকেটে থাকত, চাকু কিংবা ঝিনুক সাথে ঝাল, নুন, মশলা। ঝড়ে আম কুড়ানো, আম চুরি ছিল নির্মল আনন্দ। মৌসুম শেষে ফেলে দেয়া আমের আঁটি থেকে ভেঁপু শৈশবের প্রিয় খেলনা।
বসন্তের শেষে আম গাছে মুকুল আসে, অপূর্ব ঘ্রান আর গাছময় মুকুলের সৌন্দর্যের মুল্য নেহাৎ কম নয়। দেখতে দেখতে আম গুটি হয়, বড় হয়, পাকে, আশ্বিন মাস পর্যন্ত!
আমের মতো আকর্ষণীয় ফল গোটা পৃথিবীতে নেই। আম সবাইকে কাছে টানে। কচি আম থেকে পাকা আম পর্যন্ত থোকায় থোকায় গাছে ঝুলে থাকা আম সবাইকে আকৃষ্ট করে।
বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের জাতীয় ফল এটি। বাংলাদেশে ধান ও পাটের পর আম চাষকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গবেষণায় বলছে, আমের আদি নিবাস বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং আশপাশের মিয়ানমার, ত্রিপুরা ও মিজোরামে। তবে বিশারদ ও ফলবিজ্ঞানীদের মধ্যে এর জন্মস্থান নিয়ে মতবিরোধ আছে। সিংহভাগ বিশেষজ্ঞের রায়, আমের আদি জন্মভূমি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হিমালয়সংলগ্ন এলাকা, মিয়ানমার, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মালয়ে। বিরোধীদের ভাষ্যে, ফলটি এসেছে ইন্দো-চায়না থেকে। অর্থাৎ ভিয়েতনাম, চীন, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস ও ইন্দোনেশিয়া অঞ্চল এর আদি নিবাস।
আম ছিল পাহাড়ি ও বুনো ফল। সেখান থেকে সুমিষ্ট জাতগুলো সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় রোপণ শুরু করে মানুষ। এভাবেই এটির চাষাবাদের সূচনা। আবাদ হচ্ছে ৬ হাজার বছর আগে থেকে। তবে আমের উৎপত্তি নিয়ে কিছু লোককথা আছে। যেমন ভারতীয় প্রাচীন উপাখ্যানে বলা হয়, এটি এসেছে স্বর্গ থেকে। লঙ্কারাজ রাবণপুত্র মেঘনাদ ইন্দ্রপুরী জয় করার পর সেই স্থানে সহস্রাধিক ফলের সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি সেখানকার শ্রীফল খান এবং সেটিকেই শ্রেষ্ঠ বিবেচনা করে লঙ্কায় নিয়ে আসেন। সঙ্গে আনেন ওই ফলের বীজ ও চারা। শ্রীফলই আম। সেখান থেকেই তা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে। কীভাবে বিস্তৃত হলো, সে বিষয়েও উপাখ্যান আছে। রাজা রামচন্দ্র যখন লঙ্কা জয়ের উদ্দেশে এগোচ্ছিলেন, তখন হনুমান ছিলেন অগ্রবর্তী দলে। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে লঙ্কায় পৌঁছানোর পর আমবাগান দেখতে পান হনুমান। গাছে গাছে পাকা আম ঝুলছিল। সেই ফলের স্বাদ তাকে বিমোহিত করে। আম খেয়ে খেয়ে উত্তর দিকে আঁটি ছুড়তে লাগলেন হনুমান। তা সমুদ্র পার হয়ে তামিলনাড়ু অঞ্চলে গিয়ে পড়ল। সেখান থেকে আম ধীরে ধীরে মুম্বাই, অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, সিন্ধু, পাঞ্জাব ও বাংলায় এসে পৌঁছেছে। এই উপাখ্যান পৌরাণিক।
ইতিহাস বলে, মুসলিম মিশনারিদের মাধ্যমে এই উপমহাদেশ থেকে আমের বীজ ও চারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আর আফ্রিকায় ছড়িয়েছে। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে পর্তুগিজ বণিকদের মাধ্যমে এই দেশ থেকে ফলটি ব্রাজিল, জ্যামাইকা ও মধ্য আমেরিকায় পৌঁছেছে। খ্রিস্টজন্মের ৫০০ বছর আগে দক্ষিণ ভারতের তামিল ও তেলেঙ্গানার মানুষ নৌপথে জাভা, সুমাত্রা, মালয়, কম্বোডিয়া, বোর্নিও অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করত। সেকালেই দক্ষিণ ভারত থেকে আম গিয়েছে মালয়ে। তবে উদ্ভিদবিদদের মতে, প্রথমে আম চাষের সূচনা হয় মালয় উপদ্বীপেই।

ইলোরা অজান্তার ৩৪ নম্বর গুহাচিত্রে আম ও পাতা।
ইলোরা অজান্তার ৩৪ নম্বর গুহাচিত্রে আম ও পাতা।

