চারঘাটশিরোনাম-২স্বাস্থ্য বার্তা

চারঘাটে ওষুধের কৃত্রিম সংকট, দোকানীরাও হাতিয়ে নিচ্ছেন অধিক দাম

 

মো: সজিব ইসলাম,চারঘাট: করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধির পর যেসব সাধারণ ওষুধ মিলতো সব ফার্মেসিতেই, হঠাৎ করে সেসব ওষুধ রাজশাহীর চারঘাট থেকে যেনো উধাও হয়ে গেছে। ওষুধ পাওয়া গেলেও নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত দাম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়ানো হয়েছে ডেলটার স্ক্যাবো, বেক্সিমকোর নাপা, স্কয়ারের ফেক্সো, জিমেক্স, সিভিট ট্যাবলেটের দাম। এই তালিকায় আছে অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন জাতীয় ওষুধসহ জীবাণুনাশক সামগ্রীও।

ফার্মেসি মালিকরা জানান, করোনা আতঙ্ক শুরুর পর থেকে প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিম্যালেরিয়াল, ভিটামিন সি ট্যাবলেট, অ্যাজিথ্রোমাইসিন জাতীয় ওষুধ ও জীবানুনাশকের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ওইসব ওষুধ এবং কিছু ব্যান্ডের কোম্পানীর জীবানুনাশকের সংকট দেখা দিয়েছে।

করোনা ভাইরাসজনিত রোগের (কোভিড-১৯) এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো ওষুধ না থাকলেও অনেক চিকিৎসক ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ট্যাবলেট ইভারমেকটিন (৬ মিলিগ্রাম) রোগীর ওজন ৬০ কেজির নিচে হলে ২টি একসঙ্গে খালি পেটে খেতে হবে। আর ওজন ৬০ কেজির ওপরে হলে ৩টি ট্যাবলেট একসঙ্গে ১ বার খেতে হবে। এই ট্যাবলেট বাজারে স্ক্যাবো, ইভরা, প্যারাকিল ইত্যাদি নামেও পাওয়া যায়। ওজন ৪০ কেজির ওপরে হলে ট্যাবলেট ফ্যাভিপিরাভির (২০০ মিলিগ্রাম) সকালে ৮টি ও রাতে ৮টি ১ম দিন, পরবর্তীতে সকালে ৩টি ও রাতে ৩টি করে ৭-৯ দিন খেতে হবে। এই ট্যাবলেট বাজারে অ্যাকারভিয়া, ফ্যাভিপিরা, অ্যাভিগান ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়। ম্যালেরিয়ার ওষুধ ট্যাবলেট হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন বাজারে পাওয়া যায় রিকোনিল সহ বিভিন্ন নামে। ফেসবুকে এই প্রেসক্রিপশন পেয়ে করোনার উপসর্গ থাকা অনেকে ওষুধ সংগ্রহ করছেন।

চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ফোকাল পারসন ডাঃ আতিকুল হক বলেন, করোনার চিকিৎসা একটি গাইডলাইন অনুসারে চলে। কিন্তু অনেকে স্ক্যাবো ট্যাবলেট ও ডক্সিসাইক্লিন ক্যাপসুলসহ নানান ওষুধ ফার্মেসি থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব ওষুধ করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় কার্যকর বলে এখনও প্রমাণিত হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোনো নির্দেশনা না থাকায় আমরা করোনা চিকিৎসায় এসকল ওষুধগুলো খেতে পরামর্শ দিইনা।

এদিকে এই সুযোগে ওষুধের দোকানীরাও হাতিয়ে নিচ্ছেন অধিক দাম। এ ব্যাপারে চারঘাটে কর্মরত এনজিও কর্মী সাজ্জাদ হোসেন জানান, এক পাতা স্ক্যাবো ট্যাবলেট (৬ মিলিগ্রাম) এর দাম ছিল ৫০ টাকা। এখন সেই ওষুধের দাম নেওয়া হচ্ছে সাড়ে ১শ থেকে ২শ টাকা।

আরো কিছু ক্রেতা জানান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, বুকে ব্যথা, চর্বি নিয়ন্ত্রণ, শরীরের বাড়তি পানি কমানোর জন্য ব্যবহার করা ওষুধ অ্যাসপ্রিন, ডিলটিয়াজেম, গ্লিক্লাজাইড, গ্লিবেনক্লামাইড, আইসোসরবিড, লিসোনোপ্রিল, নাইট্রোগ্লিসারিন, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, রেমিপ্রিল, ফেনোফিব্রেট ক্যাপসুলের দাম আগের তুলনায় বেশি রাখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ওষুধ বিক্রেতা জানান, চারঘাট মেডিকেল গেটের কিছু ফার্মেসিতে এসব ওষুধের গলাকাটা দাম নেওয়া হচ্ছে। প্রচারমাধ্যমে করোনা ঠেকাতে ভিটামিন সি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পর সিভিট ট্যাবলেটও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফ্যামিলি সাইজ ১ হাজার এমএল স্যাভলন ২২০ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছে ৪শ-৫শ টাকা। চলছে নিম্নমানের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বেচাকেনা। ফার্মেসিতে ওষুধ কেনার পর বিক্রয় রশিদও দেওয়া হচ্ছে না।

উপজেলায় ওষুধের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিষয়ে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আশিকুর রহমান জানান,
করোনা বিপর্যয়ের সময়ে সাধারন মানুষের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেসকল ওষুধ দোকানীরা নির্দিষ্ট দামের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close