আন্তর্জাতিককরোনা পরিস্থিতিশিরোনাম

করোনা: বিশ্বে একদিনে মৃত্যু ৫ হাজার, আক্রান্ত পৌনে দুই লাখ

করোনায় বিশ্বে একদিনে মৃত্যু ৫ হাজার, আক্রান্ত পৌনে দুই লাখ
যুক্তরাজ্যে মানবশরীরে করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু
ভয়াবহ সংক্রমণে অক্সিজেন সংকটের শঙ্কা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নভেল করোনাভাইরাস। চীনের উহানে প্রথমে শনাক্ত হওয়া এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশ ও অঞ্চলে। এতে প্রতিনিয়ত মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এখানেও বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

করোনায় বিশ্বে একদিনে মৃত্যু ৫ হাজার, আক্রান্ত পৌনে দুই লাখ

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস করোনার প্রকোপ থামছেই না। প্রতিদিন প্রাণঘাতী ভাইরাসটি কেড়ে নিচ্ছে হাজারো প্রাণ। আক্রান্তের তালিকাও প্রতিদিন লম্বা হচ্ছে। লাখের ওপর মানুষ প্রতিদিন অচেনা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় বিশ্বে মৃতের তালিকায় নাম উঠেছে আরও ৫১৫১ জনের এবং একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৯ জন। করোনাভাইরাস নিয়ে লাইভ আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৯৫৬ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৯৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৮২ জন।

অপরদিকে ৫১ লাখ ৭৫ হাজার ২৪০ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। ডিসেম্বরে চীন থেকে এই মহামারি শুরু হলেও ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাণ্ডব চালিয়েছে করোনাভাইরাস। এখন এর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে রাশিয়া, ব্রাজিল। আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যায় সবার ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ লাখ ৬২ হাজার ৫৫৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার ২৮১ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৯২ হাজার ৪৭৪ জন, মৃত্যু হয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৪ জনের। রাশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৬ হাজার ৮৮১ জন, মৃত্যু হয়েছে ৮৫১৩ জনের। আক্রান্তের দিক দিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত।
সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৮৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৯০৭ জনের। আক্রান্তের দিক দিয়ে পঞ্চম এবং মৃত্যুর দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্রিটেনে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার ৯৬২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৩ হাজার ৮১ জনের। চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নিয়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)।করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেয়া হয়েছে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। অধিকাংশ দেশেই মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে মানুষের চলাফেরার ওপর বিভিন্ন মাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাজ্যে মানবশরীরে করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু

যুক্তরাজ্যে মানবশরীরে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন উদ্ভাবিত এই ভ্যাকসিন স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। খবর বিবিসির

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৩০০ জনের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। এর আগে পশুর শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হলে তা নিরাপদ ও শরীরে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যথেষ্ট কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

করোনাভাইরাসের এই ভ্যাকসিন তৈরিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের প্রফেসর রবিন শ্যাটক ও তার সহকর্মীরা।

ইমপেরিয়াল কলেজের এই ভ্যাকসিন প্রথম প্রয়োগ করা হয় স্বেচ্ছাসেবী ক্যাথির (৩৯) শরীরে। ক্যাথি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে সামিল হতে শরীরে ভ্যাকসিন নিয়েছেন তিনি।

ক্যাথি বলেন, ‘আমি আসলে বুঝতে পেরেছি যে, করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত মানুষের জীবন স্বাভাবিক হবে না। সেই উপলব্ধি থেকেই এই অগ্রসরমূলক কর্মকাণ্ডে (ভ্যাকসিনের ট্রায়াল) অংশ নিয়েছি।’

ইমপেরিয়াল কলেজের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এই পর্বের ট্রায়াল শেষ আগামী অক্টোবরে ৬ হাজার মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

ইমপেরিয়াল টিম আশা করছে, ২০২১ সালের শুরুতে যুক্তরাজ্য ছাড়াও অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোতে এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে সক্ষম হবেন তারা।

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১২০টি করোনা ভ্যাকসিনের ওপর গবেষণা চলছে। ইতোমধ্যে অক্সেফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞরা মানবশরীরে তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছেন।

চীনের বিজ্ঞানীদের তৈরি অন্তত ছয়টি সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। শনিবার চাইনিজ একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল বায়োলজি (আইএমবিসিএএমএস) তাদের তৈরি একটি ভ্যাকসিন দ্বিতীয় দফায় মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। আইএমবিসিএএমএসের এই ভ্যাকসিনটি চীনের তৈরি ছয়টি ভ্যাকসিনের একটি।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। প্রথম দিকে ইউরোপ এবং আমেরিকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালালেও বর্তমানে এশিয়া, উত্তর আমেরিকা এবং আফ্রিকা হয়ে উঠছে ভাইরাসটির উপকেন্দ্র। অতীতে সংক্রমণের দৈনিক সব রেকর্ড ভেঙে প্রত্যেক দিন নতুন রেকর্ড গড়ছে।

ভয়াবহ সংক্রমণে অক্সিজেন সংকটের শঙ্কা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

প্রায় ছয় মাস ধরে বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। ইতোমধ্যেই এতে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে, প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আরেক আশঙ্কার কথা জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)- অনেক দেশই এখন গুরুতর করোনা রোগীদের চিকিৎসায় অক্সিজেন সহায়তা দিতে পারছে না।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও প্রধান তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, অনেক দেশই এখন অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর সংকটে ভুগছে। এই মুহূর্তে সরবরাহের চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি।

তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহেই নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে অন্তত ১০ লাখ মানুষ। এতে দৈনিক বড় সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার, অর্থাৎ ৬ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার অক্সিজেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক জানান, তারা ইতোমধ্যেই ১৪ হাজার অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর কিনেছেন, যা আগামী সপ্তাহেই ১২০টি দেশে পাঠানো হবে। এছাড়া, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে আরও ১ লাখ ৭০ হাজার কনসেন্ট্রেটর সরবরাহ করা হবে।

এদিকে, জাতিসংঘের অধীন স্বাস্থ্য সংস্থাটির এমারজেন্সিজ প্রোগ্রামের প্রধান ডা. মাইক রায়ান জানিয়েছেন, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়ানোর পরেও সেখানে সংক্রমণ বাড়ছে এবং সেটি এখনও শিখরে (পিক) পৌঁছায়নি। অনেক দেশেই গত কয়েক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

করোনা মহামারি প্রতিরোধে আগে থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংস্থাটি থেকে সরে গিয়ে বর্তমান কমিটির কার্যক্রমের জরুরি পর্যালোচনা দাবি করেছেন।

বরেন্দ্র বার্তা/অপস

সুত্র: ঢাকা টাইমস, জাগো নিউজ

Close