প্রাচীনকাল থেকেই কবি-লেখকেরা আমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সাহিত্যে এই ফলের উপস্থিতি বিপুল। এমন সুখ্যাতির কারণেই আমগাছের আরেক নাম কল্পতরু। এ ফলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনীতি, গল্প, কাব্য, সংগীতসহ মানুষের নানা আচার আর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। নবাব, রাজা, জমিদার, সামন্ত ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা ভালো জাতের আমের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
ইংরেজিতে ম্যাঙ্গো, বাংলায় আম। এই দুই শব্দেরই আছে ব্যুৎপত্তিগত ইতিহাস। ম্যাঙ্গো শব্দটি তামিল ভাষা থেকে এসেছে। তবে সরাসরি নয়। সে ভাষায় আমকে বলা হয় ‘মানকে’। ‘মান’ অর্থ আমগাছ আর ‘কে’ অর্থ ফল। সেটি বিকৃত হয়ে হয়েছে ‘মাংকে’। তামিলনাড়ু অঞ্চলের কন্যাকুমারিকাসহ এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এসে পর্তুগিজরা ম্যাংকের দেখা পায়। সেটিকে তারা নিজেদের মতো করে ‘ম্যাঙ্গা’ ডাকা শুরু করে। এই ম্যাঙ্গাই ইংরেজিতে ‘ম্যাঙ্গো’ হয়ে এসেছে। আমের সংস্কৃত রূপ অম্র। তা থেকে আম্র; পরিশেষে আম। সংস্কৃতে অম্রের অর্থ হচ্ছে আম। আনুমানিক ৩ হাজার বছর আগে আর্যরা উত্তর ভারতের গঙ্গা, যমুনা-সরস্বতী অববাহিকায় এসে কাঁচা আম খেয়েছিল। তারা ফলটির নাম দিয়েছিল অম্র। টক স্বাদের জন্যই এমন নাম।
আমের বিভিন্ন নাম আছে। সেসবের ব্যাখ্যাও রয়েছে। যেমন ফুল থেকে ছোট আম হওয়ার পর ঝড়, শিলাবৃষ্টিসহ কিছু প্রাকৃতিক কারণে তা শাখা থেকে ঝরে পড়ে। এই ফলটিকে বলে ‘চ্যুত’। আরেক নাম সহকার।
প্রাকৃতিক পরাগায়নে আমের মুকুল সহায়ক হিসেবে কাজ করে বলে এর নাম হয়েছে সহকার। এর ফুল বসন্তের আগমনী বার্তা জানায়। তাই আমের একটি নাম বসন্তদূত। বেশ কিছু রাজার পছন্দের ফল ছিল আম। যেমন লক্ষ্মণ সেন। সম্রাট আকবরেরও প্রিয় ফলের তালিকায় আম শীর্ষে ছিল। এ ছাড়া অনেক নৃপতি এটিকে প্রিয় ফল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাই এর নাম হয়েছে নৃপপ্রিয়। পুরাণে আমের মঞ্জরিকে প্রেমের দেবতা মদনের পুষ্পশর বলা হয়েছে; যা পঞ্চশরের এক শর। এই বাণের আঘাতে তিনি প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে প্রেয়সীর মনে প্রেমাবেগ জাগিয়েছিলেন। নিজে হয়েছিলেন কামাতুর। কামোত্তেজক বলে আমকে ডাকা হয় কামাঙ্গ, কামশর, কামবল্লভ ও সুমদন। মধুর স্বাদের হওয়ায় ফলটির নাম দেওয়া হয়েছে মাধুলি মধ্বারস ও সীধুরস। আমের রস দুধের সঙ্গে মেশালে হয় সোমধারা, যা শুক্রস্রোতকে শুদ্ধ ও বলবান করে। এই রস মাদকতার সৃষ্টি করে বলে আমের সমার্থক নাম মদাঢ্য। রসে ভরপুর হওয়ায় ফলটিকে রসাল নামেও ডাকা হয়। এর গাছে কোকিল বাস করে। তাই বৃক্ষটিকে অনেকে কোকিলাবাস কিংবা কোকিলোৎসব বলে। আমগাছের একটি নাম মন্মথালয়। কারণ, এটি প্রেম ও কামের দেবতা মদন বা মন্মথের আলয়। আমের মুকুলকে বলা হয় কামায়ুধ।
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আমবাগান সৃষ্টি ও আম উৎপাদন ছড়িয়ে দেয়ার পেছনে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী, আরব বণিক, ইসলাম ধর্ম প্রচারক, খ্রিস্টান মিশনারি, পর্তুগিজ ও পারসিয়ানদের অবদান বেশি।
বৌদ্ধ ধর্মে আম গাছ অতি প্রয়োজনীয় উপকরন। তারা যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই রোপন করেছেন আম গাছ। এভাবেই ব্যাপক ভাবে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে আম।

রাজশাহীর বাঘা মসজিদের টেরাকোটায় আম ও পাতা।
রাজশাহীর বাঘা মসজিদের টেরাকোটায় আম ও পাতা।

আম কত জাতের হতে পারে, সঠিক হিসাব নেই। গবেষকদের মতে বাংলাদেশেই আছে ১০ হাজার ধরনের। তবে এটি অনুমাননির্ভর গণনা। সারা বিশ্বে তালিকাভুক্ত আমের জাতসংখ্যা ১৫০০। বিজ্ঞানীদের অভিমত, পৃথিবীতে এই ফলের ধরন আছে ১০ হাজার। যেগুলোর অধিকাংশই তালিকাভুক্ত নয়। আম প্রায় ৯০ টি দেশে উৎপাদন হয়।
তবে আমকে বৌদ্ধদের পর সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে বোধহয় সৌন্দর্য পিয়াসু ও উদ্যানপ্রিয় মোঘলরা। তারা তৈরী করেছেন আমবাগান। উদ্ভাবন করেছেন আমের প্রায় ৫০০ টি জাত। মোগলরা আমের বোঁটা মধু অথবা ঘি‘র মধ্যে রেখে আম সংরক্ষনের প্রনালী আবিস্কার করেছিল।
মুগল সম্রাট আকবর তাঁর শাসনামলে (১৫৫৬-১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ) ভারতের লাখবাগের দারভাঙার সন্নিকটে প্রায় এক লক্ষ আম গাছ রোপন করেছিলেন। সেটিকে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সুসংগঠিত আমবাগান বলে মনে করা হয়।
ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি, প্রাচীনকাল থেকেই অনেক ঐতিহাসিক পরিব্রাজক এ উপমহাদেশে এসেছেন। তারা আম দেখে ও খেয়ে মুগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন ইবনে বতুতা, হিউ-এন সাং ও ফাহিয়েন অন্যতম। আলেকজান্ডার ভারত আক্রমনের সময় সিন্ধুতে আম বাগানদেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
সারা পৃথিবীতে আম শুধু খাওয়া ও দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।
শিল্প, সংস্কৃতি ও ধর্মেও আমের ব্যাপক উপস্থিতি আছে। দেবী সরস্বতীর পূজার প্রধান উপকরণ এর মুকুল। বৈদিক শাস্ত্রমতে, উন্নত মানের পাকা আম দেবতা গণেশের খুব পছন্দের। ফলটি পূজার একটি অনুষঙ্গ। প্রার্থনাকালে তা থাকলে ভক্তের সিদ্ধিলাভ হয় এবং মনের উৎকর্ষ বাড়ে। গণেশ চতুর্দশী উৎসবেও লাগে আমপাতা। রামায়ণের অনেক শ্লোকে এই ফলের উল্লেখ আছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শবদাহ করতে আমকাঠ ব্যবহৃত হয়। হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈনদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এর পাতার উপস্থিতি রয়েছে। এটিকে তারা মঙ্গলপ্রতীক ভাবে। গৌতম বুদ্ধ আমগাছের ছায়ায় বসে ধ্যান করেছেন। বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার বছর ধরে আমপাতার ব্যবহার হচ্ছে।

আমের মোটিফ
আমের মোটিফ (কলকা)

