পবাশিরোনাম

পবায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দর্শনপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানে বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজশাহী পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান রাজের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০ লক্ষ টাকা ও একটি ফ্ল্যাট লিখে দেয়ার কথা বলে ১৪ বছর ধরে এক নারীকে ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান কামরুল হাসান রাজ পবা দর্শনপাড়া ইউনিয়নের তিশলাই গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াসিন আলীর ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ(আরএমপি) কর্নহার থানায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ রুমানা খাতুন (৩০) বিচার চেয়ে একটি লিখিতি অভিযোগ করেন।
এর আগেও এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান রাজের বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়ার নামে মায়েদের কুপ্রস্তাব দেয়াসহ মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রস্তুতে অনিয়ম ও বৈষম্যকরণের অভিযোগ উঠেছিলো। শুধু এমনই নয় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ত্রাণ না পেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান ইউনিয়নের দর্শনপাড়ার তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বোরহানুল ইসলাম মিলন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মিলে পিটিয়ে তাকেসহ তার ভাই বাবু মুন্নাকেও পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এই ক্ষমতাধর চেয়ারম্যান রাজ।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী গৃহবধূ রুমানা খাতুনের ভাষ্য মতে, মঙ্গলবার দুপুরে রুমানা খাতুন তার ভালোবাসার স্বীকৃতি পাবার জন্য পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান রাজের নিকট যান। চেয়ারম্যান রাজ বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং অপকর্মগুলো সকলেই জেনে যাবে, সে কারনে নিজেকে আড়াল করতে গ্রাম পুলিশ দিয়ে রুমানাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘাঁড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এ সময় ভুক্তভোগী গৃহবধূ রুমানা খাতুন ভালোবাসার স্বীকৃতি পাবার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সামনে কান্নাকাটি করা শুরু করে।
পরে চেয়ারম্যান কামরুল হাসান রাজ কর্নহার থানায় ফোন করলে পুলিশ তাকে তার ভালোবাসার স্বীকৃতি পাইয়ে দেবে মর্মে কর্নহার থানায় নিয়ে যান। পরে একটি লিখিত অভিযোগ করলেও সেই অভিযোগটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেই রয়ে যায় বলে জানান ভুক্তভোগী গৃহবধূ রুমানা খাতুন। এদিকে এই তথ্য নিতে ওসির সাথে কথা বলতে গেলে প্রতিবেদক বাবলুকেও আধাঘন্টা নিচে বসিয়ে রাখে। পরে তার সাথে সাক্ষাত করে এবং চেয়ারম্যান রাজের পক্ষে তিনি কথা বলেন।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ রুমানা খাতুন আরো বলেন, ২০০৫ সাল থেকে একটি স্কুলে চেয়ারম্যান রাজের সাথে আমার সর্ম্পক হয়। তিনি নিজেকে অবিবাহিত বলে আমাকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেন, আমি তার কথায় বিশ্বাস করে তার ভালোবাসার প্রস্তাবে রাজি হই। এই ভালোবাসাকে পুঁজি করে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, তার বন্ধু বান্ধবীর বাসা ও লক্ষীপুরের পপুলার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পাশে আবস্থিত তার তিনতলা বাসায় নিয়ে গিয়ে একাধিকবার আমাকে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য করেন রাজ।
এর পর থেকে আমি তাকে বিয়ের কথা বললে তিনি পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে পরে বিয়ে করবে বলে আশস্ত করেন। আমি তার কথায় সরল বিশ্বাসে অপেক্ষা করি। এক পর্যায়ে তিনি আমাকে আমার পরিবারের সাথে কথা বলে বারইহাটি গ্রামের আনারুল ইসলামের সাথে বিয়ে দিয়ে দেন। আমি সকল কিছু মেনে নিয়ে স্বামীর সংসার করতে থাকি। তাতেও ক্ষান্ত হয়নি নারী লোভী চেয়ারম্যান রাজ। রুমানা বলেন, তোমার সাথে পূর্বের শারিরীক মিলামেশার কিছু ভিডিও রয়ে গেছে সেগুলো আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে দেবো বলে আমাকে হুমকী দেন। আমি ভয়ে তার কথায় রাজি হই।
এর ফলে তিনি আমাকে আশ্বাস দেন বাড়ী করে দেবেন। ব্যাংক একাউন্টে টাকা দেবেন এ বলে তিনি প্রতি মাসে আমাকে ৫-৭ হাজার টাকা দিতেন আমার বিকাশ নম্বরে। গত ২০২০ সালের জানুযারি মাস থেকে আমাকে কোন খরচ দেন না এবং আমার ফোনে কথা বলে কিন্তু কাছে আসে না বলে জানান তিনি। এমন অবস্থায় আমি প্রাণ শংসয়ে ভুগছি। রাজ আমাকে পুলিশী বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলের ভাত খাওয়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। আর এই অবৈধ সর্ম্পকের কথা কাউকে অত্যন্ত খারাপ হবে বলে হুমকী দেন চেয়ারম্যান রাজ।
গৃহবধূর ভাই হাবিব জানান, আমার বোনের সাথে চেয়ারম্যান রাজের পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়ে চেয়ারম্যানের স্ত্রী সিমা ও তার মাকে জানানো হয়েছে এবং তারাও দীর্ঘ দিন ধরে অবগত আছেন। এ নিয়ে আমার বোনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
এদিকে চেয়ারম্যান কামরুল হাসান এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে কয়েকবার ফোন রিসিভ না করে পরে ফোন বন্ধ করে দেয় তিনি। এ কারনে তার নিকট থেকে কোর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন সাংবাদিকদের বলেন, গৃহবধূ রুমানা খাতুন (৩০) বাদী হয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close