অর্থ ও বাণিজ্যপবামহানগরশিরোনাম

রাজশাহী সিটি হাটে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার ব্যক্তি। আর মারা গেছেন ৭২ জন। আজ রোববার (২৮ জুন) সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার পর্যন্ত বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৯৯০ জন। এর মধ্যে শনিবারই নতুন ১৫৮ জন শনাক্ত হয়েছে। এ দিন নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় একজন করে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

গোটা বিভাগজুড়ে এ পর্যন্ত ৭২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে করোনাভাইরাসে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৮ জন মারা গেছেন বগুড়ায়। এছাড়া রাজশাহীতে ৭, নওগাঁয় ৫, নাটোরে ১, সিরাজগঞ্জে ৩ এবং পাবনায় ৮ জন মারা গেছেন। শনিবার নতুন শনাক্ত ১৫৮ করোনা রোগীর মধ্যে ৪৪ জন বগুড়ার বাসিন্দা। এ দিন শুধু জয়পুরহাটে নতুন রোগী শনাক্ত হয়নি। রাজশাহীতে ৩৯, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫, নাটোরে ৩, নওগাঁয় ৫৭, সিরাজগঞ্জে ৮ এবং পাবনায় ২ জনের শরীরে নতুন করে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আর রাজশাহীতে এ পর্যন্ত ৫১৩ জন শনাক্ত হয়েছেন।

এ বাস্তবতা নিয়ে যখন গোটা নগরবাসী উৎকণ্ঠায় দিনাদিপাত করছে, তখন নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে সিটি হাটে কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে পশু। তবে আজ বেলা ১১টার দিকে হাটে গেলে ইজারাদার, পুলিশ ও ইজাদারের লোকজনদের গরু বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আহবান জানাতে দেখা যায়। সেইসাাথে পুলিশকে মাইকিং করতে দেখা যায়। এছাড়াও যাদের মাস্ক নেই তাদের মাস্ক কিনে হাটে প্রবেশ করতে বাধ্য করছেন তারা।
কিন্তু এতো গেল প্রধান ফটকের কথা। কথায় আছে উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট। হাটের ভিতরে কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মানছে না ক্রেতা বিক্রেতারা। প্রবেশ পথে মাস্ক পড়লেও বেশীরভাগ মানুষ ভিতরের যেয়ে মাস্ক খুলে ফেলছে। এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তার নেই কোন বালাই। এক অপরের সাথে গা ঘেষে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এই সব ছবি তুলতে গেলে ইজারাদারের লোকজন বার বার বাধা প্রদান করেন এবং মূল হাটের মধ্যে প্রবেশ করতে দেন না। পরে অন্যভাবে কিছু ছবি উত্তোলন করে সেখান থেকে চলে আসতে বাধ্য হই।
স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালুর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাট ইজাদারদের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারী রাখা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে হাটে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছেনা। এছাড়াও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য হাটের মধ্যে তাদের শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। তারা এনিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি। সেইসাথে হাটের প্রধান গেটের সামনে রাখা হয়েছে হাত ধোয়ার জন্য পানি ও সাবান।

হাটে দেশী গরু ছাড়া বিদেশী গরু নাই বললেই চলে। সমস্ত হাট দেশী পশুর দখলে। তবে বেচা কেনা খুব কম। এর কারন জানতে চাইলে গরু বিক্রেতা আব্দুস সাত্তার, কফিল উদ্দিন, কামাল হোসেন, ইখলাস ও রবিসহ আরো অনেকে বলেন, বাহিরে থেকে ক্রেতা না আসায় তারা গরু বিক্রি করতে পারছেনা। করোনার কারনে এমন অবস্থা হয়েছে বলে জানান তারা। সামাজিক দুরত্ব ও মাস্ক ব্যবহার সম্পর্কে তারা বলেন, হাটে কোনভাবেই সামজিক দুরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। তবে মাস্ক ব্যবহার করা যায়। কিন্তু গরমের কারনে বেশীক্ষণ মাস্ক মুখে রাখতে পারছে না বলে জানান তারা।
বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close