অলংকরণশিল্পে ঠাঁই পেয়েছে আমের মোটিফ। খ্রিস্টপূর্ব ১৫০ অব্দে ভারতের সাঁচিতে নির্মিত বৌদ্ধ স্তূপায় আমগাছের নিচে লক্ষ্মীর মূর্তি খোদাই করা আছে। সেখানে এই ফলের আদলে আঁকা কিছু নকশাও দেখা যায়। এটিই আমের প্রাচীনত্বের নিদর্শন। ইলোরা ও আজান্তা গুহায় প্রাচীন ভারতীয় শিল্পকলা ও ভাস্কর্যে আমগাছ, পাতা, পুষ্পমঞ্জরি ও ফলটিকে তুলে ধরা হয়েছে। গৌড়ের সুলতান নুশরাত শাহ ১৫২৩ খ্রিস্টাব্দে রাজশাহীর অদূরে বাঘা নামের অঞ্চলে যে মসজিদ নির্মাণ করেন, সেটির দক্ষিণের মেহেরাব আমের টেরাকোটা মোটিফে অলংকৃত।
কম্বোডিয়ায় পাওয়া সপ্তম শতাব্দীর একটি লিপিতেও এ ফলের উল্লেখ আছে। ভারতের অনেক বাড়িঘরের দরজার খিলানে এখনো আমপাতার অলংকরণ দেখা যায়। সে দেশের সূচিকর্মেও এর মোটিফ লক্ষণীয়। কাশ্মীরি শাল, কাঞ্জিভরম ও রাজশাহী সিল্ক শাড়িতে আমপাতা কিংবা আম্রমঞ্জরির নকশা আঁকা থাকে। শত বছর ধরে বাংলাদেশের বয়নশিল্লীরা আম, পাতা ও গাছের নিখুঁত এমব্রয়ডারি করে আসছে কাপড়ে। এ রকমই একটি মোটিফ হচ্ছে আম্বি। আমের বিশেষ নকশা এটি। ভারতীয় সূচিকর্মের প্রধান একটি প্রতীক এই আম্বি। বিশ্বের অনেক দেশই কাপড়ে এই নকশা করে। ডিজাইনটি বর্তমানে বিশ্ববাজারে ভারতকে স্বকীয়ভাবে তুলে ধরেছে। মোগল আমলেই এর উৎপত্তি। তাদের কাশ্মীরি জামাভারশালে ম্যাঙ্গো-মোটিফ অঙ্কিত থাকত। কোম্পানি আমলে মোগলদের এই নকশা উপমহাদেশের বাইরে বিস্তৃত হয়। ইংল্যান্ডের নারীদের কাছে এটি বেশ আকর্ষণীয় ছিল। এমনকি সে দেশের তাঁতিদের ‘পেশলি’ নামের একটি গ্রামে স্থানান্তর করা হয়েছিল শুধু ম্যাঙ্গো মোটিফে কাজ করার উদ্দেশ্যে। সেখান থেকেই এ ধরনের নকশার বিলেতি নাম হয় পেসলি ডিজাইন। হাল আমলে বাংলাদেশে যে মোটিফটি ‘কলকা’ নামে পরিচিত।
ভারত ও বাংলাদেশে বিয়ের উৎসবে আমপাতার ব্যবহার দেখা যায়। ঘাট থেকে কলসি ভরে পানি আনে বাড়ির মেয়েরা। কলসির মুখে থাকে আমের পত্রমঞ্জরি। সেটি পানিতে ডুবিয়ে বরের মাথায় ছিটিয়ে দেওয়া হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসে যে জামাইষষ্ঠীর আয়োজন হয়, তাতে আম আবশ্যিক।
বাংলাদেশ ও ভারতের মুসলিম সমাজে নতুন জামাই বাড়িতে আম উপহার পাঠানো হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এতে ‘জামাই ব্যাভার’ বলা হয়।

চিত্রে: ১ .আলফানসো ২. ল্যাংড়া ৩. চোষা ৪. অরুমানিশ ৫ .কারাবো ৬. কম্বোডিয়ানা ৭. গোলেক ৮. হ্যাডেন ৯. নো তামাগো

বাংলাদেশে রাজশাহীর আম জগৎবিখ্যাত হলেও খ্যাতির পেছনের উৎসস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
সারা পৃথিবীতে আম ফলের রাজা হলেও আমের রাজা হচ্ছে ‘আলফানসো’। ভারতে মহারাষ্ট্রের রত্নগিরিতে আমটি উদ্ভাবন করেছেন একজন পর্তুগিজ উদ্ভিদতত্ত্ববিদ। প্রসঙ্গক্রমে বিভিন্ন দেশে বিখ্যাত আমের নাম উল্লেখ করতে হয়। এর মধ্যে আলফানসো হচ্ছে ভারতের বিখ্যাত আম। এরপর বাংলাদেশের ল্যাংড়া, পাকিস্তানের চোষা, ফিলিপাইনের কারাবো, ইন্দোনেশিয়ার অরুমানিশ ও গোলেক, কম্বোডিয়ার কম্বোডিয়ানা এবং যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাডেন হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে বিখ্যাত আম। সম্প্রতি অন্তর্জালে দেখা যাচ্ছে জাপানি মায়াজাকি অঞ্চলের তাইও ‘নো তামাগো’ আম। যার মানে ‘Egg of the sun’. এই প্রজাতির আম বিশ্বে সব থেকে দামি। বিক্রি হয় অবশ্য গোটা জাপানজুড়ে। প্রতি বছর প্রথম ফলন করা আম নিলামে তোলা হয়। আর সেই আম বিক্রি আকাশছোঁয়া দামে। তবে এই আমের ফলন আর পাঁচটা প্রজাতির আমের মতো হয় না। অর্ডারের উপর নির্ভর করে এই আমের ফলন।
এই প্রজাতির আম অর্ধেক লাল, অর্ধেক হলুদ। জাপানে এই প্রজাতির আমের ফলন হয় গরম ও শীতের মাঝে। আর সেই জন্যই এই আমের দাম এমন চড়া হয়।
২০১৭ সালে এই প্রজাতির দুটি আমের নিলামে দাম উঠেছিল ৩৬০০ ডলার। অর্থাৎ প্রায় দুই লাখ ৭২ হাজার টাকা। সেবার প্রতিটি আমের ওজন ছিল ৩৫০ গ্রাম। অর্থাৎ মাত্র ৭০০ গ্রাম আমের দাম দুই লাখ ৭২ হাজার টাকা।
আপনি হয়তো ভাবছেন কী এমন আছে যে এই আমের এমন অস্বাভাবিক দাম! এই আমের চাষ করতে চাষীকে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। প্রতিটি আম গাছে থাকাকালীনই ছোট জালে জড়িয়ে রাখা হয়। তার পর আমগুলিকে নির্দিষ্ট পজিশনে রাখা হয়। এতে করে সূর্যের আলো আমের একটি নির্দিষ্ট অংশে পড়ে। তা ছাড়া আমগুলিকে গাছ থেকে মাটিতে পড়তে দেওয়া হয় না। তারও ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে আমের এক পাশে রুবি রেড রং ধরানো হয়। আর স্বাদের কথা বলাবাহুল্য। যেমন দাম তেমনই তার স্বাদ ও গন্ধ।
নামকরণ:
আমাদের দেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমের নামগুলো বেশ আকর্ষণীয়, তেমনি আমের স্বাদও বিভিন্ন রকমের। বোধকরি স্বাদ ও বর্ণের ওপর ভিত্তি করে আমের বিভিন্ন নাম দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারত উপমহাদেশে রাজা-বাদশাহ্দের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য আমের নাম দেয়া হয়েছে রানীপছন্দ, রাজাভোগ, নবাবপছন্দ ও দুধসর। হিন্দুদের দেব-দেবীদের পূজা, অর্ঘ্য ও ভোগ দেয়ার জন্য আমের নাম দেয়া হয়েছে লক্ষণভোগ, কালীভোগ, সীতাভোগ, গোপালভোগ।
আমের বাহারি বর্ণকে কেন্দ্র করে আমের নাম দেয়া হয়েছে জাফরান, স্বর্ণরেখা, নীলাম্বরী, সুবর্ণরেখা। ভারতের আম ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছে আমকে আকর্ষণীয় করার জন্য আলফানসো আমকে লাজুক মহিলা, দুসরি আমকে সুন্দরী গৃহকর্ত্রী ও ল্যাংড়া আমকে মুকুটবিহীন রাজা বলে ডেকে থাকেন। এছাড়া আমাদের দেশ ও ভারতের বিভিন্ন মিষ্টির নামের সঙ্গে আমের নামের মিল দেখা যায়। এসব আমের নাম হচ্ছে রাজভোগ, মোহনভোগ, মিশ্রিকান্ত ও মতিমাণ্ডা ইত্যাদি। আমের নাম ও জাত নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা ও মেধার পরিচয় দিয়েছেন উদ্ভিদতত্ত্ববিদ ও মালিরা।
বাহারি আমের নাম লেংড়া, ক্ষিরসাপাতি, সিন্দুরা, চোসা, রাজভোগ, গোপালভোগ, ফজলি, আম্রপালি, হাড়িভাঙ্গা, কাচামিঠা, হিমসাগর, লক্ষণভোগ, দুধসাগর, গোবিন্দভোগ, গুলাবখাস, গুটি, সুন্দরী, বোম্বাই, মল্লিকা, লখনা,আশ্বিনা।
হাড়িভাঙ্গা আম: এক লোক আম খেয়ে হাড়িতে রেখে দেয়। কিছুদিন পরে ওই হাড়ি ফুঁড়ে আত্মপ্রকাশ করে একটা চারাগাছ। আর চারাগাছ রূপান্তর হয় পরিপূর্ণ গাছে। তারপর সেই গাছে আসে রূপবতী আম। তার স্বাদ কী যেইসেই? অমৃতের স্বাদ নিয়ে যে আমের আত্মপ্রকাশ ভাঙ্গা হাড়ি থেকে, তার নাম হয়ে গেল হাড়িভাঙ্গা।
ফজলি: ব্রিটিশ ভারতে মালদহ জেলার কালেক্টর রাজভেনশ ‘ফজলি’ নামকরণ করেন। এর আগে ফজলি আম ‘ফকিরভোগ’ বলে পরিচিত ছিল। বলা হয়, ফজলি বিবি নামে এক বুড়ির বাড়ি থেকে প্রথম এই জাতটি সংগৃহীত হয়েছিল। তিনি বাস করতেন বাংলার স্বাধীন সুলতানদের ধ্বংসপ্রাপ্ত গৌড়ের একটি প্রাচীন কুঠিতে। তার বাড়ির আঙিনায় ছিল একটি পুরনো আমগাছ। তবে এটি কোন জাতের, সে বিষয়ে কোনো ধারণা ছিল না তার। ফজলি বিবি গাছটির খুব যত্ন নিতেন। গাছটিতে প্রচুর আম ধরত। আমগুলো যেমন আকারে বড়, তেমনি সুস্বাদু। সেখানকার নির্জনবাসী ফকির-সন্ন্যাসীদের তিনি এই আম দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। সে জন্য ফজলি বিবি এই আমের নাম দিয়েছিলেন ফকিরভোগ। কালেক্টর রাজভেনশ একবার অবকাশ যাপনের জন্য ফজলি বিবির কুঠির কাছে শিবির স্থাপন করেন। তার আগমনের খবর পেয়ে ফজলি বিবি ফকিরভোগ আম নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। ইংরেজ সাহেব সেই আম খেয়ে খুবই তৃপ্ত হন। ফজলি বিবির আতিথেয়তায় তিনি এতই খুশি হয়েছিলেন যে, ওই আমের তিনি নাম দেন ‘ফজলি’। তখন থেকে এই নাম মানুষের মুখে মুখে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
আম্রপালি: ডায়াবেটিক আম আমের এই জাতটি ইদানিংকালের আবিষ্কার। আমটি সুস্বাদু, সুমিষ্ট, রং, রস, আঁশহীন ও সুগদ্ধ মেশানো দৃষ্টিনন্দন। আকর্ষণীয় এই অভিনব জাতটি উদ্ভাবনে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারের পরিচালক ও উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে গবেষণা করে তিনি উদ্ভাবন করেছেন ডায়াবেটিক বা বাউ আম-৩। এই আমে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম বিধায় তা ডায়াবেটিকস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। এই আমের আঞ্চলিক নাম হচ্ছে আম্রপালি।

ল্যাংড়া আম: আঠারো শতকে এক ফকির খুব সুস্বাদু ল্যাংড়া আমের চাষ করেন। সেই ফকিরের পায়ে একটু সমস্যা ছিল। সেই থেকেই নাকি ওই আমের নাম হয়ে যায় ‘ল্যাংড়া’।
ল্যাংড়া আম বা বারানসী আম ভারতের অন্যতম একটি বিখ্যাত আম। এটি পশ্চিমবঙ্গ সহ সমগ্র উত্তর ভারতে চাষ করা হয়। এই আম পাকার পর খানিক হলদে রঙের হয়। জুলাই মাসের দিকে এই আম পাকতে শুরু করে এবং বাজারে পাওয়া যায়। এই আমকে ছোটো ছোটো টুকরো করার ক্ষেত্রে আদর্শ বলে মনে করা হয়। এছাড়া নানা আম থেকে তৈরী খাদ্যের ক্ষেত্রেও আদর্শ বলে মনে করা হয়।
লক্ষ্মণভোগ আম: ব্রিটিশ আমলে ইংরেজ বাজারের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা লক্ষ্মণ একটি আম গাছ রোপণ করেন। স্বাদে-গন্ধে সেই আম ছিল অতুলনীয়। লক্ষ্মণ চাষির নাম থেকেই লক্ষ্মণভোগ আমের উৎপত্তি।
গোপালভোগ আম: ইংরেজ বাজারে নরহাট্টার গোপাল নামের এক ব্যক্তি চাষ করেন এ আম। সেই থেকে গোপাল চাষির নামে গোপালভোগের উৎপত্তি হয়।
গোলাপখাস আম: গন্ধের জন্য বিখ্যাত এ আম। গোলাপ ফুলের মতো গন্ধ থাকায় এই আমকে গোপালখাস নামে ডাকা শুরু হয়। প্রাচীন বাংলার আমগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এর গায়ে গোলাপের রঙের লালচে আভা রয়েছে।
গুটি আম: ছোট এক ধরনের আম খেয়ে সেই আঁটি নিজের বাগানে পুঁতেছিলেন মালদহের এক দরিদ্র কৃষক। সেই আঁটি থেকেই জন্ম নিয়েছিল একটি আম গাছ। কাঁচা অবস্থায় টক। কিন্তু পাকলে খুব মিষ্টি। আঁটি বা গুটি থেকে গাছটি জন্মায় বলে আমের নামও হয়ে যায় ‘গুটি’।
আশ্বিনা আম: আশ্বিন মাসে পাকে যে আম তাকে ‘আশ্বিনা’ বলে। আশ্বিনা জাতের আম গাছে থাকে সাধারণত আগস্ট মাস পর্যন্ত। কিছু কিছু এলাকায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও এ আম পাওয়া যায়।
দশেরি আমঃ উত্তর প্রদেশের আমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাদশাহি খানদানের ইতিহাস৷ যেমন আমের রাজা দশেরির কথাই ধরা যাক৷ উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষৌ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা পার হলে পড়ে মালিহাবাদ নামে একটা জায়গা৷ উন্নত প্রজাতির আম দশেরির জন্য এই এলাকা চিহ্নিত৷ এখানে ৩৫ হাজার হেক্টর জমি জুড়ে আছে আমের বাগান৷ রাজ্যের মোট আমের ফলনের ১২.৫ শতাংশ আম এই মালিহাবাদেই হয়৷ তাই মালিহাবাদকে বলা হয় ‘‘আমের রাজধানী”৷
স্থানীয় লোকজনদের মতে অবশ্য মালিহাবাদ এবং দশেরি আম নিয়ে নানা গল্পকথা আছে৷ কেউ কেউ বলেন, প্রায় ২০০ বছর আগে ফকির মহম্মদ খান ওরফে গয়া মালিহাবাদির নেতৃত্বে একদল আফ্রিদি পাঠান ভাগ্যান্বেশনে আফগানিস্তানের সীমান্তে খাইবার গিরিপথের এক গ্রাম থেকে পেশাওয়ার হয়ে হিন্দুস্থানে আসে৷ প্রথমে তাঁরা আসে উত্তর প্রদেশের ফারুকাবাদে৷ সেখান থেকে অবধ-লক্ষৌ-এ৷ মহম্মদ খানের বীরত্ব এবং যুদ্ধ বিদ্যার নৈপূণ্য দেখে অবধের নবাব খুশি হন৷ বকশিস হিসেবে মহম্মদ খান ফলের বাগান করার অনুমতি প্রার্থনা করেন নবাব বাহাদুরের কাছে৷ সঙ্গে সঙ্গে তা মঞ্জুর হয়৷ কথিত আছে, মহম্মদ খান প্রথম মালিহাবাদে আমের চারা রোপণ করেন৷
তবে দশেরি আম বাগান সবই এককালে ছিল নবাবদের৷ পরে অন্যদের ইজারা দেয়া হয়৷ বাংলায় আমের খ্যাতি এককালে ছিল মুর্শিদাবাদের নবাব আমলে৷
আসলে আমাদের দেশে আমের বাহারি জাত হলেও, এসব আমের নামকরণ কোনটাই ঐতিহাসিক না। কেবল কিছু আমের নামকরণ বাণিজ্যিকভাবে হয়ে এসেছে। তাও সেই নামকরণগুলি অ্যাকাডেমিকভাবে হয়নি। লোকমুখে ছড়ানো নামগুলোই সবাই নিয়েছে। কিছু সংক্ষিপ্ত নামকরণের নমুনা ক্ষিরের মত মিষ্টি যে আমের স্বাদ তার নাম ক্ষিরসাপাতি। রানী যে আম খেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন, সেই আমের নাম রানীভোগ। বিহারের এক ল্যাংড়া ফকিরের বাড়ি থেকে সংগৃহিত চারা গাছ থেকে যে আমের সন্ধান মিলে, তার নাম হয়ে যায় ল্যাংড়া। যে আমটা কাচা থাকতে মিষ্টি হয়, পাকলে টক হয়ে যায় তার নাম কাচামিঠা।
দুধ ভাতের সাথে আম মিশিয়ে খেতে কে না পছন্দ করে? আমের ত্বক নরম ও মিষ্টি হলে সেই আম মাখানো দুধ ভাতের মজাই আলাদা। দুধভাতের আমের নাম হয়ে গেলো দুধসাগর। চোষা আম বাংলাদেশের না। পাকিস্তানে এর উৎপত্তি। কিন্তু বাংলাদেশে পাওয়া যাবে সৃজনের শুরু থেকেই। যেমন মিষ্টি তেমনি এতে আঁশের পরিমাণ শূন্যের কোঠায়। তাই হাতের তালুতে নিয়ে মর্দন করে, ভেতরের ত্বক জুস বানিয়ে খাওয়ার অভ্যাস ছোট বড় সবারই আছে। এভাবে চুষে খাওয়া আমের নাম হচ্ছে চোষা আম। আবার আঞ্চলিকতাভেদে কিছু আমের একাধিক নামও এসেছে মানুষের ব্যবহারে। যেমন ময়মনসিংহের উত্তরাঞ্চলে রশুনে আম বলা হয় এক জাতের আমকে। তার স্বাদ যেমনি হোক, রশুনের মত গন্ধ বলে তার নাম রশুনে আম। এভাবে প্রায় আমেরই অদ্ভুত নামকরণ হয়ে গেছে।

আমের গুন

আম একটি লো ক্যালরি ফল।এতে রয়েছে উচ্চ পরিমানে ফাইবার,ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি,রয়েছে ফোলেট,আয়রন ভিটামিন বি-৬,এবং সামান্য পরিমানে জিংক, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-ই।এছাড়া আমে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট এবং ফাইটো কেমিক্যালস। আমে রয়েছে ডজন খানেক  পলি ফেনলস।পলি ফেনল হল প্লান্ট কম্পাউন্ড যাএন্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে।আর,এন্টিঅক্সিডেন্ট এমন এক ধরণের উপাদান যা আমদের দেহের কোষের সুরক্ষায় অপরিহার্য মেঅ্যান্থোসায়ানিন,ক্যাটেসিন,কোয়ারসেটিনিন,কেমফেরোল,বেনজয়িকএসিড,ম্যাঙ্গিফেরিন ছাড়াও আরও অনেক ধরণের পলিফেনলস রয়েছে ।

পলি ফেনলস উচ্চ রক্তাচাপ,উচ্চ কোলেস্টেরল,ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।এছাড়া,ক্যান্সার প্রতিরোধে এবং আমাদের অন্ত্রের সুস্থতায় পলি ফেনল কার্যকর ভূমিকা পালন করে

 

 

আম গাছের ছাল, বৌল (ফুল), বীজ আঠা, পাতার গুন:

 রক্তচাপ কমায়

আম পাতায় রক্তচাপ কমানোর উপাদান আছে। হাইপারটেনশনের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ রক্তনালীকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে আম পাতা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন ১ কাপ আম পাতার চা পান করলে হাইপারটেনশন কমে।

 ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

আম পাতায় ট্যানিন এবং অ্যান্থোসায়ানিন থাকে যা ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে। আম পাতার  চা ডায়াবেটিস এড়িয়ে চলতে এবং সংবহন সম্পর্কিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

 শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা নিরাময় করে

আম পাতার চা পান করলে সকল ধরনের শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা সারতে এবং কমতে সাহায্য করে। যারা ঠান্ডা, ব্রংকাইটিস বা অ্যাজমায় ভুগছেন তারা এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পেতে পারেন আম পাতা ফুটানো পানি পান করে।

কান ব্যথা কমায়

আপনি যদি কান ব্যথার সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে আম পাতার রস ব্যবহার করা হতে পারে সবচেয়ে কার্যকরী প্রতিকার। আম পাতায় হালকা তাপ দিয়ে কানের ছিদ্রের উপর লাগান। এটি চমৎকারভাবে কাজ করবে।

 পোড়া সারাতে

আম পাতার সাহায্যে পোড়া নিরাময় হতে পারে খুব দ্রুত। আম পাতার ছাই ত্বকের পোড়া অংশকে নিরাময় হতে সাহায্য করে। কিছু আম পাতা পুড়িয়ে ছাই করে নিন এবং এই ছাই আলতো করে পোড়া স্থানে ঘষুন।

ইউরিক এসিডের সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করে

গেঁটে বাত নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী আম পাতা। কিছু কচি আম পাতা পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিন পাতার বর্ণ হলুদ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। উপকারিতা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়।

 স্ট্রেস কমায়

যারা অস্থির ও উদ্বিগ্ন অনুভব করেন তারা এর থেকে মুক্তি পেতে পান করতে পারেন আম পাতার চা। ২/৩ কাপ আম পাতার চা পান করে দেখুন পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এটি আপনার স্নায়ু তন্ত্রকে শিথিল হতে সাহায্য করবে এবং আপনি সতেজ অনুভব করবেন।

কিডনির পাথর দূর করে

আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন এবং পানির সাথে মিশিয়ে সকালে পান করুন। এর ফলে কিডনি পাথর খুব সহজেই শরীর থেকে বের হয়ে যাবে।

গলা ব্যথা দূর করে

গলার ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে আম পাতা। কিছু আম পাতা পুড়তে দিন এবং এর থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া শ্বাসের সাথে গ্রহণ করুন। এতে আপনার গলা ব্যথার সমস্যা কমবে।

মৌখিক স্বাস্থ্য বজায় রাখা

আম পাতার সাহায্যে আপনার মুখের দুর্গন্ধ দূর করা যায় এবং অস্বাস্থ্যকর দাঁত ও মাড়ির সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করে।

আম পাতা বিভিন্নভাবে স্বাস্থ্যের উপকার করে থাকে। তবে আম পাতার চায়ে আপনার অ্যালার্জির সমস্যা হয় কিনা তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আম পাতায় আম গাছের আঠা বা কষ আছে কিনা দেখে নিতে হবে, তা না হলে এই কষ শরীরে  প্রবেশ করলে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাছাড়া এই কষ ত্বকে লাগলে ত্বক পুড়ে যেতে পারে।

চুলের সমস্যায় আম

কচি আমের আঁটির শাঁস এবং শুকনো আমলকী অল্প পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি মাথায় মাখলে অকালে চুল পাকা বন্ধ হয় । কচি আমের আঁটির শাঁস ভেজানো পানি মাথায় মাখলে চুল পড়ে যাওয়া বন্ধ হয়। এছাড়া কচি আমের আঁটির শাঁস এবং হরিতকী ভালভাবে বেটে মিহি করে মাথায় মাখলে মাথার খুসকেও কমে যায়।

পা ফাটা রোগে আম

শীতকালে অনেকের পায়ের গোড়ালি গেঁটে যায়। একসময় ফাটা এমন বড় হয়ে যায় যে তা দিয়ে রক্ত পড়ে এবং চলাফেরাও কষ্ট সাধ্য হয়ে যায়। এ সব ফাটার প্রথমাবস্থায় আমের আঠা দিয়ে ফাটা পূর্ণ করে দিলে ফাটা আর বৃদ্ধি পায় না এবং চলা ফেরা করতেও কোন প্রকার অসুবিধা হয় না।

কাশি সমস্যায় আম

আমের ফলি (কাঁচা আমের শুকনো খণ্ড), সামান্য আদা, সামান্য পিপুল, একটু তালমিশ্রী ও মধু এক সঙ্গে বেটে খেলে কাশি ভালভাবেই উপশম হয়।

পেটের সমস্যায় আম

আমের ছাল রক্ত আমাশয়ে ব্যবহৃত হয়। দুই চামচ ছালের রস, একটু চিনি ও এক কাপ দুধ একত্রে মিশিয়ে কয়েকবার খেলে রক্ত আমাশয় ভাল হয়ে যায়। আম বীজের শাঁস ২০/৩০ গ্রেন মাত্রায় খেলে কেঁচো ক্রিমি পড়ে যায়। আমগাছের ছালের রস খেলে প্রমেহ রোগ সেরে যায়। এছাড়াও আমের ছাল ও পাতা অন্যান্য অনেক অসুখে ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

কুনিনখ বাড়লে- যাদের কুনিনখ বাড়ে (বিশেষ করে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির নখের কোণা অধিক বৃদ্ধি পেয়ে মাংসের ভিতরে ঢুকে যায়) তাঁরা যদি আমের নরম আঠা ওই নখের কোণে ঢুকিয়ে দেন তবে বেদনা থেকে মুক্তি পাবেন।

উদারময় উপশমে- আমের আঁটির শাঁসের ক্বাথ এবং আদার রস মিশিয়ে খেলে উদারময় উপশম হয় ।

মেয়েদের শ্বেতপ্রদর রোগে- আম বীজের (বড়ার) শাঁস শুকিয়ে গুঁড়ো করে তা অল্প মাত্রায় কয়েকদিন খেলে মেয়েদের শ্বেতপ্রদর রোগ উপশম হয়।

 

কাঁচা আমের গুন:

ওজন কমাতে পারে কাঁচা আম

যাঁরা ওজন কমাতে বা শরীরের বাড়তি ক্যালরি খরচ করতে চান, তাঁদের জন্য এখন আদর্শ ফল কাঁচা আম। পাকা মিষ্টি আমের চেয়ে কাঁচা আমে চিনি কম থাকে বলে এটি ক্যালরি খরচে সহায়তা করে।

অম্লতা দূর করে

বুক জ্বালাপোড়া বা অম্লতার সমস্যায় ভুগছেন? কাঁচা আম এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। অম্লতা কমাতে কাঁচা আমের এক টুকরো মুখে দিতে পারেন।

সকালের বমি ভাব দূর করে

অনেকেরই সকালে উঠে বমি বমি ভাব হয়। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা যাঁরা। এ সমস্যা দূর করতে পারে কাঁচা আম।

ঝিমুনি দূর করে

দুপুরে খাওয়ার পর এই গরমে কিছুটা ঝিমুনি ভাব দেখা দিতে পারে। কাঁচা আমে আছে প্রচুর শক্তি। দুপুরের খাওয়ার পরে কয়েক টুকরা কাঁচা আম খেলে ঝিমুনি দূর হয়।

যকৃতের সমস্যা দূর করে

যকৃতের রোগ নিরাময়ের প্রাকৃতিক বন্ধু হতে পারে কাঁচা আম। কয়েক টুকরো কাঁচা আম চিবানো হলে পিত্তরস বৃদ্ধি পায়। এতে যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং অন্ত্রের জীবাণু সংক্রমণ দূর হয়।

ঘামাচি প্রতিরোধ করে

গরমের সময় ঘামাচি একটি অস্বস্তিকর ব্যাপার। ঘামাচির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সবচেয়ে ভালো উপায় কাঁচা আম খাওয়া। কাঁচা আমে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা সানস্ট্রোক হতে বাধা দেয়।

রক্তের সমস্যা দূর করে

কাঁচা আমে আয়রন বা লৌহ থাকায় রক্তস্বল্পতা সমস্যা সমাধানে বেশ উপকারী।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

খাদ্য হজমে সহায়তা করে কাঁচা আম। অন্ত্রকে পরিষ্কার করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয় কাঁচা আম। টুকরো করে আম কেটে লবণ মাখিয়ে তা মধুসহযোগে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

শরীরে লবণের ঘাটতি দূর করে

গরমে অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও লৌহ বের হয়ে যায়। কাঁচা আমের জুস শরীরের এই ঘাটতি দূর করে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে

কাঁচা আম খেলে ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে কাঁচা আম।

স্কার্ভি মাড়ির রক্ত পড়া রোধ করে

কাঁচা আম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি জোগাতে পারে। স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া কমায় কাঁচা আম। আমচুর স্কার্ভি নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী। নিশ্বাসের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ক্ষয় রোধেও সহায়তা করে কাঁচা আম।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

কাঁচা আম খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

শরীর ঠান্ডা থাকে

কাঁচা আমে পটাশিয়াম থাকার কারণে তা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে৷ এ কারণে শরীরে ঘাম কম হয়। গরমে ক্লান্তিও দূর হয় ৷

চুল ত্বক উজ্জ্বল করে

প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে তা চুল ও ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে ৷

হজম ভালো হয়

গ্যালিক অ্যাসিড থাকার কারণে তা হজম-প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে৷

 

পাকা আমের গুন

পাকা আম আমাদের ত্বক কে সুন্দর, উজ্জ্বল ও মসৃণ করে। শুধু তাই নয়, এটি আমাদের ত্বকের ভেতর ও বাইরে থেকে উভয়ভাবেই সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। আম আমাদের ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ও ব্রণের সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

গাছপাকা আমে পর্যাপ্ত পরিমাণে খনিজ লবণের উপস্থিতিও রয়েছে । আমাদের শরীরের দাঁত, নখ, চুল ইত্যাদি মজবুত করার জন্য আমের খনিজ লবণ উপকারী ভূমিকা পালন করে।

সাধারণত পাকা আম ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ফলে মুখের ও নাকের উপর জন্মানো ব্ল্যাকহেড দূর করতে অনেকাংশে সাহায্য করে। আপনি যদি প্রতিদিন ১০০ গ্রাম পাকা আম খান তাহলে আপনার মুখের কালো দাগ দূর হবে।

আমের উপকারিতা গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে আমের পুষ্টি উপাদান। পাকা আমের আঁশে কিছু উপাদান যেমন- ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ থাকায় তা হজমে সহায়তা করে থাকে। আমে আছে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম এটা আমাদের শরীরের প্রোটিন অণুগুলো ভেঙ্গে ফেলতে সাহায্য করে যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

 

সতর্কতা:

যদিও আম অনেক পুষ্টিকর একটি ফল।তবুও মাত্রারিক্ত আম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।আমে উচ্চ পরিমানে সুগার থাকায় মাত্রারিক্ত পরিমানে গ্রহন করলে রক্তে সুগার এবং দেহের ওজন উভয়ই বৃদ্ধি পেতে পারে।এছাড়া,আমে বেশি ফাইবার থাকায় খুব বেশি পরিমানে খেলে ডায়ারিয়া বা হজমে সমস্যা হতে পারে।যাদের,বাতের সমস্যা আছে অথবা ইউরিক এসিড বেশি তাদের আম না খাওয়াই ভালো।কারণ,আম হাই ফ্রুক্টোজ ফল।

আমের প্রকারভেদ (জাত)

ফজলি
আশ্বিনা
ক্ষীরমন
সেন্দুরা গুটি
ল্যাংড়া
গৌড়মতি
গোপালভোগ
মধু চুষকী
বৃন্দাবনি
লখনা
তোতাপুরী (ম্যাট্রাস)
রাণী পছন্দ
ক্ষিরসাপাত
আম্রপালি
হিমসাগর
বাতাসা
ক্ষুদি ক্ষিরসা
বোম্বাই
সুরমা ফজলি
সুন্দরী
বৈশাখী
িয়ার চারা
রসকি জাহান
হীরালাল বোম্বাই
ওকরাং
মালদা
শেরীধণ
শামসুল সামার
বাদশা
রস কি গুলিস্তান
কন্দমুকাররার
নাম ডক মাই
বোম্বাই (চাঁপাই)
ক্যালেন্ডা
রুবী
বোগলা
মালগোভা
হিমসাগর রাজশাহী
কালুয়া (নাটোর)
চৌষা লখনৌ
সিডলেস
কালিভোগ
বাদশাভোগ
কুষ্ণকলি
পাটনাই
গুটি লক্ষনভোগ
বাগান বিলাস
গুটি ল্যাংড়া
পাটুরিয়া
পালসার
আমিনা
কাকাতুয়া
চালিতা গুটি
রং ভীলা
বুদ্ধ কালুয়া
রাজলক্ষী
মাধুরী
ব্যাঙ্গলোরা
বন খাসা
পারিজা
চন্দনখোস
দুধ কুমারী
ছাতাপোরা
চোষা
জিলাপি কাড়া
শীতল পাটি
পূজারী ভোগ
জগৎ মোহিনী
দিলসাদ
বিশ্বনাথ চ্যাটার্জি
বেগম বাহার
রাজা ভুলানী
নাবি বোম্বাই
সিন্দি
ভূতো বোম্বাই
গোলেক
বারি আম ৭
কালী বোম্বাই
চকচকা
পেয়ারা ফুলী
ভ্যালেনাটো
সিন্দুরী ফজলী
আমব্রা
গুলাবজামুন
আলম শাহী
অস্ট্রেলিয়ান আম
মায়া
দাদাভোগ
শরবতি ব্রাউন
আলফান
রত্না
লাড্ডু সান্দিলা
ছোটীবোম্বাই
কালিজংগী
দ্বারিকা ফজলি
মিঠুয়া
বোম্বে সায়া
বোম্বে গ্রিন
তোহফা
কাচ্চা মিঠা মালিহাবাদ
তৈমুরিয়া
জাহাঙ্গীর
কাওয়াশজি প্যাটেল
নোশা
জালিবাম
বাগান পল্লি
ভারতভোগ
ফজরী কলন
সাবিনা
সেন সেশন
লতা বোম্বাই
আল্লামপুর বানেশান
আর-২ এফ-২
শ্রাবণী
ইমামপছন্দ
জনার্দনপছন্দ
কৃষ্ণভোগ
সারুলী
ইলশে পেটী
কলম বাজি
ইয়াকুতিয়া
গুটী
ভুজাহাজরী
ম্যাটরাজ
সামার বাহিতশত আলীবাগ
গোলাপবাস
জুলী
ভেজপুরী
কালুয়া গোপালভোগ
কলম সুন্দরী
বনারাজ
ম্যাডাম ফ্রান্সিস
মিক্সড স্পেশাল
মোহাম্মদ ওয়ালা
সফেদা মালিহাবাদ
খান বিলাস
জাফরান
মধু মালতী
জিতুভোগ
পলকপুরী
কাকরহিয়া সিকরি
পাথুরিয়া
বোম্বে কলন
কেনসিংটন
কাকরহান
মিছরি দমদম
সামার বাহিশ্ত
মানজানিল্লো নুনেজ
নাজুকবদন
ফারুকভোগ
রুমানি
টারপেন টাইন
কেনসিংটন
কাকরহান
মিছরি দমদম
সামার বাহিশ্ত
মানজানিল্লো নুনেজ
নাজুকবদন
ফারুকভোগ
রুমানি
টারপেন টাইন
কুমড়া জালি
দুধিয়া
মহারাজ পছন্দ
ম্যানিলা
পিয়ারী
জান মাহমুদ
সামার বাহিশত রামপুর
মাডু
লা জবাব মালিহাবাদ
লাইলী আলুপুর
নীলম
মিশ্রীভোগ
পদ্মমধু
বাঙামুড়ী
পুনিত (হাইব্রিড-১৩)
বেলখাস
শ্রীধন
আমান খুর্দ বুলন্দাবাগ
পালমার
কারাবাউ
অ্যামিলী
কোরাকাও ডি বই
নিসার পছন্দ
পাহুতান
বোররন
হিন্দি
সফেদা বাদশাবাগ
র্যাড
আরুমানিস
বাংলা ওয়ালা
মোম্বাসা
রোসা
ক্যাম্বোডিয়ানা
ফজরী জাফরানী
বোম্বাইখুর্দ
এক্সট্রিমা
বদরুল আসমার
শাদওয়ালা
সামার বাহিশত কারানা
এসপাডা
বাশীঁ বোম্বাই
কর্পূরা
হুসনে আরা
সফেদা লখনৌ
শাদউল্লা
আজিজপছন্দ
কর্পূরী ভোগ
জিল
সারোহী
গ্লেন
টমি অ্যাটকিনসন
স্যাম-রু-ডু
মাবরোকা
হিমাউদ্দিন
ফ্লোরিডা
কেইট
ইরউইন
নাওমী
কেন্ট
টাম অ্যাটকিন্স
আলফন্সো
নারিকেল ফাঁকি
জামাই পছন্দ
লক্ষণভোগ
ভাদুরিয়া কালুয়া
চিনি ফজলী
মল্লিকা
সূর্যপুরী
হায়াতী
পাউথান
দুধস্বর
গোলাপ খাস
বেনারসী ল্যাংড়া
পাটনামজাথী
জালিবান্দা
মিছরিদানা
নাক ফজলী
সুবর্ণরেখা
কালা পাহাড়
বারি আম-২
বউ ভুলানী
জমরুদ
অরুনা (হাইব্রিড-১০)
নীলাম্বরী
ফোনিয়া
চৌষা
ডায়াবেটিক আম
সিন্ধু
বোগলা গুটি
রাজভোগ
দুধস্বর ( ছোট )
মোহন ভোগ
হাঁড়িভাঙ্গা
টিক্কা ফরাশ
আম্রপলি (বড়)
হিমসাগর (নাটোর)
মৌচাক
মহানন্দা
তোতাপুরী
বাউ আম-৩
বারি-৩
পুকুর পাড়
কোহিতুর
বিলু পছন্দ
কাগরী
চিনিবাসা
দুধ কুমার
মন্ডা
লাড্ডু
সীতাভোগ
শোভা পছন্দ
গৃঠাদাগী
ছোট আশ্বিনা
ঝুমকা
দুসেহরী
কালী ভোগ
ভবানী চরুষ
আলফাজ বোম্বাই
মধুমনি
মিশ্রীকান্ত
গিড়াদাগী
কুয়া পাহাড়ী
বিড়া
দ্বারভাঙ্গা
বারি আম-৪
আরাজাম
গোবিন্দ ভোগ
কাঁচামিঠা
মতিমন্ডা
পোল্লাদাগী
দাদভোগ
শ্যামলতা
মিশ্রীদাগী
কিষান ভোগ
ভারতী
বারোমাসি
দেওভোগ
বারি-৮
আম্রপলি (ছোট)
সিদ্দিক পছন্দ
লতা
বাদামী
আনারস
জহুরী
রাখাল ভোগ
গুটি মালদা
বারি আম-৬
রগনী
বাউনিলতা
গৌরজিত
বেগম ফুলি
আপুস
ফজরীগোলা
সফেদা
আনোয়ার রাতাউল
বাবুই ঝাঁকি
মনোহারা
রাংগোয়াই
গোল্লা
কাজি পছন্দ
রাঙামুড়ী
বড়বাবু
করল্লা
জালিখাস
কালিয়া
সাটিয়ারকরা
সফদর পছন্দ
ছুঁচামুখী
বারি আম-৫
কাদের পছন্দ
এফটি আইপি বাউ আম-৪
দিল্লির লাড়ুয়া
টিয়াকাটি
এফটি আইপি বাউ আম-৯(শৌখিন চৌফলা)
এফটি আইপি বাউ আম-১(শ্রাবণী-১)
এফটি আইপি বাউ আম-৭(পলি এ্যাম্বব্রায়নী-২)
এফটি আইপি বাউ আম-২ (সিঁন্দুরী)
এফটি আইপি বাউ আম-১০(শৌখিন-২)
এফটি আইপি বাউ আম-৩(ডায়াবেটিক)
এফটিআইপি বাউ আম-৮ (পলিএ্যাম্বব্রায়নী-রাংগুয়াই-৩
এফটি আইপি বাউ আম-১১(কাচা মিঠা-১)
এফটি আইপি বাউ আম-৬(পলিএ্যাম্বব্রায়নী-১)
এফটিআইপি বাউ আম-১২(কাচা মিঠা-২)
এফটি আইপি বাউ আম-১৩(কাঁচামিঠা-৩)
এফটি আইপি বাউ আম-৫(শ্রাবণী-২)

কৃতজ্ঞতা:
আম- মাহবুব সিদ্দীকি
ক্যানভাস, ৭ মে ২০২০
জাতীয় বৃক্ষ আমগাছ -সাব্বির আহমেদ
ভারত বিচিত্রা- জুন ২০১৯
বাংলাদেশ প্রতিদিন-২৭ মে ২০২০
উইকিপিডিয়া
বাংলাপিডিয়া
ছবি: অন্তর্জালে প্রাপ্ত

Close